স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য বাংলাদেশে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতা হিসেবে বিদ্যমান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশে প্রতি চারজন বিবাহিত নারীর মধ্যে প্রায় একজনের স্বামী বয়সে ১০ বছর বা তার বেশি বড়।
জরিপ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের প্রায় ২৪ শতাংশ এবং ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ২৬ শতাংশের স্বামী তাঁদের তুলনায় অন্তত ১০ বছর বেশি বয়সী। এছাড়া ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের ৪৫ শতাংশের স্বামী তাঁদের চেয়ে ৫ থেকে ৯ বছর বড়। মাত্র ১ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বামী বয়সে স্ত্রীর চেয়ে ছোট।
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলে এমন বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায়। সেখানে অনেক মেয়ের বিয়ে ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সেই হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বামীর সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ১০ বছরেরও বেশি। সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা কারণে পরিবারগুলো এখনও কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিতে আগ্রহী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিবিএসের স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৩ অনুযায়ী, প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষদের গড় বয়স ২৪ বছরের বেশি, আর নারীদের ১৮ বছরের কিছু বেশি। ফলে প্রথম বিয়েতেই গড়ে প্রায় ৬ বছরের বয়সের ব্যবধান তৈরি হয়। অতিদরিদ্র পরিবারে এই ব্যবধান আরও বেশি দেখা যায়। সেখানে ছেলেদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স ২২ বছর এবং মেয়েদের ১৭ বছর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোতে পুরুষরা সাধারণত উপার্জন শুরু করার পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য বেশি হয়ে থাকে।
গত এক যুগের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, ১০ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যবধান থাকা দম্পতির সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। মিকস ২০১২-১৩ জরিপে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে এমন হার ছিল ২০ শতাংশ, যা বর্তমানে ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে। একইভাবে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রেও এই হার বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাল্যবিবাহ রোধ, নারীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য কমানো সম্ভব। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

























