ববিতা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেত্রী। ফরিদা আক্তার পপি নাম নিয়ে জন্ম নেওয়া এই তারকা আজ ৭৩ বছরে পা রাখলেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তবে শুধু অভিনয় নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও চলচ্চিত্রে আসার গল্পেও রয়েছে অনেক অজানা অধ্যায়। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক ববিতার জীবনের ১২টি জানা–অজানা তথ্য।
১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন ববিতা। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার শুটিং দেখার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে নিজে কখনো অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি। প্রথমবার পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘চাওয়া পাওয়া’ সিনেমার শুটিং দেখতে গিয়েই চলচ্চিত্রের পরিবেশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। তখনও তাঁর ভাবনায় অভিনয় নয়, ছিল শুধুই কৌতূহল।
পরবর্তীতে পরিচালক জহির রায়হান তাঁর ‘সংসার’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু শুরুতে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন ববিতা। পরে মা ও বড় বোনের অনুরোধে রাজি হন। তখন তিনি মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সিনেমাটি বক্স অফিসে সফল না হলেও তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা হয়ে যায়। পরে আবারও জহির রায়হান তাঁকে উর্দু সিনেমা ‘জ্বলতে সুরজ কে নিচে’-তে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে নানা কারণে ছবিটির কাজ শেষ হয়নি।
অভিনয়ের পাশাপাশি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নও ছিল ববিতার। তাঁর মা ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এবং ছোটবেলায় মায়ের কাজে সহকারী হিসেবে সময় কাটাতেন তিনি। দুষ্টু স্বভাবের ববিতা মায়ের অনুপস্থিতিতে রোগীদের কাছ থেকে গোপনে টাকা নিতেন। পরে সেই টাকা জমিয়ে বান্ধবীদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যেতেন। স্কুল ফাঁকি দিয়ে গুলিস্তানের নাজ সিনেমা হলে ‘হোটেল সাহারা’ দেখা ছিল তাঁর শৈশবের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
জহির রায়হানের আরেকটি বাংলা সিনেমা মুক্তির পর সেটি ব্যাপক সাফল্য পায়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। রাজ্জাকের সঙ্গে ‘স্বরলিপি’, ‘পিচঢালা পথ’ ও ‘টাকা আনা পাই’-সহ একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে গড়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। একের পর এক সফল সিনেমা তাঁকে দেশের শীর্ষ অভিনেত্রীদের কাতারে নিয়ে যায়।
ববিতার আন্তর্জাতিক পরিচিতির বড় অধ্যায় শুরু হয় কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে। তাঁর প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘অশনি সংকেত’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করেন ববিতা। ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা লাভ করে। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং অনন্য অবদানের মাধ্যমে ববিতা আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নাম। জন্মদিনে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছেন এই গুণী অভিনেত্রীকে।























