ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু Logo রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি Logo ঢাকা আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার, গুরুত্ব পাবে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষা Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৮ নিহত, দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত Logo কক্সবাজারে বৃষ্টির ধাক্কা, কম দামে বিপাকে ৪২ হাজার লবণচাষি Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo শিশুর শরীরে কালো দাগ কেন হয়? অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানুন Logo আয়োকিগাহারা ফরেস্ট: জাপানের রহস্যময় ‘সুইসাইড ফরেস্ট’ এর অজানা সত্য Logo মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি Logo ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ইঙ্গিত

খুলনায় বন্ধুর হাতে হাসিব হত্যা, নাটকীয় তদন্তে উদ্ঘাটন

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ০১:০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৭

চিত্রঃ বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে দিনমজুরের কাজ করতেন দুই বন্ধু হাসিব মৃধা ও মো. সোহেল। প্রতিদিনের মতো কাজের সন্ধানে বের হওয়া এই দুই তরুণ হঠাৎ একদিন একসঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও সময়ের সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর হঠাৎ করেই বাড়ি ফিরে আসেন সোহেল। কিন্তু তাঁর সঙ্গে থাকা হাসিবের কোনো খোঁজ মেলে না। এতে করে পরিবারের মধ্যে শুরু হয় দুশ্চিন্তা ও সন্দেহ। কোথায় গেলেন হাসিব—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে সবার মনে।

হাসিবের মা সুইটি বেগম ছুটে যান তাঁর ছেলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সোহেলের কাছে। ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল জানান, তারা দুজন কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকায় গিয়েছিলেন। তিনি নিজে ফিরে এলেও হাসিব নাকি আর ফেরেননি। সোহেলের এই বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারেননি হাসিবের পরিবার। তবুও ছেলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠেন মা সুইটি বেগম ও বাবা হাসান মৃধা। তারা জানতে চান, কোথায় রেখে আসা হয়েছে তাদের ছেলেকে এবং কেন সে ফেরেনি।

সোহেল তখন জানান, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা এলাকার বটমূলে হাসিবকে রেখে তিনি নিজে ফিরে আসেন। এই তথ্য শুনে ছেলের খোঁজে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হাসিবের মা-বাবা। ২৫ সেপ্টেম্বর সোহেল নিজেই তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ট্রেনে করে ঢাকায় যান। সেখানে গিয়ে তারা রমনার বটমূল, মৎস্য ভবন, শাহবাগ ও গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজার এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও হাসিবের কোনো সন্ধান মেলেনি।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোঁজার পর ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে খুলনায় ফিরে আসেন তাঁরা। তখনো কেউ বুঝতে পারেননি, যিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছেলেকে খুঁজতে সাহায্য করছেন, তিনিই আসলে এই ঘটনার মূল রহস্য লুকিয়ে রেখেছেন। এরই মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর খুলনার লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার কাছে রূপসা নদীর তীরে একটি অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা করে এবং লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। শুরুতে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ রহস্যময় ছিল এবং কোনো সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনা জেলা। তারা আশপাশের এলাকা ও থানাগুলোতে খোঁজ নিতে শুরু করে, ওই সময়ের মধ্যে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির অভিযোগ রয়েছে কি না।

এই অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তারা লবণচরা থানায় একটি নিখোঁজের অভিযোগের সন্ধান পায়। সেই সূত্র ধরে যোগাযোগ করা হয় হাসিবের মা সুইটি বেগমের সঙ্গে। ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে উদ্ধার হওয়া লাশের স্থিরচিত্র দেখানো হয়। লাশের ডান হাতের বাহুতে থাকা ট্যাটু, পরনের পোশাক ও শারীরিক গঠন দেখে তিনি নিশ্চিত হন, এটি তাঁর ছেলে হাসিব মৃধার লাশ।

লাশ শনাক্ত হওয়ার পরপরই সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন হাসিবের বন্ধু সোহেল। যদিও প্রথমদিকে তিনি কোনো ধরনের অপরাধ স্বীকার করেননি। কিন্তু তদন্তকারীরা তাঁকে নজরদারিতে রাখেন। এদিকে অন্য একটি চুরির মামলায় সোহেল গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে চলে যান। এরপর ১৮ নভেম্বর খুলনা সদর থানায় তাঁকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন হাসিবের মা সুইটি বেগম। ২৫ নভেম্বর সোহেলকে এই মামলায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। টানা জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ভেঙে পড়েন এবং ২৭ নভেম্বর আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা রেজোয়ান আহমেদ জানান, পারিপার্শ্বিক তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, হাসিবকে হত্যা করেছেন সোহেল। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে আনা হলে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বেরিয়ে আসে। জবানবন্দিতে সোহেল জানান, ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর তিনি হাসিবকে খুলনার হেলাতলা মোড় থেকে ইজিবাইকে করে রূপসা নদীর তীরে নিয়ে যান। সেখানে তারা দুজন আঠা জাতীয় নেশাদ্রব্য সেবন করেন।

একপর্যায়ে নেশা করা নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এই তর্ক ধীরে ধীরে ঝগড়ায় রূপ নেয়। উত্তেজিত হয়ে সোহেল হাসিবের বুকের নিচে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে করে হাসিব অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। তখন সোহেল মনে করেন, হাসিব মারা গেছেন। ভয় পেয়ে তিনি লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে হাসিবকে রূপসা নদীতে ফেলে দেন।

ঘটনার পর এলাকায় ফিরে এসে তিনি স্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। এমনকি নিখোঁজ বন্ধুকে খোঁজার নাটকও করেন, যাতে কেউ তাঁর ওপর সন্দেহ না করে। খুলনা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, শুরুতে ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ রহস্যময়। কিন্তু লাশ শনাক্ত হওয়ার পর প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং শিগগিরই এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধুত্বের আড়ালে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড মানুষের মনে গভীর দাগ ফেলেছে এবং অনেকেই এ ঘটনায় হতবাক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

