ওষুধ ও রসায়ন খাত গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ লেনদেনের শীর্ষস্থান দখল করেছে। খাতটির শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ অন্য সব খাতকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে প্রকৌশল খাতও উল্লেখযোগ্য লেনদেনের মাধ্যমে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। দুই খাত মিলিয়ে মোট লেনদেনের প্রায় ২৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৭৫৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বর্তমানে ডিএসইতে ২১টি খাতের ৪১২টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ওষুধ ও রসায়ন এবং প্রকৌশল খাতের ৭৬টি প্রতিষ্ঠানে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৬৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
শীর্ষে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭০০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এই খাত একাই মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ দখল করেছে। অন্যদিকে, প্রকৌশল খাতের ৪২টি প্রতিষ্ঠানে ৫৬৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ফলে দুটি খাতই বাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উঠে এসেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, লেনদেনের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। এই খাতের ৫৮টি প্রতিষ্ঠানে ৫৩৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। চতুর্থ স্থানে থাকা সাধারণ বিমা খাতে লেনদেন হয়েছে ৫২২ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং পঞ্চম স্থানে থাকা ব্যাংক খাতে লেনদেন হয়েছে ৫০৫ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার। এসব খাতের ধারাবাহিক সক্রিয়তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এ ছাড়া বিবিধ খাতে ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ, সেবা ও আবাসন খাতে ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং জ্বালানি ও শক্তি খাতে ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। টেলিকম, জীবন বিমা, সিরামিক, পেপার ও প্রিন্টিং এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ভ্রমণ ও অবকাশ, চামড়া, করপোরেট বন্ড, সিমেন্ট এবং পাট খাতে তুলনামূলক কম লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে পাট খাতে লেনদেনের হার ছিল সবচেয়ে কম। সামগ্রিকভাবে বাজারে সক্রিয় লেনদেন অব্যাহত থাকলেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত এবং প্রকৌশল খাতকে ঘিরে। ফলে এই দুই খাতই সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর লেনদেনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।




























