ঢাকা ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি, ফিফায় বড় সংকটের ইঙ্গিত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০১

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি উঠেছে। | ছবি: সংগৃহীত

ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ। তিন কনফেডারেশনের শীর্ষ নেতারা যৌথ চিঠিতে ফিফার নেতৃত্ব ও বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, ফুটবলের বৈশ্বিক ঐতিহ্য ও বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব একতরফাভাবে বিক্রির উদ্যোগ আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

যৌথ চিঠিতে এমন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে, যারা ফুটবলকে নিয়ন্ত্রণ করার বদলে এর সেবা করবে। তিন কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছেন উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন, এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানি। তাদের এমন সরাসরি অবস্থান আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রশাসনে বড় ধরনের বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবির পাশাপাশি তিন কনফেডারেশন আরও বড় পদক্ষেপের কথা ভাবছে। ফিফার প্রতিযোগিতার বিকল্প হিসেবে নতুন ও প্রতিদ্বন্দ্বী টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বর্তমান প্রতিযোগিতা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে ফিফার সঙ্গে ইউরোপসহ অন্যান্য কনফেডারেশনের সম্পর্ক আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে উয়েফার পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ নিয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে। ইউরোপীয় দলগুলো অংশ না নিলে টুর্নামেন্টটি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। কারণ বিশ্ব ফুটবলে ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর অংশগ্রহণ সাধারণত প্রতিযোগিতার মর্যাদা ও দর্শক আগ্রহ বাড়ায়।

ফিফার বিশ্বকাপ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বাণিজ্যিক স্বার্থ, সম্প্রচার অধিকার এবং অংশীদারত্ব এখন ফুটবল প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব সিদ্ধান্তে কনফেডারেশনগুলোর মতামত ও অংশগ্রহণ কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা নিয়েই মূল বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগের কারণে ফিফার সঙ্গে মহাদেশীয় সংস্থাগুলোর দূরত্ব আরও বাড়ছে।

সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রশাসনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তিন প্রভাবশালী কনফেডারেশনের যৌথ অবস্থান ফিফার নেতৃত্বের জন্য বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। তবে ইনফান্তিনো বা ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে এবং বিকল্প প্রতিযোগিতা আয়োজনের আলোচনা কতদূর এগোয়, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের নজরে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি, ফিফায় বড় সংকটের ইঙ্গিত

Update Time : ০৯:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ। তিন কনফেডারেশনের শীর্ষ নেতারা যৌথ চিঠিতে ফিফার নেতৃত্ব ও বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, ফুটবলের বৈশ্বিক ঐতিহ্য ও বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব একতরফাভাবে বিক্রির উদ্যোগ আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

যৌথ চিঠিতে এমন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে, যারা ফুটবলকে নিয়ন্ত্রণ করার বদলে এর সেবা করবে। তিন কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছেন উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন, এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানি। তাদের এমন সরাসরি অবস্থান আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রশাসনে বড় ধরনের বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুন  আলাদা টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা, ইনফান্তিনোর জন্য বড় ধাক্কা

ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবির পাশাপাশি তিন কনফেডারেশন আরও বড় পদক্ষেপের কথা ভাবছে। ফিফার প্রতিযোগিতার বিকল্প হিসেবে নতুন ও প্রতিদ্বন্দ্বী টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বর্তমান প্রতিযোগিতা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে ফিফার সঙ্গে ইউরোপসহ অন্যান্য কনফেডারেশনের সম্পর্ক আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  রোনালদোর ২০ বছরের অপেক্ষা, এবার কি ভাঙবে বিশ্বকাপের গোলখরা?

বিশেষ করে উয়েফার পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ নিয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে। ইউরোপীয় দলগুলো অংশ না নিলে টুর্নামেন্টটি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। কারণ বিশ্ব ফুটবলে ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর অংশগ্রহণ সাধারণত প্রতিযোগিতার মর্যাদা ও দর্শক আগ্রহ বাড়ায়।

ফিফার বিশ্বকাপ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বাণিজ্যিক স্বার্থ, সম্প্রচার অধিকার এবং অংশীদারত্ব এখন ফুটবল প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব সিদ্ধান্তে কনফেডারেশনগুলোর মতামত ও অংশগ্রহণ কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা নিয়েই মূল বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগের কারণে ফিফার সঙ্গে মহাদেশীয় সংস্থাগুলোর দূরত্ব আরও বাড়ছে।

আরও পড়ুন  ফিফা নথি সংরক্ষণে কড়া সতর্কতা, উয়েফার আইনি বার্তা

সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রশাসনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তিন প্রভাবশালী কনফেডারেশনের যৌথ অবস্থান ফিফার নেতৃত্বের জন্য বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। তবে ইনফান্তিনো বা ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে এবং বিকল্প প্রতিযোগিতা আয়োজনের আলোচনা কতদূর এগোয়, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের নজরে।