ঢাকা ০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের টানাপোড়েন, পক্ষ বাছাইয়ের চাপ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৪

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। | ছবি: এআই

এআই দৌড়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশকে কার্যত একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার বার্তা দিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। রয়টার্সের হাতে আসা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ খসড়া চিঠি এবং এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, চীনের নেতৃত্বাধীন এআই উদ্যোগে যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রযুক্তি জোট থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে দেশগুলোকে সতর্ক করা হবে।

চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় গত বছর ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগ চালু করে যুক্তরাষ্ট্র। এআই মডেল, সেমিকন্ডাক্টর চিপ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ রাখাই এর অন্যতম লক্ষ্য। এখন পর্যন্ত কাজাখস্তানসহ প্রায় ২৪টি দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াও এর সদস্য। তবে কাজাখস্তান একই সঙ্গে চীনের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগেও যুক্ত হওয়ায় ওয়াশিংটনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে ‘এআই অপরচুনিটি স্টেটমেন্ট’ নামে একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করা ৩৫টি দেশের উদ্দেশে খসড়া চিঠিটি তৈরি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এআই মডেল, চিপ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোই ওই ঘোষণার অন্যতম লক্ষ্য। এসব দেশের মধ্যে প্যাক্স সিলিকার সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআই খাতে কাজ করতে আগ্রহী দেশগুলো রয়েছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, উন্নত এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর প্রভাব ধরে রাখতে হলে মিত্রদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে একই কাঠামোর মধ্যে রাখা জরুরি।

খসড়া চিঠিতে দেশগুলোকে এআই বিষয়ে ‘সুচিন্তিতভাবে পক্ষ বেছে নেওয়ার’ আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে সরাসরি চীনের নাম না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সমান্তরাল জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, একই সঙ্গে চীনের নেতৃত্বাধীন এআই জোটে যুক্ত থেকে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য অংশীদার হওয়া যায়, তা বোঝা কঠিন। তবে চিঠিটি ঠিক কবে পাঠানো হবে বা চূড়ান্ত হওয়ার আগে এতে পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এই প্রতিযোগিতার মধ্যে চীনও নিজস্ব প্রযুক্তি সহযোগিতার কাঠামো শক্তিশালী করছে। গত জুলাইয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ বা ডব্লিউএআইসিও প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। দ্রুত বিকশিত এআই খাতে মার্কিন প্রভাব মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন এআই ব্যবস্থার পাশাপাশি চীনের ওপেন-ওয়েট মডেলও দ্রুত উন্নতি করছে।

ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে চীন। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া উচিত নয়। তাদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে এআইয়ের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না। এদিকে কাজাখস্তান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উভয় উদ্যোগে যুক্ত থাকা একমাত্র দেশ। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের বড় মজুত থাকায় দেশটি এআই ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রযুক্তি ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, বিভিন্ন দেশের ওপর পক্ষ বেছে নেওয়ার চাপও তত বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের টানাপোড়েন, পক্ষ বাছাইয়ের চাপ

Update Time : ০৪:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

এআই দৌড়কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশকে কার্যত একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার বার্তা দিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। রয়টার্সের হাতে আসা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ খসড়া চিঠি এবং এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, চীনের নেতৃত্বাধীন এআই উদ্যোগে যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রযুক্তি জোট থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে দেশগুলোকে সতর্ক করা হবে।

চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় গত বছর ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগ চালু করে যুক্তরাষ্ট্র। এআই মডেল, সেমিকন্ডাক্টর চিপ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ রাখাই এর অন্যতম লক্ষ্য। এখন পর্যন্ত কাজাখস্তানসহ প্রায় ২৪টি দেশ এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াও এর সদস্য। তবে কাজাখস্তান একই সঙ্গে চীনের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগেও যুক্ত হওয়ায় ওয়াশিংটনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান সংকটে তাইওয়ানের অস্ত্রচুক্তি থামাল যুক্তরাষ্ট্র

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে ‘এআই অপরচুনিটি স্টেটমেন্ট’ নামে একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করা ৩৫টি দেশের উদ্দেশে খসড়া চিঠিটি তৈরি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এআই মডেল, চিপ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোই ওই ঘোষণার অন্যতম লক্ষ্য। এসব দেশের মধ্যে প্যাক্স সিলিকার সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআই খাতে কাজ করতে আগ্রহী দেশগুলো রয়েছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, উন্নত এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর প্রভাব ধরে রাখতে হলে মিত্রদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে একই কাঠামোর মধ্যে রাখা জরুরি।

খসড়া চিঠিতে দেশগুলোকে এআই বিষয়ে ‘সুচিন্তিতভাবে পক্ষ বেছে নেওয়ার’ আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে সরাসরি চীনের নাম না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সমান্তরাল জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, একই সঙ্গে চীনের নেতৃত্বাধীন এআই জোটে যুক্ত থেকে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য অংশীদার হওয়া যায়, তা বোঝা কঠিন। তবে চিঠিটি ঠিক কবে পাঠানো হবে বা চূড়ান্ত হওয়ার আগে এতে পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আরও পড়ুন  কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে নামছেন ট্রাম্প?

এই প্রতিযোগিতার মধ্যে চীনও নিজস্ব প্রযুক্তি সহযোগিতার কাঠামো শক্তিশালী করছে। গত জুলাইয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ বা ডব্লিউএআইসিও প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। দ্রুত বিকশিত এআই খাতে মার্কিন প্রভাব মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন এআই ব্যবস্থার পাশাপাশি চীনের ওপেন-ওয়েট মডেলও দ্রুত উন্নতি করছে।

আরও পড়ুন  ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর’, বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে চীন। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া উচিত নয়। তাদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে এআইয়ের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না। এদিকে কাজাখস্তান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উভয় উদ্যোগে যুক্ত থাকা একমাত্র দেশ। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের বড় মজুত থাকায় দেশটি এআই ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির সরবরাহব্যবস্থায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রযুক্তি ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, বিভিন্ন দেশের ওপর পক্ষ বেছে নেওয়ার চাপও তত বাড়তে পারে।