বিশ্বকাপ ফাইনাল কনসার্ট ঘিরে আজ উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজধানী ঢাকা। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য শুধু বড় পর্দায় খেলা দেখার সুযোগই নয়, থাকছে সংগীত, ডিজে পারফরম্যান্স, নৃত্য, আলোকসজ্জা এবং নানা ধরনের বিনোদনের আয়োজন। বিশ্বকাপ ফাইনালকে স্মরণীয় করে তুলতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও বিনোদন সংগঠন একসঙ্গে নানা আয়োজন করেছে। ফলে যারা ঘরে বসে ম্যাচ দেখতে চান না, তারা বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ফাইনালের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল কনসার্ট রাজধানীর সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিনোদন আয়োজন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ফাইনাল কিকঅফ’, যেখানে সন্ধ্যা থেকেই দর্শকদের জন্য প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে। ম্যাচ শুরুর আগে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান, রক শিল্পী ফিরোজ জং, ডিজে রিয়ন, ডিজে সাদমান, মিঠুন দাসসহ আরও কয়েকজন শিল্পী মঞ্চে পরিবেশনা করবেন। পাশাপাশি থাকবে নৃত্যশিল্পীদের বিশেষ পরিবেশনা এবং দর্শকদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। সবশেষে বিশাল এলইডি পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। আয়োজকদের মতে, ফুটবল আর সংগীত—দুই ধরনের বিনোদন একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগই এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ। এখানে প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০০ টাকা।
অন্যদিকে ব্ল্যাক এক্স ফোর্স আয়োজন করেছে ‘দ্য ফাইনাল হুইসেল’। এখানে খেলা শুরুর আগে এবং ম্যাচ শেষে থাকবে দীর্ঘ সময়ের কনসার্ট। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মিলা দর্শকদের মাতিয়ে তুলবেন তাঁর জনপ্রিয় গান দিয়ে। এছাড়া ব্যান্ড দ্য ব্রাউন বিটস, জেসিয়া ইসলামসহ আরও কয়েকজন শিল্পীর পরিবেশনা থাকবে গভীর রাত পর্যন্ত। দর্শকদের জন্য বিশেষ ফটোবুথ, ফ্যান জোন, ফুটবলভিত্তিক গেমস এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতারও আয়োজন রাখা হয়েছে। আয়োজকদের বিশ্বাস, শুধু খেলা নয়, পুরো অনুষ্ঠানটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন উৎসবে পরিণত হবে। যারা বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটি উৎসবের আবহে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য।
বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে মিরপুর-১-এর এমআইএসটি টাওয়ার মাঠেও থাকছে বড় আয়োজন। রাত সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হবে অনুষ্ঠান। ডিজে সারান ও ডিজে ওয়াহিদের পরিবেশনায় জমে উঠবে মঞ্চ। এরপর থাকবে আলোকসজ্জা, আতশবাজি এবং নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রম। রাত ১টায় বিশাল পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বিশ্বকাপ ফাইনাল। দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে মুখে প্রিয় দলের পতাকার রঙ আঁকার ব্যবস্থা, ফটো কর্নার এবং বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম। একই সময়ে বনানীর ফ্যান ফেস্ট ২.০-এর সমাপনী দিনেও থাকছে বিশেষ আয়োজন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী ও ডিজে সঞ্জয় দেব পারফর্ম করবেন। তাঁর পরিবেশনার পরই শুরু হবে বহু প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচের লাইভ স্ক্রিনিং।
রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, উন্মুক্ত মাঠ, ক্লাব এবং অভিজাত হোটেলেও বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, হাজী মুহম্মদ মহসীন হল, জগন্নাথ হল, মিরপুর সিটি ক্লাব মাঠ, ডিওএইচএস সেন্ট্রাল ফিল্ড, কামাল আতাতুর্ক পার্ক, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও পশ্চিম রামপুরাসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটবলপ্রেমীরা একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, হোটেল আমারি, লে মেরিডিয়ান, ক্রাউন প্লাজা এবং লেকশোর গ্র্যান্ডের মতো পাঁচতারকা হোটেলেও রয়েছে বিশেষ লাইভ স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন। ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জের চাঁদ মহল সিনেমা হল, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস এবং বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সেও বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখানো হবে। আয়োজকদের দাবি, দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে অনেক স্থানের টিকিট আগেই শেষ হয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল কনসার্ট শুধু একটি ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে নয়, বরং রাজধানীবাসীর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উৎসবে রূপ নিয়েছে। খেলার উত্তেজনার পাশাপাশি সংগীত, আলোকসজ্জা, ডিজে পারফরম্যান্স, বিনোদন এবং বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ এই আয়োজনকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। যারা ঘরে বসে ম্যাচ দেখতে চান না, তাদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন ভেন্যু হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। আয়োজকদের আশা, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে হাজারো ফুটবলপ্রেমী একসঙ্গে বিশ্বকাপ ফাইনালের রোমাঞ্চ উপভোগ করবেন। খেলা শেষ হলেও এই রাতের স্মৃতি দীর্ঘদিন দর্শকদের মনে রয়ে যাবে। ফুটবল, সংগীত আর উৎসবের এমন সমন্বয় রাজধানীতে খুব কমই দেখা যায়, তাই এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালের রাতকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

