খুলনায় বন্ধুর হাতে হাসিব হত্যা, নাটকীয় তদন্তে উদ্ঘাটন

Update Time : ০১:০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে দিনমজুরের কাজ করতেন দুই বন্ধু হাসিব মৃধা ও মো. সোহেল। প্রতিদিনের মতো কাজের সন্ধানে বের হওয়া এই দুই তরুণ হঠাৎ একদিন একসঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও সময়ের সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর হঠাৎ করেই বাড়ি ফিরে আসেন সোহেল। কিন্তু তাঁর সঙ্গে থাকা হাসিবের কোনো খোঁজ মেলে না। এতে করে পরিবারের মধ্যে শুরু হয় দুশ্চিন্তা ও সন্দেহ। কোথায় গেলেন হাসিব—এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে সবার মনে।

হাসিবের মা সুইটি বেগম ছুটে যান তাঁর ছেলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সোহেলের কাছে। ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল জানান, তারা দুজন কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকায় গিয়েছিলেন। তিনি নিজে ফিরে এলেও হাসিব নাকি আর ফেরেননি। সোহেলের এই বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারেননি হাসিবের পরিবার। তবুও ছেলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠেন মা সুইটি বেগম ও বাবা হাসান মৃধা। তারা জানতে চান, কোথায় রেখে আসা হয়েছে তাদের ছেলেকে এবং কেন সে ফেরেনি।

সোহেল তখন জানান, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা এলাকার বটমূলে হাসিবকে রেখে তিনি নিজে ফিরে আসেন। এই তথ্য শুনে ছেলের খোঁজে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হাসিবের মা-বাবা। ২৫ সেপ্টেম্বর সোহেল নিজেই তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ট্রেনে করে ঢাকায় যান। সেখানে গিয়ে তারা রমনার বটমূল, মৎস্য ভবন, শাহবাগ ও গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজার এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও হাসিবের কোনো সন্ধান মেলেনি।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোঁজার পর ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে খুলনায় ফিরে আসেন তাঁরা। তখনো কেউ বুঝতে পারেননি, যিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছেলেকে খুঁজতে সাহায্য করছেন, তিনিই আসলে এই ঘটনার মূল রহস্য লুকিয়ে রেখেছেন। এরই মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর খুলনার লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার কাছে রূপসা নদীর তীরে একটি অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ একটি অপমৃত্যুর মামলা করে এবং লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। শুরুতে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ রহস্যময় ছিল এবং কোনো সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনা জেলা। তারা আশপাশের এলাকা ও থানাগুলোতে খোঁজ নিতে শুরু করে, ওই সময়ের মধ্যে কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির অভিযোগ রয়েছে কি না।

এই অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তারা লবণচরা থানায় একটি নিখোঁজের অভিযোগের সন্ধান পায়। সেই সূত্র ধরে যোগাযোগ করা হয় হাসিবের মা সুইটি বেগমের সঙ্গে। ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে উদ্ধার হওয়া লাশের স্থিরচিত্র দেখানো হয়। লাশের ডান হাতের বাহুতে থাকা ট্যাটু, পরনের পোশাক ও শারীরিক গঠন দেখে তিনি নিশ্চিত হন, এটি তাঁর ছেলে হাসিব মৃধার লাশ।

লাশ শনাক্ত হওয়ার পরপরই সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন হাসিবের বন্ধু সোহেল। যদিও প্রথমদিকে তিনি কোনো ধরনের অপরাধ স্বীকার করেননি। কিন্তু তদন্তকারীরা তাঁকে নজরদারিতে রাখেন। এদিকে অন্য একটি চুরির মামলায় সোহেল গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে চলে যান। এরপর ১৮ নভেম্বর খুলনা সদর থানায় তাঁকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন হাসিবের মা সুইটি বেগম। ২৫ নভেম্বর সোহেলকে এই মামলায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। টানা জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ভেঙে পড়েন এবং ২৭ নভেম্বর আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা রেজোয়ান আহমেদ জানান, পারিপার্শ্বিক তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, হাসিবকে হত্যা করেছেন সোহেল। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে আনা হলে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বেরিয়ে আসে। জবানবন্দিতে সোহেল জানান, ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর তিনি হাসিবকে খুলনার হেলাতলা মোড় থেকে ইজিবাইকে করে রূপসা নদীর তীরে নিয়ে যান। সেখানে তারা দুজন আঠা জাতীয় নেশাদ্রব্য সেবন করেন।

একপর্যায়ে নেশা করা নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এই তর্ক ধীরে ধীরে ঝগড়ায় রূপ নেয়। উত্তেজিত হয়ে সোহেল হাসিবের বুকের নিচে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে করে হাসিব অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। তখন সোহেল মনে করেন, হাসিব মারা গেছেন। ভয় পেয়ে তিনি লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে হাসিবকে রূপসা নদীতে ফেলে দেন।

ঘটনার পর এলাকায় ফিরে এসে তিনি স্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। এমনকি নিখোঁজ বন্ধুকে খোঁজার নাটকও করেন, যাতে কেউ তাঁর ওপর সন্দেহ না করে। খুলনা জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, শুরুতে ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ রহস্যময়। কিন্তু লাশ শনাক্ত হওয়ার পর প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং শিগগিরই এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধুত্বের আড়ালে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড মানুষের মনে গভীর দাগ ফেলেছে এবং অনেকেই এ ঘটনায় হতবাক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।