ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo # ইটনার হাওরে নৌকাবাইচ, লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস নদীর জল কেটে একসঙ্গে ছুটছে দৌড়ের নাও। নৌকার দুই পাশে সারি করে বসেছেন মাঝিরা। গায়েনের গানের তালে তালে শক্ত হাতে একসঙ্গে চলছে বৈঠা। প্রতিযোগিতা যত জমে উঠছে, ততই বাড়ছে বৈঠার গতি। মাঝিদের কণ্ঠে কোরাস—‘হেইও, হেইও’। সেই ছন্দময় শব্দে মুখর হয়ে উঠছে নদীর দুই পাড়। কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদীতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা এই আয়োজন দেখতে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। আয়োজকদের দাবি, বিকেল পর্যন্ত নৌকাবাইচ ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ## ১০টি নৌকা অংশ নেয় শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া নৌকাবাইচে মোট ১০টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি নৌকায় ছিলেন দক্ষ মাঝি ও বৈঠাচালক। নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো পাশাপাশি ছুটে চলে। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সম্মিলিত গান এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা নৌকার দৌড় উপভোগ করেন। কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ প্রিয় দলের নৌকাকে উৎসাহ দিতে নানা স্লোগান দেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী ও প্রবীণরাও এ আয়োজনে অংশ নেন। ## দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগমন নৌকাবাইচ দেখতে শুধু ইটনা নয়, কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ আসেন। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এসে নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নেন। সকাল থেকেই নদীর পাড়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও ঘন হয়। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ধনপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট দোকানেও ছিল বাড়তি ব্যস্ততা। খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে বসেন অস্থায়ী দোকানিরা। ফলে নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও সাময়িক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। ## প্রায় শত বছরের ঐতিহ্য স্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোরগঞ্জে নৌকাবাইচের ইতিহাস প্রায় শত বছরের পুরোনো। নদী ও হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নৌকা বরাবরই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ হাওর ও নদীতে নৌকাই ছিল মানুষের অন্যতম প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। একসময় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে প্রতিবছর ভাদ্র মাসের প্রথম দিনে নিয়মিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এ আয়োজন দেখতে আসতেন। তবে সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক বিনোদনের বিস্তার এবং নানা কারণে ধীরে ধীরে অনেক এলাকায় নৌকাবাইচের আয়োজন কমে গেছে। স্থানীয়রা মনে করেন, নৌকাবাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো নিয়মিত করা গেলে নতুন প্রজন্ম দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। ## হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ধরে রাখার দাবি স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় বর্ষা মৌসুমে নৌকাবাইচ ছিল গ্রামবাংলার অন্যতম প্রধান বিনোদন। নদী ও হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে মানুষ দলবেঁধে আসতেন। বর্তমানে আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যম মানুষের জীবনযাত্রায় জায়গা করে নেওয়ায় নৌকাবাইচের মতো লোকজ আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে এ ধরনের আয়োজনকে নিয়মিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার নদী-নির্ভর জীবন, লোকসংগীত, নৌকার কারিগরি ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ মানুষের সামাজিক বন্ধন। ## উৎসবের আবহে মুখর সুরমা নদীর পাড় শনিবারের নৌকাবাইচে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ছিল উৎসবের আমেজ। নদীর বুকে নৌকার ছুটে চলা আর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উচ্ছ্বাসে সুরমা নদীর পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। মাঝিদের বৈঠার প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস বাড়তে থাকে। নৌকা যত দ্রুত সামনে এগিয়ে যায়, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা উপভোগ করে আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরেন দর্শনার্থীরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইটনার এই নৌকাবাইচের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের হারিয়ে যেতে বসা নৌকাবাইচের ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। Logo জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব ব্যবসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদের Logo ঢাকার প্রেস ক্লাবে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত Logo জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ Logo রিচার্লিসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, নতুন ক্লাব পাচ্ছেন না ব্রাজিল তারকা Logo শাহজালাল বিমানবন্দরে ১২০টি স্বর্ণবার জব্দ করেছে কাস্টমস Logo বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তারেক রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য জানালেন হুমায়ুন কবির Logo ডায়াবেটিসে কী খাবেন? ৫ ভুল ধারণার সত্যতা জানুন Logo ঝালকাঠিতে মাদকবিরোধী কর্মসূচি, নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ এলাকাবাসী

রিচার্লিসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, নতুন ক্লাব পাচ্ছেন না ব্রাজিল তারকা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১১

নতুন ক্লাব খুঁজছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন। ছবি: সংগৃহীত

