ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০৬তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস কাল, থাকছে যত আয়োজন

দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

১০৬তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আগামীকাল (১ জুলাই) উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ১০৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজনের শুরু হবে সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এরপর প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হবে, যা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট, হল এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।

দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলারও আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য রাখবেন।

১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ :

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: ১৯২১ সালের ১ জুলাই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শুরুতে তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক এবং ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ।
  • অতিথিদের উপস্থিতি: উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।
  • অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণ: দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে মিলিত হবেন। তাদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী ও স্মৃতিচারণমূলক নানা আয়োজন থাকবে।
  • সাংস্কৃতিক পরিবেশনা: উদ্বোধনী পর্বের পর দিনব্যাপী টিএসসি ও অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্যাংশ অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনাও দিবসের অন্যতম আকর্ষণ।
  • ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ: দিবসটি উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), অপরাজেয় বাংলা, স্মৃতি চিরন্তন, কার্জন হল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান: ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তনদের ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • বর্তমান পরিসর: বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩টি অনুষদ, ১৩টি ইনস্টিটিউট, ৮০টিরও বেশি বিভাগ, ২০টির বেশি আবাসিক হল এবং প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম।
  • নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা: দিবসটি নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মেডিকেল টিম, স্বেচ্ছাসেবক এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
  • প্রতিপাদ্যের তাৎপর্য: এ বছরের প্রতিপাদ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

১০৬তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস কাল, থাকছে যত আয়োজন

Update Time : ০৮:০০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

১০৬তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আগামীকাল (১ জুলাই) উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ১০৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজনের শুরু হবে সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এরপর প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হবে, যা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট, হল এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেবেন।

দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলারও আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য রাখবেন।

আরও পড়ুন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ :

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: ১৯২১ সালের ১ জুলাই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শুরুতে তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক এবং ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ।
  • অতিথিদের উপস্থিতি: উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।
  • অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণ: দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে মিলিত হবেন। তাদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী ও স্মৃতিচারণমূলক নানা আয়োজন থাকবে।
  • সাংস্কৃতিক পরিবেশনা: উদ্বোধনী পর্বের পর দিনব্যাপী টিএসসি ও অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্যাংশ অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনাও দিবসের অন্যতম আকর্ষণ।
  • ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ: দিবসটি উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), অপরাজেয় বাংলা, স্মৃতি চিরন্তন, কার্জন হল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান: ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তনদের ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • বর্তমান পরিসর: বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩টি অনুষদ, ১৩টি ইনস্টিটিউট, ৮০টিরও বেশি বিভাগ, ২০টির বেশি আবাসিক হল এবং প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম।
  • নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা: দিবসটি নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মেডিকেল টিম, স্বেচ্ছাসেবক এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
  • প্রতিপাদ্যের তাৎপর্য: এ বছরের প্রতিপাদ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ও সমসাময়িক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
আরও পড়ুন  শহীদ মিনারে কারিনা কায়সারের জানাজা, রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি