আমির হামজা জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যের কারণে মঙ্গলবার বেশ আলোচনায় উঠে এসেছেন। সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ বিল নিয়ে আলোচনার সময় তিনি ভুলবশত ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেলেন। পরে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণের পর তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে বক্তব্য সংশোধন করেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৯তম কার্যদিবসের শেষ ভাগে এ ঘটনা ঘটে। সংসদে বিলটির ওপর আলোচনা চলাকালে বক্তব্য দিচ্ছিলেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ভুল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালে সংসদ কক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নজরে আসে।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি বিল। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর কোনো কারণ নেই। স্পিকারের এই মন্তব্যের পর আমির হামজা সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য চালিয়ে যান।
পরে নিজের বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, তিনি ভুলবশত অন্য মন্ত্রীর নাম উচ্চারণ করলেও ধন্যবাদটি ছিল আন্তরিকভাবেই দেওয়া। তার ভাষায়, তিনি ‘মন থেকে’ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই মন্তব্যের পর সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যেও হালকা হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়। তবে পুরো ঘটনাটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই শেষ হয়।
এদিকে একই অধিবেশনে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ বিলটি কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। সংশোধিত এই আইনের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ দমন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিদ্যমান কিছু বিধান আরও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিলটি নিয়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন মতামতও উঠে আসে।
সংসদীয় কার্যক্রমে অনেক সময় দীর্ঘ আলোচনার মধ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুল উচ্চারণ বা ভুলবশত নাম উল্লেখের ঘটনা নতুন নয়। তবে আমির হামজার এই ঘটনাটি স্পিকারের তাৎক্ষণিক সংশোধন এবং তার ‘মন থেকে’ ধন্যবাদ জানানোর মন্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনেকেই এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে হালকা রসিকতাও করছেন।
সংসদে আইন প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোন বিল কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসেছে, তা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা প্রয়োজন বলে সংসদ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এই ঘটনাও সেই বিষয়টির গুরুত্ব নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।




























