জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশের শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। রাজধানীতে আয়োজিত ‘বায়লা ফিউচার সামিট-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি সংকট দূর করার লক্ষ্যে সরকার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহে সমস্যা থাকলেও তা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে সরকারের প্রত্যাশা। শিল্পের ধারাবাহিক উৎপাদন ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বাংলাদেশের বড় শক্তি হলো তরুণ জনগোষ্ঠী, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম একটি নির্বাচিত সরকার। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে জ্বালানি নিরাপত্তা, আধুনিক বন্দরব্যবস্থা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো অত্যন্ত জরুরি। এসব বিষয়কে সামনে রেখে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।
সরকার নতুন শিল্পপার্ক স্থাপন, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সহজীকরণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদে বিনিয়োগের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে।
সম্মেলনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার উদ্যোক্তাদের ব্যাংকঋণের পাশাপাশি পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। অন্যদিকে অ্যাংকরলিস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাহাত আহমেদ পারিবারিক ব্যবসাগুলোকে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি অফিস’ গঠনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, বিনিয়োগ, পুঁজিবাজার এবং টেকসই শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই অনুষ্ঠানে ‘বায়লা ফিউচার লিডারস’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।
























