ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নরেন্দ্র মোদীকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হায়দরাবাদে Logo খলনায়ক ডনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন Logo নেপালের শিক্ষক বাঁচালেন ৯০০ শিক্ষার্থী, অবিশ্বাস্য সাহসী সিদ্ধান্ত Logo খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে হাতকাটা কাশেম Logo পারেদেসের ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, ‘এটা কি বেশি নয়?’ Logo একসময় সাংবাদিকরা পয়সা ও হুমকির কাছে মাথা নত করেননি: রিজভী Logo বার্সেলোনার শেষ মুহূর্তের চমক, আসছেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস! Logo ছেলে থেকে মেয়ে, এবার ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চান অনয়া Logo ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না ৮ শ্রেণির মানুষ, জানুন নতুন শর্ত Logo আতলেতিকোর প্রিয় থেকে শত্রু আলভারেজ, শেষ পর্যন্ত কী হবে?

মেসি কি সত্যিই পেনাল্টিতে দুর্বল? পরিসংখ্যান যা বলছে

মেসি পেনাল্টি শট

বিশ্বকাপে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেও শেষ পর্যন্ত গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লিওনেল মেসি। তবে টুর্নামেন্টে অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে টানা দুটি পেনাল্টি মিস করার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—মেসি কি আসলেই পেনাল্টি নিতে দুর্বল? পরিসংখ্যান অবশ্য সেই ধারণাকে পুরোপুরি সমর্থন করে না।

মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করার পর মেসির উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারণত গোল করার পর তাঁকে এতটা আবেগপ্রবণ দেখা যায় না। গ্যালারির দিকে ছুটে গিয়ে লাফিয়ে উদ্‌যাপন করার দৃশ্যও অনেককে অবাক করেছে।

ম্যাচ শেষে মেসি নিজেই জানিয়েছেন, গোলটি করে তিনি অনেকটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করার পর তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো তিনি দলকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন। মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবে তাঁর শটটি দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন।

এই বিশ্বকাপেই এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন মেসি। ফলে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে টানা দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন তিনি। এমন ঘটনা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খুব বেশি দেখা যায়নি।

দুই দশকেরও বেশি সময়ের পেশাদার ক্যারিয়ারে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন মেসি পরপর দুটি পেনাল্টি মিস করলেন। তবে এবারের ঘটনাটি বেশি আলোচনায় এসেছে কারণ দুটি ব্যর্থতার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল খুবই কম।

মেসির প্রথম বড় পেনাল্টি খরা দেখা যায় ২০১৪ সালে। ওই বছরের ৫ এপ্রিল স্প্যানিশ লিগে রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার ম্যাচে গোলরক্ষক আন্তোনিও আদান তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। সেটিই ছিল ধারাবাহিক ব্যর্থতার শুরু।

এরপর একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে আরেকটি পেনাল্টি মিস করেন মেসি। পরে ১১ অক্টোবর আর্জেন্টিনার হয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গোলরক্ষক জেফারসন তাঁর শট রুখে দিলে টানা তিনটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড গড়েন তিনি।

তবে ওই সময়েও পেনাল্টি শুটআউটে সফল ছিলেন মেসি। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনি গোল করেন। সেই ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা, যদিও শেষ পর্যন্ত জার্মানির কাছে শিরোপা হারাতে হয়।

২০২১ সালেও আরেকবার পেনাল্টি নিয়ে কঠিন সময় পার করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষে কেইলর নাভাস তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। কয়েক সপ্তাহ পর ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে সরাসরি গোল করতে পারেননি।

তবে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন মেসি। পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফর্মার। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাঁর মোট গোলসংখ্যাও এখন ২১, যা একটি অনন্য রেকর্ড।

বিশ্বকাপে পেনাল্টি রেকর্ড অবশ্য মেসির জন্য খুব সুখকর নয়। বিশ্বকাপে পাওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে চারটিতেই গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করার রেকর্ডও তাঁর নামের পাশে রয়েছে।

তবে পুরো ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান দেখলে চিত্রটা ভিন্ন। মেসি মোট ১৬১টি পেনাল্টি নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২৫টিতে সফল হয়েছেন, ২৭টি গোলরক্ষক সেভ করেছেন এবং ৯টি শট গেছে পোস্টের বাইরে।

অর্থাৎ ক্যারিয়ারে তাঁর পেনাল্টি সফলতার হার ৭৭.৬৪ শতাংশ। আধুনিক ফুটবলের মানদণ্ডে এটি বেশ ভালো একটি রেকর্ড। তাই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিসের কারণে তাঁকে দুর্বল পেনাল্টি টেকার বলা কঠিন।

ক্লাব ফুটবলেও পেনাল্টি থেকে নিয়মিত গোল করেছেন মেসি। বার্সেলোনার হয়ে ১০৭টি পেনাল্টির মধ্যে ৮২টিতে গোল করেন। পিএসজিতে চারটির মধ্যে তিনটি এবং ইন্টার মায়ামিতে নয়টির মধ্যে আটটি পেনাল্টি সফলভাবে জালে পাঠিয়েছেন।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও তাঁর রেকর্ড প্রশংসনীয়। নির্ধারিত সময়ে নেওয়া ৩২টি পেনাল্টির মধ্যে ২৫টিতেই গোল করেছেন তিনি। তাই সাম্প্রতিক দুটি ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হলেও পরিসংখ্যান বলছে, পেনাল্টি স্পট থেকে মেসি এখনো বিশ্বের অন্যতম সফল ফুটবলারদের একজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নরেন্দ্র মোদীকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হায়দরাবাদে