রিচার্লিসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে দলবদলের বাজারের শেষ সময়ে এসে। টটেনহ্যামে থেকেও নিয়মিত একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তাই নিজে থেকেই ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দলবদলের সময়সীমা শেষের দিকে চলে এলেও এখনো নতুন কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি এই তারকা।

টটেনহ্যাম ছাড়ার পর রিচার্লিসনের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল তার সাবেক ক্লাব এভারটন। টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার আগে দীর্ঘ সময় এভারটনের হয়ে খেলেছেন তিনি। তবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। ফলে আপাতত সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

এরপর তুরস্কের ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরকে ঘিরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। ক্লাবটিতে সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন মোহামেদ সালাহ ও রিচার্লিসনের জাতীয় দলের সতীর্থ ফ্যাবিনিয়ো—এমন তথ্যও আলোচনায় আসে। কিন্তু শুক্রবার তুরস্কের সুপার লিগের দলবদলের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখানেও যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন রিচার্লিসন।

ইউরোপের অন্যান্য সম্ভাব্য গন্তব্যও ধীরে ধীরে কমে এসেছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের দলবদলের সময়সীমাও শেষ হয়েছে। ফলে ইউরোপের বড় লিগগুলোতে নতুন ক্লাব খোঁজার সুযোগ এখন বেশ সীমিত। দলবদলের বাজারের শেষ সময়ে এসে তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে।

তবে রিচার্লিসনের সামনে এখনো কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে। এর মধ্যে বড় সম্ভাবনা সৌদি আরবের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের একাধিক তারকাকে দলে ভিড়িয়েছে সৌদি প্রো লিগের ক্লাবগুলো। দেশটির দলবদলের সময়সীমা আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। এ ছাড়া নিজ দেশ ব্রাজিল ও পর্তুগালেও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর। ব্রাজিলের দলবদল চলবে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং পর্তুগালে খেলোয়াড় নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

দলবদলের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় রিচার্লিসনের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। টকস্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন ক্লাব খুঁজে না পেলে টটেনহ্যাম তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে পারে। সেক্ষেত্রে ফ্রি এজেন্ট হয়ে নতুন ক্লাব খুঁজতে হতে পারে তাঁকে। তবে এখন পর্যন্ত টটেনহ্যামের সঙ্গে তাঁর চুক্তি বহাল রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান তারকার পরবর্তী ঠিকানা কোথায় হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

# ইটনার হাওরে নৌকাবাইচ, লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস নদীর জল কেটে একসঙ্গে ছুটছে দৌড়ের নাও। নৌকার দুই পাশে সারি করে বসেছেন মাঝিরা। গায়েনের গানের তালে তালে শক্ত হাতে একসঙ্গে চলছে বৈঠা। প্রতিযোগিতা যত জমে উঠছে, ততই বাড়ছে বৈঠার গতি। মাঝিদের কণ্ঠে কোরাস—‘হেইও, হেইও’। সেই ছন্দময় শব্দে মুখর হয়ে উঠছে নদীর দুই পাড়। কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদীতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা এই আয়োজন দেখতে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। আয়োজকদের দাবি, বিকেল পর্যন্ত নৌকাবাইচ ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ## ১০টি নৌকা অংশ নেয় শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া নৌকাবাইচে মোট ১০টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি নৌকায় ছিলেন দক্ষ মাঝি ও বৈঠাচালক। নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো পাশাপাশি ছুটে চলে। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সম্মিলিত গান এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা নৌকার দৌড় উপভোগ করেন। কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ প্রিয় দলের নৌকাকে উৎসাহ দিতে নানা স্লোগান দেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী ও প্রবীণরাও এ আয়োজনে অংশ নেন। ## দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগমন নৌকাবাইচ দেখতে শুধু ইটনা নয়, কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ আসেন। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এসে নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নেন। সকাল থেকেই নদীর পাড়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও ঘন হয়। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ধনপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট দোকানেও ছিল বাড়তি ব্যস্ততা। খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে বসেন অস্থায়ী দোকানিরা। ফলে নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও সাময়িক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। ## প্রায় শত বছরের ঐতিহ্য স্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোরগঞ্জে নৌকাবাইচের ইতিহাস প্রায় শত বছরের পুরোনো। নদী ও হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নৌকা বরাবরই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ হাওর ও নদীতে নৌকাই ছিল মানুষের অন্যতম প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। একসময় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে প্রতিবছর ভাদ্র মাসের প্রথম দিনে নিয়মিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এ আয়োজন দেখতে আসতেন। তবে সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক বিনোদনের বিস্তার এবং নানা কারণে ধীরে ধীরে অনেক এলাকায় নৌকাবাইচের আয়োজন কমে গেছে। স্থানীয়রা মনে করেন, নৌকাবাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো নিয়মিত করা গেলে নতুন প্রজন্ম দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। ## হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ধরে রাখার দাবি স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় বর্ষা মৌসুমে নৌকাবাইচ ছিল গ্রামবাংলার অন্যতম প্রধান বিনোদন। নদী ও হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে মানুষ দলবেঁধে আসতেন। বর্তমানে আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যম মানুষের জীবনযাত্রায় জায়গা করে নেওয়ায় নৌকাবাইচের মতো লোকজ আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে এ ধরনের আয়োজনকে নিয়মিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার নদী-নির্ভর জীবন, লোকসংগীত, নৌকার কারিগরি ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ মানুষের সামাজিক বন্ধন। ## উৎসবের আবহে মুখর সুরমা নদীর পাড় শনিবারের নৌকাবাইচে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ছিল উৎসবের আমেজ। নদীর বুকে নৌকার ছুটে চলা আর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উচ্ছ্বাসে সুরমা নদীর পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। মাঝিদের বৈঠার প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস বাড়তে থাকে। নৌকা যত দ্রুত সামনে এগিয়ে যায়, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা উপভোগ করে আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরেন দর্শনার্থীরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইটনার এই নৌকাবাইচের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের হারিয়ে যেতে বসা নৌকাবাইচের ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।

