জামায়াতের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি। সম্প্রতি একটি টক শোতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন দলের সাংগঠনিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন তিনি। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এগুলো তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও মতামত।
আলোচনায় গোলাম মাওলা রনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সংঘটিত প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান আগেরটির তুলনায় অংশগ্রহণ, প্রভাব এবং বিস্তারের দিক থেকে বড় হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে, তাহলে পরবর্তী বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রিত হতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তার মতে, বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধানত তিনটি শক্তি সক্রিয় রয়েছে—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)।
রনির মতে, বিএনপি দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় দলটির সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বে কিছু দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, গত প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, যার প্রভাব এখনো বিদ্যমান।
অন্যদিকে তিনি মন্তব্য করেন, জামায়াতে ইসলামী অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সময়, বিশেষ করে ১/১১-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি ধরে রাখা এবং বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে। তার মতে, এ কারণে দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা আগের তুলনায় আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
টক শোতে গোলাম মাওলা রনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক ন্যারেটিভ, দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি ও দুর্বলতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন ভবিষ্যতে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব বক্তব্য কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়; বরং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নির্ভর করবে বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতি, জনগণের অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমের ওপর। তাই কোনো একক ব্যক্তির মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।



