মেসি কি সত্যিই পেনাল্টিতে দুর্বল? পরিসংখ্যান যা বলছে

Update Time : ০১:২৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেও শেষ পর্যন্ত গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লিওনেল মেসি। তবে টুর্নামেন্টে অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে টানা দুটি পেনাল্টি মিস করার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—মেসি কি আসলেই পেনাল্টি নিতে দুর্বল? পরিসংখ্যান অবশ্য সেই ধারণাকে পুরোপুরি সমর্থন করে না।

মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করার পর মেসির উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সাধারণত গোল করার পর তাঁকে এতটা আবেগপ্রবণ দেখা যায় না। গ্যালারির দিকে ছুটে গিয়ে লাফিয়ে উদ্‌যাপন করার দৃশ্যও অনেককে অবাক করেছে।

ম্যাচ শেষে মেসি নিজেই জানিয়েছেন, গোলটি করে তিনি অনেকটা স্বস্তি পেয়েছিলেন। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করার পর তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো তিনি দলকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন। মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবে তাঁর শটটি দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন।

এই বিশ্বকাপেই এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন মেসি। ফলে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে টানা দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন তিনি। এমন ঘটনা তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খুব বেশি দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন  কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে নতুন ‘ভোজিনিয়া’

দুই দশকেরও বেশি সময়ের পেশাদার ক্যারিয়ারে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন মেসি পরপর দুটি পেনাল্টি মিস করলেন। তবে এবারের ঘটনাটি বেশি আলোচনায় এসেছে কারণ দুটি ব্যর্থতার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল খুবই কম।

মেসির প্রথম বড় পেনাল্টি খরা দেখা যায় ২০১৪ সালে। ওই বছরের ৫ এপ্রিল স্প্যানিশ লিগে রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার ম্যাচে গোলরক্ষক আন্তোনিও আদান তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। সেটিই ছিল ধারাবাহিক ব্যর্থতার শুরু।

এরপর একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে আরেকটি পেনাল্টি মিস করেন মেসি। পরে ১১ অক্টোবর আর্জেন্টিনার হয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গোলরক্ষক জেফারসন তাঁর শট রুখে দিলে টানা তিনটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড গড়েন তিনি।

আরও পড়ুন  হীরক জয়ন্তীর আনন্দ দ্বিগুণ করার সুযোগ ইংল্যান্ডের সামনে

তবে ওই সময়েও পেনাল্টি শুটআউটে সফল ছিলেন মেসি। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনি গোল করেন। সেই ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা, যদিও শেষ পর্যন্ত জার্মানির কাছে শিরোপা হারাতে হয়।

২০২১ সালেও আরেকবার পেনাল্টি নিয়ে কঠিন সময় পার করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষে কেইলর নাভাস তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। কয়েক সপ্তাহ পর ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে সরাসরি গোল করতে পারেননি।

তবে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন মেসি। পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফর্মার। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাঁর মোট গোলসংখ্যাও এখন ২১, যা একটি অনন্য রেকর্ড।

বিশ্বকাপে পেনাল্টি রেকর্ড অবশ্য মেসির জন্য খুব সুখকর নয়। বিশ্বকাপে পাওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে চারটিতেই গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করার রেকর্ডও তাঁর নামের পাশে রয়েছে।

আরও পড়ুন  Wafcon 2026 প্রথম শিরোপা জিতল ক্যামেরুন

তবে পুরো ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান দেখলে চিত্রটা ভিন্ন। মেসি মোট ১৬১টি পেনাল্টি নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২৫টিতে সফল হয়েছেন, ২৭টি গোলরক্ষক সেভ করেছেন এবং ৯টি শট গেছে পোস্টের বাইরে।

অর্থাৎ ক্যারিয়ারে তাঁর পেনাল্টি সফলতার হার ৭৭.৬৪ শতাংশ। আধুনিক ফুটবলের মানদণ্ডে এটি বেশ ভালো একটি রেকর্ড। তাই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিসের কারণে তাঁকে দুর্বল পেনাল্টি টেকার বলা কঠিন।

ক্লাব ফুটবলেও পেনাল্টি থেকে নিয়মিত গোল করেছেন মেসি। বার্সেলোনার হয়ে ১০৭টি পেনাল্টির মধ্যে ৮২টিতে গোল করেন। পিএসজিতে চারটির মধ্যে তিনটি এবং ইন্টার মায়ামিতে নয়টির মধ্যে আটটি পেনাল্টি সফলভাবে জালে পাঠিয়েছেন।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও তাঁর রেকর্ড প্রশংসনীয়। নির্ধারিত সময়ে নেওয়া ৩২টি পেনাল্টির মধ্যে ২৫টিতেই গোল করেছেন তিনি। তাই সাম্প্রতিক দুটি ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হলেও পরিসংখ্যান বলছে, পেনাল্টি স্পট থেকে মেসি এখনো বিশ্বের অন্যতম সফল ফুটবলারদের একজন।