বুধবার (১২ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে হরমুজ প্রণালী নিয়ে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গেও একই ধরনের বক্তব্য দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আমি মনে করি, আমরা এটি ধরে রাখব।”
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে ইরানের তেমন কিছু করার নেই। তিনি বলেন, ইরান শুধু কথা বলে, কাজ করে না এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটিকে আর ‘উৎপীড়ক’ হিসেবে থাকতে দেওয়া হবে না।
নিজের বক্তব্যের শেষদিকে ট্রাম্প বলেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।”

ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে।
এদিকে ইরানও প্রণালীটির ওপর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে দেশটির আলোচনা চলছে। এসব আলোচনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি আলোচনা কার্যত স্থগিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র আটটি জাহাজ চলাচল করেছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করত। বাণিজ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দশ দিনের গড় প্রায় ১২টি জাহাজ চলাচলের তুলনায়ও মঙ্গলবারের সংখ্যা কম ছিল।
ফলে ট্রাম্পের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ দাবির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে বাস্তবে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা ও উদ্বেগ বাড়ছে।




