রিচার্লিসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, নতুন ক্লাব পাচ্ছেন না ব্রাজিল তারকা

Update Time : ০৭:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিচার্লিসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে দলবদলের বাজারের শেষ সময়ে এসে। টটেনহ্যামে থেকেও নিয়মিত একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তাই নিজে থেকেই ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দলবদলের সময়সীমা শেষের দিকে চলে এলেও এখনো নতুন কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি এই তারকা।

টটেনহ্যাম ছাড়ার পর রিচার্লিসনের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল তার সাবেক ক্লাব এভারটন। টটেনহ্যামে যোগ দেওয়ার আগে দীর্ঘ সময় এভারটনের হয়ে খেলেছেন তিনি। তবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। ফলে আপাতত সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন  নতুন ব্রাজিল দল গড়বেন আনচেলত্তি: শক্তিশালী পরিকল্পনায় তরুণদের সুযোগ

এরপর তুরস্কের ক্লাব ট্রাবজোনস্পোরকে ঘিরে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। ক্লাবটিতে সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন মোহামেদ সালাহ ও রিচার্লিসনের জাতীয় দলের সতীর্থ ফ্যাবিনিয়ো—এমন তথ্যও আলোচনায় আসে। কিন্তু শুক্রবার তুরস্কের সুপার লিগের দলবদলের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখানেও যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন রিচার্লিসন।

ইউরোপের অন্যান্য সম্ভাব্য গন্তব্যও ধীরে ধীরে কমে এসেছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের দলবদলের সময়সীমাও শেষ হয়েছে। ফলে ইউরোপের বড় লিগগুলোতে নতুন ক্লাব খোঁজার সুযোগ এখন বেশ সীমিত। দলবদলের বাজারের শেষ সময়ে এসে তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচেই ইতিহাস, ৩ লাল কার্ডের রেকর্ড

তবে রিচার্লিসনের সামনে এখনো কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে। এর মধ্যে বড় সম্ভাবনা সৌদি আরবের। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের একাধিক তারকাকে দলে ভিড়িয়েছে সৌদি প্রো লিগের ক্লাবগুলো। দেশটির দলবদলের সময়সীমা আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। এ ছাড়া নিজ দেশ ব্রাজিল ও পর্তুগালেও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর। ব্রাজিলের দলবদল চলবে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং পর্তুগালে খেলোয়াড় নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনা নাকি আলজেরিয়া? ম্যাচের আগে ভবিষ্যৎবাণী সুপার কম্পিউটারের

দলবদলের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় রিচার্লিসনের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। টকস্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন ক্লাব খুঁজে না পেলে টটেনহ্যাম তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে পারে। সেক্ষেত্রে ফ্রি এজেন্ট হয়ে নতুন ক্লাব খুঁজতে হতে পারে তাঁকে। তবে এখন পর্যন্ত টটেনহ্যামের সঙ্গে তাঁর চুক্তি বহাল রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলিয়ান তারকার পরবর্তী ঠিকানা কোথায় হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।