রাষ্ট্র পরিচালনার ছয় মাস না পেরোতেই অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সামলাতে হচ্ছে সরকারকে। এর সঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সম্ভাব্য অস্থিরতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বেশ কিছু কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বছরের শুরুতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও মধ্য জুলাই থেকে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে। এতে শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ছে।
জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে সরকারের ভেতরেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলমান জ্বালানি সংকট কাটাতে সময় লাগতে পারে দুই বছর। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট ছয় মাসে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আর্থিক চাপ নিয়েও সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণ ও আর্থিক দায়ের কারণে যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া ভবিষ্যতে সরকারি ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী সংসদ অধিবেশনে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে লংমার্চ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচিও রয়েছে।
অন্যদিকে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মসূচির খবরও সামনে এসেছে। ফলে অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা বাড়ছে।
তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, সরকার বিরোধী দলগুলোর গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিতে চায় না। একই সঙ্গে কোনো কর্মসূচি সহিংস বা ধ্বংসাত্মক হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এককভাবে সংকট মোকাবিলার পরিবর্তে প্রয়োজন হলে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হতে পারে। জাতীয় স্বার্থে ভালো কোনো প্রস্তাব এলে তা বিবেচনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক দুর্বলতা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং রাজপথের রাজনৈতিক কর্মসূচি—তিন দিক থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার। এখন এসব চাপ সামলে অর্থনীতি স্থিতিশীল করা এবং জ্বালানি সংকটের কার্যকর সমাধান কত দ্রুত করা যায়, সেটিই সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

























