ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ফটিকছড়িতে জমি চাষ দেখতে গিয়ে বাবার ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo কাশ্মীরি খুবানি চিকেন ঘরেই বানান রাজকীয় স্বাদের এই পদ Logo বৃষ্টির দিনে ঘুম বেশি পাওয়ার পেছনে রয়েছে যে ৫ কারণ Logo জাপানিদের ত্বকের যত্নে জনপ্রিয় এই সুলভ উপকরণটি চিনে নিন Logo সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বেতন: বাড়ছে ৬৪ শতাংশ Logo আ স ম ফিরোজ: নতুন দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ Logo থাইল্যান্ডের এআইটি পরিদর্শনে মাভাবিপ্রবি উপাচার্য, গবেষণায় যৌথ কাজের পরিকল্পনা Logo সাহাদুল হকের মৃত্যু: চার বছর আগের হলফনামায় কী ছিল Logo কাঁঠালের দাম: মৌসুম শেষে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা Logo কানাডায় গায়কের গাড়ি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি!

জরুরি পদত্যাগপত্র: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন পদত্যাগ করলেন?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৪৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫৩

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর আলোচনায় বঙ্গভবন। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও এবার সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হলো।

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বজায় রেখে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় কাজ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চিঠিতে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আওতায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে। নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং সংসদে সরকার ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

তবে পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। অতীতে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সম্প্রতি Autonomic Neuropathy রোগ শনাক্ত হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে তিনি অল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। এসব জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এখন সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সেই দিকেই সবার নজর থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফটিকছড়িতে জমি চাষ দেখতে গিয়ে বাবার ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

জরুরি পদত্যাগপত্র: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন পদত্যাগ করলেন?

Update Time : ০৯:৪৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও এবার সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হলো।

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বজায় রেখে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় কাজ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও সফর, থাকছে যেসব কর্মসূচি

চিঠিতে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আওতায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে। নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং সংসদে সরকার ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি দাবি করেন, তাঁর ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

আরও পড়ুন  রামিসা হত্যাকাণ্ডে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তবে পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। অতীতে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সম্প্রতি Autonomic Neuropathy রোগ শনাক্ত হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে তিনি অল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। এসব জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন  জিয়াউর রহমান শাহাদাৎ বার্ষিকী ২০২৬: জবিতে মানবিক খাবার বিতরণ উদ্যোগ

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এখন সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সেই দিকেই সবার নজর থাকবে।