ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুমিল্লায় বৃদ্ধা ছমিরন হত্যা: ধানকাটা শ্রমিকের ছদ্মবেশে ঢুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার ৩ Logo বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট: ২৩ কোটিতে ২৩৮ কোটি, চমকপ্রদ সাফল্য Logo ৭ দিন পর খুলল রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, পর্যটকদের ভিড় Logo ইটনার হাওরে নৌকাবাইচ, লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস Logo জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব ব্যবসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদের Logo ঢাকার প্রেস ক্লাবে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত Logo জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ Logo রিচার্লিসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, নতুন ক্লাব পাচ্ছেন না ব্রাজিল তারকা Logo শাহজালাল বিমানবন্দরে ১২০টি স্বর্ণবার জব্দ করেছে কাস্টমস Logo বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তারেক রহমান

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব ব্যবসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদের

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব ব্যবসা

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে ব্যবসা ও শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাড়াতে হবে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। ব্যবসা ও শিল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা করা শুধু কৃষির জন্য নয়, দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিল্পায়ন ও নির্মাণকাজের প্রয়োজনে কৃষিজমির মাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।

একই সঙ্গে বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও উৎপাদনব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নির্মাণ খাতে পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, নির্মাণ খাতে ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ শিল্পের প্রসারে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের নির্মাণ খাতের চাহিদাও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে সরকারি প্রকৌশল বিভাগ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ব্লক উৎপাদক এবং নির্মাণ খাতের অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, টেকসই নির্মাণব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকেও পরিবেশের বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন উভয়ই উপকৃত হবে।

এ ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি উৎপাদন ও নির্মাণ কার্যক্রমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

নির্মাণ খাতে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করছে। ব্লক উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে শিল্পের প্রয়োজনীয় সহায়তা, নীতিগত সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়লে একদিকে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারের চাপ কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে নির্মাণ খাতে বিকল্প ও টেকসই উপকরণের ব্যবহার বাড়বে। ফলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নির্মাণ খাতের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন ও পরিচালন পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব।

বিশেষ করে শিল্পকারখানা, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশের ওপর চাপ কমানো যেতে পারে।

সভায় বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। এতে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় বৃদ্ধা ছমিরন হত্যা: ধানকাটা শ্রমিকের ছদ্মবেশে ঢুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার ৩

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব ব্যবসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদের

Update Time : ০৭:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে ব্যবসা ও শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাড়াতে হবে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। ব্যবসা ও শিল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা করা শুধু কৃষির জন্য নয়, দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিল্পায়ন ও নির্মাণকাজের প্রয়োজনে কৃষিজমির মাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।

আরও পড়ুন  ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, যা জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর

একই সঙ্গে বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও উৎপাদনব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নির্মাণ খাতে পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে পোড়া ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, নির্মাণ খাতে ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ শিল্পের প্রসারে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের নির্মাণ খাতের চাহিদাও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে সরকারি প্রকৌশল বিভাগ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ব্লক উৎপাদক এবং নির্মাণ খাতের অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, টেকসই নির্মাণব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকেও পরিবেশের বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে।

আরও পড়ুন  হবিগঞ্জে আকস্মিক বন্যায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন উভয়ই উপকৃত হবে।

এ ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি উৎপাদন ও নির্মাণ কার্যক্রমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

নির্মাণ খাতে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করছে। ব্লক উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে শিল্পের প্রয়োজনীয় সহায়তা, নীতিগত সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বাড়লে একদিকে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহারের চাপ কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে নির্মাণ খাতে বিকল্প ও টেকসই উপকরণের ব্যবহার বাড়বে। ফলে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নির্মাণ খাতের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন  উত্তপ্ত মরুভূমিতে উট সংকট: ভয়াবহ তাপপ্রবাহে বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন ও পরিচালন পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব।

বিশেষ করে শিল্পকারখানা, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশের ওপর চাপ কমানো যেতে পারে।

সভায় বক্তারা পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। এতে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।