গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের প্রমাণ দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার জাহিদ হাসান। অভাব-অনটনের সংসারে বেড়ে ওঠা এই শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পেয়েছে অসাধারণ ফলাফল। তার মোট নম্বর ১১৩১। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা তাকে থামাতে পারেনি। বরং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গেছে জাহিদ। ফল প্রকাশের পর তার এই সাফল্যে আনন্দে ভেসেছে পরিবার, শিক্ষক ও পুরো এলাকা।
জাহিদ হাসানের বাড়ি কসবা উপজেলার আড়াইবাড়ি গ্রামে। মো. আলাউদ্দিন ও লিমা আক্তারের চার সন্তানের মধ্যে জাহিদ তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। এবার সে কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়িতে ছুটে আসেন স্বজন, শিক্ষক ও প্রতিবেশীরা। সবার মুখে তখন ছিল জাহিদের প্রশংসা।
জাহিদের পরিবারের জীবন অবশ্য খুব স্বচ্ছল নয়। তার বাবা মো. আলাউদ্দিন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী। প্রতিদিন নির্মাণকাজে শ্রম দিয়ে যে আয় করেন, তা দিয়েই স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে হয়। সীমিত আয়ের এই পরিবারে পড়াশোনার খরচ চালানোও সহজ ছিল না। তারপরও ছেলের স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াননি বাবা-মা। কষ্টের মধ্যেও তারা জাহিদকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন।
ছেলের এমন ফলাফলে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত জাহিদের মা লিমা আক্তার। সংসারে অভাব থাকলেও ছেলের পড়াশোনা নিয়ে তারা কখনো হতাশ হননি বলে জানান তিনি। নিজের চেষ্টাতেই জাহিদ নিয়মিত পড়াশোনা করেছে। তার সাফল্য যেন পরিবারের দীর্ঘদিনের কষ্টের মাঝেও এক টুকরো আনন্দ নিয়ে এসেছে। টিনের ঘরের ছোট্ট সংসার থেকে ছেলের এমন অর্জন তাই বাবা-মায়ের কাছে বিশেষ গর্বের বিষয়।
জাহিদের সাফল্যে গর্বিত তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও। কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, জাহিদ একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সে পড়াশোনায় নিয়মিত ছিল। তার ফলাফল শুধু পরিবারের জন্য নয়, বিদ্যালয়ের জন্যও আনন্দ ও গর্বের বিষয়। জাহিদের এই সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও কঠিন পরিস্থিতিতে হাল না ছাড়ার অনুপ্রেরণা দিতে পারে।
তবে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর জাহিদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফলে থেমে নেই। তার চোখ এখন আরও বড় স্বপ্নে। ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চায় সে। পাশাপাশি বাবা-মায়ের কষ্ট দূর করার ইচ্ছাও রয়েছে তার। অভাবের ঘর থেকে উঠে এসে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করা জাহিদের গল্প তাই শুধু একটি ভালো ফলাফলের গল্প নয়; এটি স্বপ্ন, পরিশ্রম ও পরিবারের ত্যাগের গল্প। এখন তার সামনে নতুন পথ—স্বপ্নের চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্যে আরও কঠিন পরিশ্রম করে এগিয়ে যাওয়া।


























