সৌদি ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন এর জন্য অপেক্ষারত অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রবাসী কর্মীদের বৈধতা সংশোধনের বিশেষ সময়সীমা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। সৌদি গ্যাজেট এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এই আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী যেসব প্রবাসী শ্রমিকের পারমিটের মেয়াদ এক বছরেরও বেশি সময় আগে শেষ হয়ে গেছে, তারা এই সৌদি ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন এর দারুণ সুযোগটি পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে যাদের কাজের অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়নি, তারাও এই বিশেষ আইনি ক্ষমার আওতায় নিজেদের বৈধ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
দেশটির শ্রম আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নিয়োগকর্তা ও সাধারণ কর্মীদের পারস্পরিক অধিকার সুরক্ষায় অতিরিক্ত এই সময় দেওয়ার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সৌদির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই সুযোগ ব্যবহার করে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় এবং নিজেদের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করায় এই সময়সীমা আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা হলো।
তবে নিয়োগকর্তাদের নির্ধারিত ডেডলাইনের আগেই এই সৌদি ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন বা নতুন করে পারমিট ইস্যুর প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কড়া তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের আইনি অবস্থান সংশোধন করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে দেশটির প্রচলিত কঠোর আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কিওয়া প্ল্যাটফর্ম সতর্ক করেছে যে, তিন মাসের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ কর্মীদের নাম আজ ১ জুলাই থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোম্পানির মূল রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া শুরু হবে। নাম বাদ পড়লেও ওই অবৈধ কর্মীকে কাজে রাখার সমস্ত বকেয়া ফি ও আর্থিক জরিমানা সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকেই সম্পূর্ণ বহন করতে হবে বলে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে।
আইনি জটিলতা এড়াতে দ্রুত বকেয়া ফি পরিশোধ অথবা প্রয়োজনে কর্মীর কফিল বা স্পন্সর পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন সৌদির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। এই সুযোগের ফলে লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী বড় ধরনের জরিমানা ও দেশে ফেরত আসার আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়ে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন।


















