বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আইএলও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে সরকার। রোববার সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর সঙ্গে বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় ধরে চলমান এই অভিযোগ দ্রুত শেষ হওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের (আইটিইউসি) অন্তর্ভুক্ত কয়েকজন শ্রমিক প্রতিনিধি আইএলওর ২৬ ধারার আওতায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগে ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা, শ্রমিকনেতাদের হয়রানি, সংগঠন পরিচালনায় বাধা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে ঘাটতির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর থেকেই আইএলও বিভিন্ন পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছে।
বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে সরকার শ্রম খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেছে। বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন, শ্রম বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ, ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালু, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি এবং ত্রিপক্ষীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে আইএলওর ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। বর্তমান সরকার নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আইএলও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা উচিত বলেও তিনি আইএলও মহাপরিচালকের কাছে অনুরোধ জানান।
বৈঠকে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শ্রম সংস্কারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ইপিজেডসহ সব কর্মক্ষেত্রে সংগঠনের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক শ্রমমান রক্ষা, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে আইএলও বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আগামী অক্টোবরে যৌথ মিশনের মাধ্যমে নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা আরও জোরদার করার কথাও জানান তিনি।
তবে বৈঠকের পর প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আইএলও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট আশ্বাসের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও আইএলওর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই অভিযোগের ইতিবাচক সমাধান হতে পারে।
























