ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo # ইটনার হাওরে নৌকাবাইচ, লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস নদীর জল কেটে একসঙ্গে ছুটছে দৌড়ের নাও। নৌকার দুই পাশে সারি করে বসেছেন মাঝিরা। গায়েনের গানের তালে তালে শক্ত হাতে একসঙ্গে চলছে বৈঠা। প্রতিযোগিতা যত জমে উঠছে, ততই বাড়ছে বৈঠার গতি। মাঝিদের কণ্ঠে কোরাস—‘হেইও, হেইও’। সেই ছন্দময় শব্দে মুখর হয়ে উঠছে নদীর দুই পাড়। কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদীতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা এই আয়োজন দেখতে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। আয়োজকদের দাবি, বিকেল পর্যন্ত নৌকাবাইচ ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ## ১০টি নৌকা অংশ নেয় শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া নৌকাবাইচে মোট ১০টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি নৌকায় ছিলেন দক্ষ মাঝি ও বৈঠাচালক। নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো পাশাপাশি ছুটে চলে। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সম্মিলিত গান এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা নৌকার দৌড় উপভোগ করেন। কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ প্রিয় দলের নৌকাকে উৎসাহ দিতে নানা স্লোগান দেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী ও প্রবীণরাও এ আয়োজনে অংশ নেন। ## দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগমন নৌকাবাইচ দেখতে শুধু ইটনা নয়, কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ আসেন। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এসে নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নেন। সকাল থেকেই নদীর পাড়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও ঘন হয়। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ধনপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট দোকানেও ছিল বাড়তি ব্যস্ততা। খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে বসেন অস্থায়ী দোকানিরা। ফলে নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও সাময়িক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। ## প্রায় শত বছরের ঐতিহ্য স্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোরগঞ্জে নৌকাবাইচের ইতিহাস প্রায় শত বছরের পুরোনো। নদী ও হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নৌকা বরাবরই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ হাওর ও নদীতে নৌকাই ছিল মানুষের অন্যতম প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। একসময় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে প্রতিবছর ভাদ্র মাসের প্রথম দিনে নিয়মিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এ আয়োজন দেখতে আসতেন। তবে সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক বিনোদনের বিস্তার এবং নানা কারণে ধীরে ধীরে অনেক এলাকায় নৌকাবাইচের আয়োজন কমে গেছে। স্থানীয়রা মনে করেন, নৌকাবাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো নিয়মিত করা গেলে নতুন প্রজন্ম দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। ## হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ধরে রাখার দাবি স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় বর্ষা মৌসুমে নৌকাবাইচ ছিল গ্রামবাংলার অন্যতম প্রধান বিনোদন। নদী ও হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে মানুষ দলবেঁধে আসতেন। বর্তমানে আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যম মানুষের জীবনযাত্রায় জায়গা করে নেওয়ায় নৌকাবাইচের মতো লোকজ আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে এ ধরনের আয়োজনকে নিয়মিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার নদী-নির্ভর জীবন, লোকসংগীত, নৌকার কারিগরি ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ মানুষের সামাজিক বন্ধন। ## উৎসবের আবহে মুখর সুরমা নদীর পাড় শনিবারের নৌকাবাইচে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ছিল উৎসবের আমেজ। নদীর বুকে নৌকার ছুটে চলা আর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উচ্ছ্বাসে সুরমা নদীর পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। মাঝিদের বৈঠার প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস বাড়তে থাকে। নৌকা যত দ্রুত সামনে এগিয়ে যায়, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা উপভোগ করে আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরেন দর্শনার্থীরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইটনার এই নৌকাবাইচের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের হারিয়ে যেতে বসা নৌকাবাইচের ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। Logo জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব ব্যবসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদের Logo ঢাকার প্রেস ক্লাবে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত Logo জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ Logo রিচার্লিসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, নতুন ক্লাব পাচ্ছেন না ব্রাজিল তারকা Logo শাহজালাল বিমানবন্দরে ১২০টি স্বর্ণবার জব্দ করেছে কাস্টমস Logo বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তারেক রহমান Logo প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য জানালেন হুমায়ুন কবির Logo ডায়াবেটিসে কী খাবেন? ৫ ভুল ধারণার সত্যতা জানুন Logo ঝালকাঠিতে মাদকবিরোধী কর্মসূচি, নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ এলাকাবাসী

ঝালকাঠিতে মাদকবিরোধী কর্মসূচি, নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ এলাকাবাসী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১২

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ঝালকাঠিতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি। ছবি: সংগৃহীত

ঝালকাঠি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্ব রোডসংলগ্ন ব্র্যাক মোড় এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাদকবিরোধী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধ ও তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান। প্রধান বক্তা ছিলেন ঝালকাঠি জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং বর্তমান জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রবিউল হোসেন তুহিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. আজাদুর রহমান খান, ঝালকাঠি সাংবাদিক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আজম টুটুল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন মিয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. অলিউর রহমান মিঠু গাজী, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ মিয়া, শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান খান বিপ্লব, মো. জাকির হোসেন মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে মো. রবিউল হোসেন তুহিন বলেন, এলাকায় স্থায়ীভাবে মাদক নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাদের মাদকের ধ্বংসাত্মক পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কেউ মাদক কার্যক্রম থেকে সরে না এলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার কথাও জানান।

