ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী বৃদ্ধ নিহত

'ছবি: সংগৃহীত'

উত্তরার আজমপুর এলাকায় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. ফজলুল করিম (৮৫) নামে এক পথচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্যস্ত আজমপুর ফুটওভার ব্রিজের অদূরে রাস্তা পারাপারের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ফজলুল করিম রাস্তা পার হচ্ছিলেন সতর্কভাবে। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা বেপরোয়া গতিতে এসে তাকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন, এবং আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দুপুর ১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।

ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় গুরুতর আঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

নিহতের স্ত্রী রায়হানা বিলকিস করিম জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যরা জানতেন না তিনি কোথায় যাচ্ছেন। পরে তারা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তিনি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন—এ সংবাদ পরিবারের জন্য ভয়াবহ আঘাত হয়ে আসে।

ফজলুল করিম উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি এলাকায় শান্ত ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও রাজধানীর সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় দ্রুতগতির যানবাহন, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল এবং পথচারীদের অসতর্কতা মিলিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। আজমপুরের মতো ব্যস্ত এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও অনেক পথচারী নিচ দিয়ে রাস্তা পার হন, যা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে।

ট্রাফিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুতগতির বাইক, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পথচারীদের সচেতনতার অভাবও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, আজমপুর এলাকায় নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং স্পিড কন্ট্রোল ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা বারবার ঘটতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, এই দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং নগর জীবনের সড়ক নিরাপত্তার বড় সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। একটি মুহূর্তের অসতর্কতা কেড়ে নিয়েছে একজন বৃদ্ধ মানুষের জীবন এবং তার পরিবারের জন্য তৈরি করেছে অপূরণীয় শূন্যতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী বৃদ্ধ নিহত

Update Time : ০৩:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

উত্তরার আজমপুর এলাকায় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. ফজলুল করিম (৮৫) নামে এক পথচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ব্যস্ত আজমপুর ফুটওভার ব্রিজের অদূরে রাস্তা পারাপারের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ফজলুল করিম রাস্তা পার হচ্ছিলেন সতর্কভাবে। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বা বেপরোয়া গতিতে এসে তাকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন, এবং আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দুপুর ১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন  কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু চেনার ৬টি সহজ উপায়

ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় গুরুতর আঘাত এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

নিহতের স্ত্রী রায়হানা বিলকিস করিম জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যরা জানতেন না তিনি কোথায় যাচ্ছেন। পরে তারা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তিনি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন—এ সংবাদ পরিবারের জন্য ভয়াবহ আঘাত হয়ে আসে।

ফজলুল করিম উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি এলাকায় শান্ত ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও রাজধানীর সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় দ্রুতগতির যানবাহন, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল এবং পথচারীদের অসতর্কতা মিলিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। আজমপুরের মতো ব্যস্ত এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও অনেক পথচারী নিচ দিয়ে রাস্তা পার হন, যা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে।

ট্রাফিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুতগতির বাইক, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পথচারীদের সচেতনতার অভাবও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, আজমপুর এলাকায় নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং স্পিড কন্ট্রোল ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। না হলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা বারবার ঘটতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, এই দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়, বরং নগর জীবনের সড়ক নিরাপত্তার বড় সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। একটি মুহূর্তের অসতর্কতা কেড়ে নিয়েছে একজন বৃদ্ধ মানুষের জীবন এবং তার পরিবারের জন্য তৈরি করেছে অপূরণীয় শূন্যতা।