স্বস্তিদায়ক বাজেট নিয়ে সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়েই আসন্ন বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্বস্তিদায়ক বাজেট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সংসদে বিস্তৃত আলোচনা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাজেট পাস করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা, যা জনগণের প্রয়োজন ও দেশের উন্নয়ন চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা খাতকে আরও আধুনিক ও কর্মমুখী করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের মতে, দীর্ঘমেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য শিক্ষাখাতকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য খাত নিয়েও সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন হাসপাতাল স্থাপন এবং চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বস্তিদায়ক বাজেট বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়ন, পরিবহন টার্মিনাল নির্মাণ এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মত দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, আইন-শৃঙ্খলা এবং বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, স্বস্তিদায়ক বাজেট দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

























