ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল খান বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান নেতৃত্ব রাজনৈতিক জীবনে এখন পর্যন্ত শুধু সাফল্য দেখেছে, কিন্তু পরাজয়ের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়নি। তার মতে, রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রকৃত মূল্য তখনই বোঝা যায়, যখন একজন নেতা জয়-পরাজয়—দুই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
আউয়াল খান বলেন, “হাসনাত আব্দুল্লাহ কিংবা এনসিপির যারা নতুন নেতৃত্বে আছেন, তারা শুধু জয় দেখেছেন। পরাজয় কী জিনিস, সেটা এখনো দেখেননি। আন্দোলনে যখন পরাজয় হয়, তখন তার ব্যথা-বেদনা ও শিক্ষাটা বোঝা যায়। এরপর আবার জয় এলে সেই অভিজ্ঞতা একজন রাজনীতিককে আরও পরিণত করে।“
তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমরা জেল খেটেছি, গুম হয়েছি, গুম থেকে ফিরে এসেছি, আন্দোলন করেছি, বারবার কারাবরণ করেছি। এসব অভিজ্ঞতা একজন রাজনীতিককে পরিণত করে। কিন্তু তারা এগুলো দেখেননি। কয়েক দিন জেল খেটেই তারা জয় দেখে ফেলেছেন। ভবিষ্যতে যদি কখনো পরাজয়ের অভিজ্ঞতা হয়, তখন হয়তো তাদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও পরিণত হবে।“
‘জয়-পরাজয় দুটোই একজন রাজনীতিককে শেখায়’:
সাক্ষাৎকারে আউয়াল খান বলেন, পৃথিবীতে যারা জয় ও পরাজয়—দুটোরই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তারাই রাজনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে পারেন।
তার ভাষায়, “যারা জয়-পরাজয় দুটোই দেখেছেন, তারাই প্রকৃত রাজনৈতিক স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে কথা বলতে পারেন। আমার মনে হয়, এনসিপির নেতাদের সেই অভিজ্ঞতা এখনো হয়নি।“
হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়েও মন্তব্য:
সাক্ষাৎকারে এনসিপির অন্যতম নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্পর্কে মন্তব্য করেন আউয়াল খান। তিনি দাবি করেন, হাসনাতের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যে ধারাবাহিকতা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
তিনি বলেন, “আমরা আগে কখনো হাসনাত আব্দুল্লাহকে চিনতাম না। তার সঙ্গে কথা বলা খুবই কঠিন। তিনি কখন কী অবস্থান নেবেন, কাকে কখন লক্ষ্য করবেন—তা বোঝা মুশকিল। তিনি কথাতেও চাপ সৃষ্টি করেন, আচরণেও সেটি প্রকাশ পায়।“
জেলা প্রশাসকের সঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আউয়াল খান বলেন, “একজনের সঙ্গে আরেকজনের নানা ধরনের কথা হতে পারে। কিন্তু যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটিকে তিনি উল্টোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বলে আমার মনে হয়েছে।“
দেবিদ্বারের রাজনীতি নিয়েও অভিযোগ:
দেবিদ্বারের স্থানীয় রাজনীতির প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন আউয়াল খান। তার দাবি, জাতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের বিরোধিতার কথা বলা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন ধরনের আচরণ দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “জাতীয়ভাবে তিনি আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনীতির কথা বলেন। কিন্তু দেবিদ্বারে তার আচরণ ও বক্তব্যে গড়মিল রয়েছে। আমার মনে হয়, আওয়ামী লীগের কিছু ব্যক্তিকে বিভিন্ন কমিটি ও দায়িত্বে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে আমরা এমন বিষয় দেখতে পাচ্ছি।“
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বা এনসিপির পক্ষ থেকে এই সাক্ষাৎকারে উত্থাপিত দাবির কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি। তাই অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আউয়াল খানের মূল্যায়ন
আউয়াল খানের মতে, রাজনৈতিক সংগ্রামের দীর্ঘ পথ একজন নেতাকে পরিণত করে। কারাবরণ, আন্দোলন, ব্যর্থতা ও সাফল্য—সব মিলিয়েই একজন রাজনীতিকের অভিজ্ঞতা পূর্ণতা পায়। তিনি মনে করেন, এনসিপির বর্তমান নেতৃত্ব ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান ও বক্তব্যে পরিপক্বতা আনতে সক্ষম হবে।




























