ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সৌদি আরবে আগুনে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, হৃদয়বিদারক ঘটনা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৫৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

রিয়াদের শিল্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের প্রতীকী দৃশ্য। | ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে আগুনে প্রাণ গেল ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের। রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি শুধু সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই নয়, দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলোর মধ্যেও গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় ও বাংলাদেশি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করতেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনই আগুনে দগ্ধ হয়ে এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে মারা যান। খবরটি প্রকাশের পর থেকেই নিহতদের পরিচয় ও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ঘটনার সময় কারখানাটিতে থাকা শ্রমিকদের অধিকাংশই আগুনের ভয়াবহতার মধ্যে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তাদের বের হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন হাবিবুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিক। অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি কারখানায় ছিলেন না। জানা গেছে, আগুন লাগার কিছু আগে তিনি সেলুনে শেভ করতে গিয়েছিলেন। ফলে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা থেকে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। একই কারখানে কর্মরত সহকর্মীদের হারানোর পর তার বেঁচে ফেরার ঘটনাটিও এখন স্বজনদের আলোচনায় এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী এবং কারখানাটিতে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। জানা গেছে, ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই এলাকায়। অন্য তিনজনের মধ্যে দুজন নাটোর জেলার এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। ফলে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এসব এলাকার পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের আবহ। সৌদি আরবে কর্মরত স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রবাসে কর্মরত একজন মানুষের আকস্মিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানো নয়, বরং পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয়। এ কারণে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি উঠেছে।

সৌদি আরবে আগুন লাগার পর দুপুর থেকে শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ৮টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে কারখানার ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। রাত ১১টার দিকে মরদেহগুলো কিং সৌদ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ শুরু করেন।

এদিকে ভয়াবহ এই ঘটনায় রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস জানিয়েছে, মুসা সানাইয়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি হতাহত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। দূতাবাস নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তার জন্য কাজ করছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংকটের সময়ে দূতাবাসের এই তৎপরতা নিহতদের পরিবারকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এই দুর্ঘটনা আবারও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে শিল্প ও কারখানায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং কর্মীদের জরুরি পরিস্থিতিতে বের হয়ে আসার প্রশিক্ষণ কতটা কার্যকর—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। সৌদি আরবে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দূতাবাসেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্বজনরা এখন দ্রুত মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বার্সা ছাড়তে চান তোরেস, পিএসজিতে যাওয়ার জোর গুঞ্জন

সৌদি আরবে আগুনে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, হৃদয়বিদারক ঘটনা

Update Time : ০৮:৫৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবে আগুনে প্রাণ গেল ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের। রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি শুধু সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই নয়, দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলোর মধ্যেও গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় ও বাংলাদেশি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করতেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনই আগুনে দগ্ধ হয়ে এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে মারা যান। খবরটি প্রকাশের পর থেকেই নিহতদের পরিচয় ও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ঘটনার সময় কারখানাটিতে থাকা শ্রমিকদের অধিকাংশই আগুনের ভয়াবহতার মধ্যে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তাদের বের হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন হাবিবুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিক। অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি কারখানায় ছিলেন না। জানা গেছে, আগুন লাগার কিছু আগে তিনি সেলুনে শেভ করতে গিয়েছিলেন। ফলে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা থেকে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। একই কারখানে কর্মরত সহকর্মীদের হারানোর পর তার বেঁচে ফেরার ঘটনাটিও এখন স্বজনদের আলোচনায় এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী এবং কারখানাটিতে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন  নোরা ফাতেহির সঙ্গে নতুন গানে আবারও সঞ্জয়

নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। জানা গেছে, ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই এলাকায়। অন্য তিনজনের মধ্যে দুজন নাটোর জেলার এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। ফলে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এসব এলাকার পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের আবহ। সৌদি আরবে কর্মরত স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রবাসে কর্মরত একজন মানুষের আকস্মিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানো নয়, বরং পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয়। এ কারণে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি উঠেছে।

আরও পড়ুন  নতুন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন নীতিমালা ২০২৬: বিদেশি কোম্পানির নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

সৌদি আরবে আগুন লাগার পর দুপুর থেকে শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ৮টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে কারখানার ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। রাত ১১টার দিকে মরদেহগুলো কিং সৌদ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ শুরু করেন।

এদিকে ভয়াবহ এই ঘটনায় রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস জানিয়েছে, মুসা সানাইয়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি হতাহত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই তাদের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। দূতাবাস নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তার জন্য কাজ করছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংকটের সময়ে দূতাবাসের এই তৎপরতা নিহতদের পরিবারকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন  মমতা পদত্যাগ না করলে বরখাস্ত হতে পারেন

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য এই দুর্ঘটনা আবারও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে শিল্প ও কারখানায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং কর্মীদের জরুরি পরিস্থিতিতে বের হয়ে আসার প্রশিক্ষণ কতটা কার্যকর—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। সৌদি আরবে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দূতাবাসেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্বজনরা এখন দ্রুত মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।