ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

পিটিশনে ৯৫ হাজার সই, পরাজয় মেনে নিতে বললেন এফএ সভাপতি

ক্লদিও তাপিয়া l ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর পুনরায় ম্যাচ আয়োজনের দাবিতে শুরু হওয়া একটি অনলাইন পিটিশনে ইতোমধ্যে ৯৫ হাজারের বেশি মানুষ সই করেছেন। তবে এ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তিনি বলেছেন, স্পেন ন্যায্যভাবেই জিতেছে এবং আর্জেন্টিনার উচিত সেই পরাজয় মর্যাদার সঙ্গে মেনে নেওয়া।

ফাইনালে হারের পর লিওনেল মেসির সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বিদায় নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সমর্থকের কাছে এটি ছিল মেসির শেষ বিশ্বকাপ মঞ্চ, ফলে পরাজয়ের হতাশা আরও গভীর হয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের দাবি তুলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে একটি অনলাইন পিটিশন।

জিসেলা সানচেজ নামের এক আর্জেন্টাইন সমর্থক এই পিটিশনটি শুরু করেন। শুক্রবার পর্যন্ত এতে ৯৫ হাজার ৭১০ জনের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। পিটিশনটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়লে সমর্থকদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক শুরু হয় এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পায়।

পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, ম্যাচ পরিচালনাকারী স্লোভাকিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ এবং তাঁর সহকারী কর্মকর্তাদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। ফিফার উদ্দেশ্যে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, এটি শুধু আর্জেন্টিনার জন্য নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি হিসেবেও বিবেচিত হওয়া উচিত।

তবে বাস্তবতা হলো, Change.org–এর মতো প্ল্যাটফর্মে করা আবেদনগুলোর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে বিপুল সমর্থন পেলেও এই পিটিশনের ভিত্তিতে ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ফুটবল সংশ্লিষ্ট অনেক বিশ্লেষকও বিষয়টিকে মূলত আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

এর আগেই আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি রেফারিং নিয়ে ওঠা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ফাইনালের দিন যে দল ভালো খেলেছে তারাই জিতেছে। স্কালোনির এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তাপিয়া বলেন, “আমরা স্পেনকে অতিক্রম করতে পারিনি। আমরা তাদের হারাতে পারিনি। তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে এবং ন্যায্যভাবেই জিতেছে। আমাদের সেটি মেনে নিতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্যকে আর্জেন্টিনা ফুটবল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

পরাজয় মেনে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তাপিয়া আরও বলেন, খেলাধুলার অন্যতম শিক্ষা হলো জয়ের পাশাপাশি হারও মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করা। তাঁর মতে, ফাইনালে পরাজিত হলেও এই আর্জেন্টিনা দল দেশের মানুষকে অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত উপহার দিয়েছে এবং তাদের অর্জনকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

তাপিয়া সমর্থকদের উদ্দেশে দলের ত্যাগ ও পরিশ্রমের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং দলের সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষ নিজেদের পরিবার থেকে ৫০ দিনেরও বেশি সময় দূরে ছিলেন শুধুমাত্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। তাদের অবদানকে সম্মান জানানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিবৃতির শেষ অংশে তিনি সমর্থকদের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “আমরা আর্জেন্টাইন। আমরা সাহস, আবেগ ও হৃদয় দিয়ে প্রতিযোগিতা করি। মিথ্যা কিংবা বিভ্রান্তিকর কৌশলের প্রভাবে না গিয়ে আমাদের জাতীয় দলের পাশে দাঁড়াতে হবে। ষড়যন্ত্রের গল্প আসবে এবং চলে যাবে, কিন্তু জাতীয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতি চিরকাল অটুট থাকবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

কাজাখস্তানকে হারিয়ে চমক, কাভা চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের জয়

