ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১১১

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৫১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। | ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানে। এতে কালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কম্পনের প্রভাব প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। মূল কম্পনের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি কালি। সেখানে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, অন্তত ২০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং আরও কয়েকশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও হাতে হাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে পড়াদের খুঁজছেন।

রিসারালদা অঞ্চলে অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অঞ্চলটির রাজধানী পেরেইরাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভালে দেল কাউকা অঞ্চলে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন, যাদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি চোকো অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা সেখানে অন্তত ১২ জন নিহত ও ৮৪ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পেরেইরা, মানিজালেস ও অন্যান্য শহরেও ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। পেরেইরা বিমানবন্দরের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে। মানিজালেসের ঐতিহাসিক নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের একটি পাশের টাওয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করছেন।

এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বড় এই দুর্যোগের মুখে পড়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা। তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও জরুরি আশ্রয়, খাদ্য ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ১৫.৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। কয়েকটি দেশ উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর আগ্রহ জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১১১

Update Time : ০৮:৫১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

কলম্বিয়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানে। এতে কালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কম্পনের প্রভাব প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। মূল কম্পনের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন  হরমুজে ভারতীয় নাবিক নিহত, ইরানের কাছে দিল্লির প্রতিবাদ

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি কালি। সেখানে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, অন্তত ২০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং আরও কয়েকশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও হাতে হাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে পড়াদের খুঁজছেন।

রিসারালদা অঞ্চলে অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অঞ্চলটির রাজধানী পেরেইরাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভালে দেল কাউকা অঞ্চলে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন, যাদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি চোকো অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা সেখানে অন্তত ১২ জন নিহত ও ৮৪ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  চার বছরে পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী, বার্নহ্যাম কি বদলাবেন যুক্তরাজ্য?

পেরেইরা, মানিজালেস ও অন্যান্য শহরেও ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। পেরেইরা বিমানবন্দরের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়েছে। মানিজালেসের ঐতিহাসিক নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের একটি পাশের টাওয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করছেন।

এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বড় এই দুর্যোগের মুখে পড়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলা। তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও জরুরি আশ্রয়, খাদ্য ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ১৫.৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। কয়েকটি দেশ উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানোর আগ্রহ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক পোস্ট: ‘ইরান খুব খারাপভাবে হারছে’