সুন্দরবনে আবারও বনদস্যুদের তৎপরতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে উপকূলীয় এলাকায়। শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচর এলাকায় নদীতে মাছ ধরার সময় ট্রলারসহ ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। সুন্দরবনে ১২ জেলে অপহরণের এ ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহৃত জেলেরা সবাই বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা কয়েকদিন ধরে সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অপহৃতরা হলেন—ইয়াসিন (২৫), মাসুম (৫৮), সেলিম (২৫), জাকির (২৮), হোসেন (৩০), তৌহিদ (২৮), ইয়াসিন (২০), মাহবুব (২৪), হানিফ (৩৫), হৃদয় (২৬), ইব্রাহিম (৪০) ও সুমন (২৭)। তাদের বাড়ি পাথরঘাটার রুহিতা এলাকায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। জেলেদের মহাজন পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গভীর রাতে সশস্ত্র বনদস্যুরা হঠাৎ করে ট্রলারে হামলা চালায়। পরে একটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে জিম্মি করে নিয়ে যায় তারা। একই সময়ে আরও কয়েকজন জেলে বনদস্যুদের কবলে আটকা পড়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মৎস্য ব্যবসায়ীর ভাষ্য অনুযায়ী, বনদস্যুরা সংখ্যায় ১৫ থেকে ১৬ জন ছিল। তাদের সবার কাছেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং তারা বিশেষ ধরনের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিল। দস্যুরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালিয়ে জেলেদের অপহরণ করে বলে জানান তিনি। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, সুন্দরবনে মাছ ধরতে গেলে প্রায়ই বনদস্যুদের ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। অনেক সময় মুক্তিপণের জন্য জেলেদের অপহরণ করা হয়। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলেকে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমান বলেন, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই বনরক্ষীরা অভিযান শুরু করেছেন। দস্যুদের অবস্থান শনাক্ত করতে সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীপথে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত অপহৃত জেলেদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে তাদের উদ্ধারে বনবিভাগের সদস্যরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীমুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে বলে জানান তিনি। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অভিযোগ, সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমলেও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। মাঝেমধ্যেই অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। এতে জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সুন্দরবনে নিয়মিত যৌথ অভিযান জোরদার করা না হলে বনদস্যুদের তৎপরতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে মাছ ধরার মৌসুমে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীপথে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। সুন্দরবনে ১২ জেলে অপহরণের ঘটনায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। প্রিয়জনদের নিরাপদে ফেরত পাওয়ার আশায় দিন কাটছে স্বজনদের। একই সঙ্গে দ্রুত বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।






















