জুলাই যোদ্ধা নাসির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তরুণদের ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সাক্ষাতের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী হাস্যরসের ছলে আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত নাসিরের টিনের ঢাল ও লোহার পাইপের কথা জানতে চান। জবাবে নাসির বলেন, আন্দোলনের সেই প্রতীকী সরঞ্জাম তিনি ঘটনাস্থলেই রেখে এসেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, এত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি অসাধারণ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন।
আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তিনি কোনো পরিচয়পত্র বা কার্ড নিয়েছেন কি না। নাসির স্পষ্টভাবে জানান, আন্দোলনের স্বীকৃতি বা সুবিধা পাওয়ার জন্য তিনি কোনো কার্ড করেননি। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে নাসির বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ চান যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে। ভালো কাজের প্রশংসা এবং খারাপ কাজের সমালোচনা করার অধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সময় পেলে আরও পরিবর্তন সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীও তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গঠনের আহ্বান জানান। তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। নাসির বিদায়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনা করেন এবং নিজের জন্যও দোয়া চান।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পুলিশের সামনে টিনের ঢাল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা জুলাই যোদ্ধা নাসির-এর ছবি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। সেই সাহসী মুহূর্ত আজও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা হয়। সাম্প্রতিক এই সাক্ষাৎ নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণের বিষয়টিকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।




























