ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঢাকার তাপমাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস: দাবদাহে আরও অস্বস্তির আশঙ্কা Logo মন খুলে চিৎকারের দিন আজ: মানসিক চাপ কমানোর এক ভিন্ন বার্তা Logo চিনিমুক্ত ফুল-ফ্যাট দুগ্ধজাত খাবার Logo মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত তারকারা | তারকাদের মহড়া Logo মায়ের দুধের বিকল্প নেই : শিশুর বিকাশে গুরুত্ব জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo হঠাৎ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় তেহরানের আকাশ Logo হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচজনের মৃত্যু, বাড়ছে শঙ্কা Logo আরচ্যারি ফেডারেশনে সাধারণ সম্পাদককে ঘিরে অনাস্থা, হস্তক্ষেপে মন্ত্রণালয়ের তলব Logo শুক্রবার ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়, জানাল তিতাস গ্যাস Logo শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলা: জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আহত

মায়ের দুধের বিকল্প নেই : শিশুর বিকাশে গুরুত্ব জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • Kamrun Nahar Sumi
  • Update Time : ০৮:০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৪

শিশুর বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, একটি শিশুর সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক এই পুষ্টি শিশুর শরীর গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ–২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র ভিটামিন বা সম্পূরক খাদ্য দিয়ে একটি সুস্থ জাতি গঠন করা সম্ভব নয়। শিশুর জন্মের পরপরই শালদুধ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি, কারণ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে।তিনি আরও বলেন, একটি শিশুর জন্য মায়ের দুধই হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক খাদ্য। এটি শিশুর শরীরের গঠন তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে তার স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন  দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে স্বস্তি, ভরিতে কমলো ২ হাজার টাকার বেশি

শিশুর বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো উচিত। এরপর দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর সম্পূরক খাবার দেওয়া যেতে পারে।মায়ের দুধে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এতে শিশুর সংক্রমণ ও অপুষ্টির ঝুঁকি কমে এবং তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।

আরও পড়ুন  নিজ জেলাতে রাশেদ প্রধানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, দলীয় কার্যালয় ভাংচুর

বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ের দুধ শুধু শরীর নয়, শিশুর মেধা ও মানসিক বিকাশেও বড় ভূমিকা রাখে। নিয়মিত মায়ের দুধ পান করলে শিশুর স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। পুষ্টিকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে, যাতে প্রতিটি পরিবার শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারে। তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান ওষুধ দিয়ে হয় না। কাউন্সেলিং ও সচেতনতার মাধ্যমে মানুষকে সঠিক তথ্য জানাতে হবে। পুষ্টি শুধু শরীরের শক্তি নয়, এটি মানুষের কর্মক্ষমতা ও মেধা বিকাশেরও ভিত্তি।

দেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির কারণে অনেক শিশুর মধ্যে জটিলতা বাড়ছে। তাই শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ফাস্টফুডের পরিবর্তে শাকসবজি, মাছ-মাংস ও সুষম খাদ্য গ্রহণে শিশুদের অভ্যস্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন  কফি কি কোলেস্টেরল বাড়ায়? সত্যিটা জানুন সহজভাবে

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুর বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পরিবার, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিশুদের স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশ আরও উন্নত হবে এবং দেশ একটি শক্তিশালী মানবসম্পদ অর্জন করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার তাপমাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস: দাবদাহে আরও অস্বস্তির আশঙ্কা

মায়ের দুধের বিকল্প নেই : শিশুর বিকাশে গুরুত্ব জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Update Time : ০৮:০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

শিশুর বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, একটি শিশুর সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক এই পুষ্টি শিশুর শরীর গঠন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ–২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র ভিটামিন বা সম্পূরক খাদ্য দিয়ে একটি সুস্থ জাতি গঠন করা সম্ভব নয়। শিশুর জন্মের পরপরই শালদুধ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি, কারণ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে।তিনি আরও বলেন, একটি শিশুর জন্য মায়ের দুধই হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক খাদ্য। এটি শিশুর শরীরের গঠন তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে তার স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন  অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে? গবেষণায় নতুন তথ্য

শিশুর বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো উচিত। এরপর দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর সম্পূরক খাবার দেওয়া যেতে পারে।মায়ের দুধে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এতে শিশুর সংক্রমণ ও অপুষ্টির ঝুঁকি কমে এবং তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়।

আরও পড়ুন  কফি কি কোলেস্টেরল বাড়ায়? সত্যিটা জানুন সহজভাবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ের দুধ শুধু শরীর নয়, শিশুর মেধা ও মানসিক বিকাশেও বড় ভূমিকা রাখে। নিয়মিত মায়ের দুধ পান করলে শিশুর স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। পুষ্টিকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে, যাতে প্রতিটি পরিবার শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারে। তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান ওষুধ দিয়ে হয় না। কাউন্সেলিং ও সচেতনতার মাধ্যমে মানুষকে সঠিক তথ্য জানাতে হবে। পুষ্টি শুধু শরীরের শক্তি নয়, এটি মানুষের কর্মক্ষমতা ও মেধা বিকাশেরও ভিত্তি।

দেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির কারণে অনেক শিশুর মধ্যে জটিলতা বাড়ছে। তাই শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত ফাস্টফুডের পরিবর্তে শাকসবজি, মাছ-মাংস ও সুষম খাদ্য গ্রহণে শিশুদের অভ্যস্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন  রাতের খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ছেন? ডেকে আনছেন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি!

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুর বিকাশে মায়ের দুধের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পরিবার, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিশুদের স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশ আরও উন্নত হবে এবং দেশ একটি শক্তিশালী মানবসম্পদ অর্জন করবে।