স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের রাতটি শুধু লামিনে ইয়ামালের জন্যই নয়, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে তাঁর প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া সান্তোসকেও। ফাইনালের পর মাঠে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনেসকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। রাতারাতি তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে ফুটবলভক্তরা ইয়ামালের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
বিশ্বকাপ জয়ের পর যখন স্পেনের ফুটবলাররা ‘ভিভা এসপানিয়া’ স্লোগানে উদযাপনে মেতে ছিলেন, তখনই মাঠে প্রবেশ করেন ২১ বছর বয়সী ইনেস গার্সিয়া সান্তোস। পেশায় তিনি একজন মডেল ও ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার। ক্যামেরার সামনে কখনও ইয়ামালের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে, আবার কখনও মজার ছলে তাঁর দিকে টিস্যু ছুড়ে দিতে দেখা যায় ইনেসকে। সেই মুহূর্তগুলো দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর ইনেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামালকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি আবেগঘন বার্তা পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘তুমি পেরেছ। অভিনন্দন, আমার ভালোবাসা। অভিনন্দন, আমার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!’ এই পোস্টটি অল্প সময়েই লাখো মানুষের নজর কাড়ে এবং হাজার হাজার মন্তব্য ও শেয়ার পায়।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে ইয়ামাল ও ইনেসের পরিচয় হয়। প্রথমে ইনস্টাগ্রামে ইয়ামালই ইনেসকে সরাসরি বার্তা (ডিএম) পাঠিয়েছিলেন। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে এবং পরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। যদিও দুজনই শুরুতে নিজেদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনেননি।
২০২৬ সালের মে মাসে বার্সেলোনার একটি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রথমবার প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা যায় এই জুটিকে। একই মাসে বার্সেলোনার ঘরোয়া তিনটি শিরোপা জয়ের অনুষ্ঠানে তাঁরা একসঙ্গে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে হাত ধরে প্রবেশ ও বের হওয়ার ছবি বার্সেলোনার অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়, যা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
শুধু স্পেনেই নয়, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরেও একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেছে ইয়ামাল ও ইনেসকে। নিউইয়র্কে গভীর রাতে একটি হালাল ফুড কার্টে তাঁদের একসঙ্গে খাবার খাওয়ার ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব মুহূর্ত তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করে তোলে।
বিশ্বকাপ ফাইনালেও মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ইনেস। স্পেনের শিরোপা জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠে নেমে ইয়ামালের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন তিনি। বিশ্বজুড়ে সম্প্রচারিত সেই উদযাপনের দৃশ্য ইনেসকে রাতারাতি আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। ফলে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে নতুন অনুসারীর ঢল নামে।
ফুটবলভক্তদের পাশাপাশি ফ্যাশন ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের কাছেও এখন আলোচনার নাম ইনেস গার্সিয়া সান্তোস। ইয়ামাল ও ইনেসের বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত সম্পর্ক ইতোমধ্যেই ভক্তদের মন জয় করেছে। ভবিষ্যতে তাঁদের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা সময়ই বলে দেবে। তবে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের স্মরণীয় রাতের অন্যতম আলোচিত মুখ হিসেবে ইনেস গার্সিয়া সান্তোস ইতোমধ্যেই নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।



























