ঢাকা ০৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফার্নেস তেলের দাম কমল, বিদ্যুৎ উৎপাদনে মিলবে স্বস্তি

বিদ্যুৎ উৎপাদনে কমল ফার্নেস তেলের দাম

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম প্রতি লিটারে ৪ টাকা ৪৪ পয়সা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হচ্ছে, যা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানিকৃত ফার্নেস তেলের মূল্য এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের বিশেষ সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।

বিইআরসি জানিয়েছে, ১৩ মে থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সময়ে আমদানিকৃত ফার্নেস তেলের গড় মূল্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারেও যে পরিবর্তন এসেছে, তা বিবেচনায় রেখে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে ফার্নেস তেল একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। দেশের বেশ কয়েকটি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে এর মূল্য কমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফার্নেস তেলের দাম কমানোয় সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কিছুটা হ্রাস পাবে। যদিও বিদ্যুতের খুচরা মূল্যে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তবুও দীর্ঘমেয়াদে এটি আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

গত মাসেই ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। সেই মূল্যবৃদ্ধির ফলে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। নতুন মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই চাপ কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত জ্বালানির আমদানি ব্যয় পরিবর্তিত হলে তার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে।

বিইআরসি বলছে, বাজারভিত্তিক মূল্য সমন্বয়ের নীতির অংশ হিসেবেই নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের মূল্য কাঠামোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা সম্ভব হয়।

এর আগে ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হাতে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে সেই ক্ষমতা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো বিইআরসি ফার্নেস তেলের মূল্য ঘোষণা করে। এরপর বিভিন্ন সময় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এবার চতুর্থবারের মতো মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত সামঞ্জস্য আনার সুযোগও তৈরি হয়।

বর্তমানে বিপিসির অধীন চারটি সরকারি তেল বিপণন কোম্পানি ফার্নেস তেল বাজারজাত করছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল কোম্পানি এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি।

নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এসব কোম্পানি নির্ধারিত দামে ফার্নেস তেল বিক্রি করবে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি এর সুবিধা পাবে।

ফার্নেস তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। দেশের বিভিন্ন তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য নিয়মিত বিপুল পরিমাণ ফার্নেস তেল ক্রয় করে সংস্থাটি।

পিডিবির ব্যয় কাঠামোর একটি বড় অংশ জ্বালানি খরচের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই জ্বালানি তেলের মূল্য কমলে তাদের আর্থিক চাপও কিছুটা হ্রাস পায়। এতে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকার সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২ আগস্ট নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ফার্নেস তেলের মূল্য নির্ধারণ করেছিল। এরপর মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিইআরসিকে।

বিপিসি গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিইআরসির কাছে নতুন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব জমা দেয়। পরবর্তীতে চারটি তেল বিপণন কোম্পানিও তাদের নিজস্ব প্রস্তাব কমিশনের কাছে পাঠায়।

মূল্য নির্ধারণের আগে বিইআরসি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। প্রস্তাব যাচাই, বাজার বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত গ্রহণের জন্য গণশুনানির আয়োজন করা হয়।

গত ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিভিন্ন অংশীজন তাদের মতামত তুলে ধরেন। সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা, ডলারের সংকট এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন কৌশল গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় নিয়মিত মূল্য সমন্বয় নীতি সরকারকে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে জ্বালানি খাতকে খাপ খাওয়ানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

ফার্নেস তেলের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে না, তবে বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক ব্যয় কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আগামী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং ডলারের বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করবে ফার্নেস তেলের পরবর্তী মূল্য। বিইআরসি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও নিয়মিত মূল্য পর্যালোচনা ও সমন্বয় করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফার্নেস তেলের দাম কমল, বিদ্যুৎ উৎপাদনে মিলবে স্বস্তি

Update Time : ০৮:১৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম প্রতি লিটারে ৪ টাকা ৪৪ পয়সা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে কমে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হচ্ছে, যা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানিকৃত ফার্নেস তেলের মূল্য এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের বিশেষ সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।

বিইআরসি জানিয়েছে, ১৩ মে থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সময়ে আমদানিকৃত ফার্নেস তেলের গড় মূল্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারেও যে পরিবর্তন এসেছে, তা বিবেচনায় রেখে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে ফার্নেস তেল একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। দেশের বেশ কয়েকটি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে এর মূল্য কমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফার্নেস তেলের দাম কমানোয় সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কিছুটা হ্রাস পাবে। যদিও বিদ্যুতের খুচরা মূল্যে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, তবুও দীর্ঘমেয়াদে এটি আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

আরও পড়ুন  সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ৮ শ্রমিক নিহত , সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ

গত মাসেই ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ১৮ টাকা ৮৫ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। সেই মূল্যবৃদ্ধির ফলে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। নতুন মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই চাপ কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত জ্বালানির আমদানি ব্যয় পরিবর্তিত হলে তার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে।

বিইআরসি বলছে, বাজারভিত্তিক মূল্য সমন্বয়ের নীতির অংশ হিসেবেই নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের মূল্য কাঠামোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা সম্ভব হয়।

এর আগে ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হাতে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে সেই ক্ষমতা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো বিইআরসি ফার্নেস তেলের মূল্য ঘোষণা করে। এরপর বিভিন্ন সময় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এবার চতুর্থবারের মতো মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া পরিচালিত হলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত সামঞ্জস্য আনার সুযোগও তৈরি হয়।

আরও পড়ুন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

বর্তমানে বিপিসির অধীন চারটি সরকারি তেল বিপণন কোম্পানি ফার্নেস তেল বাজারজাত করছে। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল কোম্পানি এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি।

নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এসব কোম্পানি নির্ধারিত দামে ফার্নেস তেল বিক্রি করবে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি এর সুবিধা পাবে।

ফার্নেস তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। দেশের বিভিন্ন তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য নিয়মিত বিপুল পরিমাণ ফার্নেস তেল ক্রয় করে সংস্থাটি।

পিডিবির ব্যয় কাঠামোর একটি বড় অংশ জ্বালানি খরচের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই জ্বালানি তেলের মূল্য কমলে তাদের আর্থিক চাপও কিছুটা হ্রাস পায়। এতে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকার সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২ আগস্ট নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ফার্নেস তেলের মূল্য নির্ধারণ করেছিল। এরপর মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিইআরসিকে।

বিপিসি গত বছরের ২০ জানুয়ারি বিইআরসির কাছে নতুন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব জমা দেয়। পরবর্তীতে চারটি তেল বিপণন কোম্পানিও তাদের নিজস্ব প্রস্তাব কমিশনের কাছে পাঠায়।

আরও পড়ুন  স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য: বাংলাদেশে ৪ জনে ১ জন নারীর স্বামী ১০ বছরের বেশি বড়

মূল্য নির্ধারণের আগে বিইআরসি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। প্রস্তাব যাচাই, বাজার বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত গ্রহণের জন্য গণশুনানির আয়োজন করা হয়।

গত ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বিভিন্ন অংশীজন তাদের মতামত তুলে ধরেন। সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা, ডলারের সংকট এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন কৌশল গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় নিয়মিত মূল্য সমন্বয় নীতি সরকারকে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে জ্বালানি খাতকে খাপ খাওয়ানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

ফার্নেস তেলের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে না, তবে বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক ব্যয় কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আগামী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং ডলারের বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করবে ফার্নেস তেলের পরবর্তী মূল্য। বিইআরসি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও নিয়মিত মূল্য পর্যালোচনা ও সমন্বয় করা হবে।