পিটিশনে ৯৫ হাজার সই, পরাজয় মেনে নিতে বললেন এফএ সভাপতি

Update Time : ০৮:০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর পুনরায় ম্যাচ আয়োজনের দাবিতে শুরু হওয়া একটি অনলাইন পিটিশনে ইতোমধ্যে ৯৫ হাজারের বেশি মানুষ সই করেছেন। তবে এ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তিনি বলেছেন, স্পেন ন্যায্যভাবেই জিতেছে এবং আর্জেন্টিনার উচিত সেই পরাজয় মর্যাদার সঙ্গে মেনে নেওয়া।

ফাইনালে হারের পর লিওনেল মেসির সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বিদায় নিয়েও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সমর্থকের কাছে এটি ছিল মেসির শেষ বিশ্বকাপ মঞ্চ, ফলে পরাজয়ের হতাশা আরও গভীর হয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের দাবি তুলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে একটি অনলাইন পিটিশন।

জিসেলা সানচেজ নামের এক আর্জেন্টাইন সমর্থক এই পিটিশনটি শুরু করেন। শুক্রবার পর্যন্ত এতে ৯৫ হাজার ৭১০ জনের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। পিটিশনটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়লে সমর্থকদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক শুরু হয় এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পায়।

আরও পড়ুন  অস্ট্রিয়া ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার একাদশে নিশ্চিত পরিবর্তন

পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, ম্যাচ পরিচালনাকারী স্লোভাকিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ এবং তাঁর সহকারী কর্মকর্তাদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। ফিফার উদ্দেশ্যে দেওয়া আবেদনে বলা হয়, এটি শুধু আর্জেন্টিনার জন্য নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি হিসেবেও বিবেচিত হওয়া উচিত।

তবে বাস্তবতা হলো, Change.org–এর মতো প্ল্যাটফর্মে করা আবেদনগুলোর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে বিপুল সমর্থন পেলেও এই পিটিশনের ভিত্তিতে ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ফুটবল সংশ্লিষ্ট অনেক বিশ্লেষকও বিষয়টিকে মূলত আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

এর আগেই আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি রেফারিং নিয়ে ওঠা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ফাইনালের দিন যে দল ভালো খেলেছে তারাই জিতেছে। স্কালোনির এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াও।

আরও পড়ুন  কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে হঠাৎ পরিকল্পনা বদল আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তাপিয়া বলেন, “আমরা স্পেনকে অতিক্রম করতে পারিনি। আমরা তাদের হারাতে পারিনি। তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে এবং ন্যায্যভাবেই জিতেছে। আমাদের সেটি মেনে নিতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্যকে আর্জেন্টিনা ফুটবল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

পরাজয় মেনে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তাপিয়া আরও বলেন, খেলাধুলার অন্যতম শিক্ষা হলো জয়ের পাশাপাশি হারও মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করা। তাঁর মতে, ফাইনালে পরাজিত হলেও এই আর্জেন্টিনা দল দেশের মানুষকে অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত উপহার দিয়েছে এবং তাদের অর্জনকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে মেসির সামনে যেসব ঐতিহাসিক রেকর্ড ভাঙার সুযোগ

তাপিয়া সমর্থকদের উদ্দেশে দলের ত্যাগ ও পরিশ্রমের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং দলের সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষ নিজেদের পরিবার থেকে ৫০ দিনেরও বেশি সময় দূরে ছিলেন শুধুমাত্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। তাদের অবদানকে সম্মান জানানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিবৃতির শেষ অংশে তিনি সমর্থকদের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “আমরা আর্জেন্টাইন। আমরা সাহস, আবেগ ও হৃদয় দিয়ে প্রতিযোগিতা করি। মিথ্যা কিংবা বিভ্রান্তিকর কৌশলের প্রভাবে না গিয়ে আমাদের জাতীয় দলের পাশে দাঁড়াতে হবে। ষড়যন্ত্রের গল্প আসবে এবং চলে যাবে, কিন্তু জাতীয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতি চিরকাল অটুট থাকবে।”