স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ নির্বাচনই আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার প্রস্তুত এবং এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকার বদ্ধপরিকর। চলতি অর্থবছরে এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বাজেট রাখা হয়েছে। তবে পাঁচ ধরনের নির্বাচনের মধ্যে কোনটি আগে হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচনের ক্রম ঠিক করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। গত দুই দশকে দেশে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি ছিল ভঙ্গুর অবস্থায়। এরপরও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম থেমে নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি এসব এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে একদিকে পরিবেশের উন্নতি হবে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকার দৃশ্যপটও বদলাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সময় আমিনবাজার ও আশুলিয়া পৌরসভা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান মীর শাহে আলম। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি নতুন পৌরসভা বাস্তবায়ন এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনেও সরকারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেল। এখন নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর পাঁচ নির্বাচনের কোনটি আগে অনুষ্ঠিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
























