সবুজায়ন কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দেশবাসীর প্রতি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকেরও। একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জুমার নামাজের পর কয়েকটি গাছের চারা রোপণ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্রে পরিণত করতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। নগর থেকে গ্রাম—সবখানেই গাছের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং খোলা জায়গাগুলোতে নিয়মিত গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুন্দর পরিবেশ পাবে।
সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুসল্লি এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, যেখানে মানুষ ইবাদত করে এবং সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেই স্থানগুলো যদি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখা যায়, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশবিদদের মতে, একটি পরিণত গাছ শুধু অক্সিজেনই সরবরাহ করে না, বরং কার্বন শোষণের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতেও সহায়তা করে। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে গাছ লাগানোর সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই বার্তা কেবল একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা বছরের প্রতিটি দিনে বজায় রাখতে হবে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আহ্বানও ছিল সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ যদি সম্মিলিতভাবে সবুজায়ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়, তাহলে বাংলাদেশ আরও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং পরিবেশবান্ধব দেশে পরিণত হবে।



