এর আগে ঝালকাঠি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদকাঠী চৌমাথা, রূপনগর, এবাদুল্লাহ মসজিদসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন রবিউল হোসেন তুহিন।

এ সময় বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। মাদকবিরোধী এ উদ্যোগ সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

# ইটনার হাওরে নৌকাবাইচ, লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস নদীর জল কেটে একসঙ্গে ছুটছে দৌড়ের নাও। নৌকার দুই পাশে সারি করে বসেছেন মাঝিরা। গায়েনের গানের তালে তালে শক্ত হাতে একসঙ্গে চলছে বৈঠা। প্রতিযোগিতা যত জমে উঠছে, ততই বাড়ছে বৈঠার গতি। মাঝিদের কণ্ঠে কোরাস—‘হেইও, হেইও’। সেই ছন্দময় শব্দে মুখর হয়ে উঠছে নদীর দুই পাড়। কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ধনপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদীতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা এই আয়োজন দেখতে সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। আয়োজকদের দাবি, বিকেল পর্যন্ত নৌকাবাইচ ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ## ১০টি নৌকা অংশ নেয় শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া নৌকাবাইচে মোট ১০টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি নৌকায় ছিলেন দক্ষ মাঝি ও বৈঠাচালক। নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো পাশাপাশি ছুটে চলে। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সম্মিলিত গান এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা নৌকার দৌড় উপভোগ করেন। কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ প্রিয় দলের নৌকাকে উৎসাহ দিতে নানা স্লোগান দেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী ও প্রবীণরাও এ আয়োজনে অংশ নেন। ## দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগমন নৌকাবাইচ দেখতে শুধু ইটনা নয়, কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ আসেন। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা এসে নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নেন। সকাল থেকেই নদীর পাড়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও ঘন হয়। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে ধনপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট দোকানেও ছিল বাড়তি ব্যস্ততা। খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে বসেন অস্থায়ী দোকানিরা। ফলে নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও সাময়িক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। ## প্রায় শত বছরের ঐতিহ্য স্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোরগঞ্জে নৌকাবাইচের ইতিহাস প্রায় শত বছরের পুরোনো। নদী ও হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নৌকা বরাবরই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ হাওর ও নদীতে নৌকাই ছিল মানুষের অন্যতম প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। একসময় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে প্রতিবছর ভাদ্র মাসের প্রথম দিনে নিয়মিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এ আয়োজন দেখতে আসতেন। তবে সময়ের পরিবর্তন, আধুনিক বিনোদনের বিস্তার এবং নানা কারণে ধীরে ধীরে অনেক এলাকায় নৌকাবাইচের আয়োজন কমে গেছে। স্থানীয়রা মনে করেন, নৌকাবাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো নিয়মিত করা গেলে নতুন প্রজন্ম দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। ## হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ধরে রাখার দাবি স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় বর্ষা মৌসুমে নৌকাবাইচ ছিল গ্রামবাংলার অন্যতম প্রধান বিনোদন। নদী ও হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে মানুষ দলবেঁধে আসতেন। বর্তমানে আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যম মানুষের জীবনযাত্রায় জায়গা করে নেওয়ায় নৌকাবাইচের মতো লোকজ আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। ফলে এ ধরনের আয়োজনকে নিয়মিত করার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার নদী-নির্ভর জীবন, লোকসংগীত, নৌকার কারিগরি ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ মানুষের সামাজিক বন্ধন। ## উৎসবের আবহে মুখর সুরমা নদীর পাড় শনিবারের নৌকাবাইচে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ছিল উৎসবের আমেজ। নদীর বুকে নৌকার ছুটে চলা আর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উচ্ছ্বাসে সুরমা নদীর পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। মাঝিদের বৈঠার প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস বাড়তে থাকে। নৌকা যত দ্রুত সামনে এগিয়ে যায়, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা উপভোগ করে আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরেন দর্শনার্থীরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ইটনার এই নৌকাবাইচের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের হারিয়ে যেতে বসা নৌকাবাইচের ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।

ঝালকাঠিতে মাদকবিরোধী কর্মসূচি, নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ এলাকাবাসী

Update Time : ০৬:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝালকাঠি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্ব রোডসংলগ্ন ব্র্যাক মোড় এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাদকবিরোধী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধ ও তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান। প্রধান বক্তা ছিলেন ঝালকাঠি জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং বর্তমান জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রবিউল হোসেন তুহিন।

আরও পড়ুন  নেত্রকোণায় এমপির গাড়িতে হামলার অভিযোগ, উত্তেজনা এলাকায়

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. আজাদুর রহমান খান, ঝালকাঠি সাংবাদিক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আজম টুটুল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন মিয়া, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. অলিউর রহমান মিঠু গাজী, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ মিয়া, শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান খান বিপ্লব, মো. জাকির হোসেন মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে মো. রবিউল হোসেন তুহিন বলেন, এলাকায় স্থায়ীভাবে মাদক নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাদের মাদকের ধ্বংসাত্মক পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কেউ মাদক কার্যক্রম থেকে সরে না এলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার কথাও জানান।

আরও পড়ুন  আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ক্যামেরা আপগ্রেড

এর আগে ঝালকাঠি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদকাঠী চৌমাথা, রূপনগর, এবাদুল্লাহ মসজিদসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন রবিউল হোসেন তুহিন।

এ সময় বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। মাদকবিরোধী এ উদ্যোগ সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

আরও পড়ুন  বাঁশ-দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই