শিশুর লাশ উদ্ধার ঘটনাকে ঘিরে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় ছুটির পর নিখোঁজ হওয়া তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়ির আলমারির ভেতর থেকে। পরে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে এক নারী নিহত হন। পুরো ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সোমবার সকালে নিয়মমাফিক বিদ্যালয়ে যায় নয় বছর বয়সী ফারজানা সুলতানা। কিন্তু ছুটি শেষে সে আর বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি কালীগঞ্জ থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় অনুসন্ধান চালায়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর রাতের দিকে বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়ির আলমারির ড্রয়ারের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশ ওই বাড়ির বাসিন্দা সুমাইয়াকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, শিশুটির কানের স্বর্ণের দুলের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেনি পুলিশ। তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত সন্দেহে এক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল। তিনি বলেন, শিশুর মরদেহ উদ্ধার এবং পরবর্তী সহিংসতার পুরো ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানানো হবে।
এই শিশুর লাশ উদ্ধার ঘটনা আবারও শিশু নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং গণপিটুনির মতো বেআইনি প্রবণতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলেও বিচার করার দায়িত্ব আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তাই গুজব বা ক্ষোভের বশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরাই সবার দায়িত্ব।




























