২০২২ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এফআইএ মোটরস্পোর্ট গেমসে অংশ নিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করেন আরহাম। বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন ও মনোনয়নে এফআইএর কোনো আয়োজনে অংশ নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি হন তিনি। পরের বছর এফআইএ ফোর সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে গাড়ির আসনের সুযোগ এলেও পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেটি গ্রহণ করতে পারেননি।
ফর্মুলা ফোর হলো কার্টিংয়ের পর সিঙ্গেল-সিটার রেসিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এখান থেকেই তরুণ রেসাররা ধীরে ধীরে ফর্মুলা রিজিওনাল, ফর্মুলা থ্রি ও ফর্মুলা টুর মতো উচ্চতর পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যান। সুযোগ হাতছাড়া হলেও আরহাম থেমে যাননি। আবার কার্টিংয়ে ফিরে গিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত সিমুলেটরেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ন্যাশনাল কার্টিং চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। এরপর শ্রীলঙ্কার এশিয়া প্যাসিফিক মোটরস্পোর্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সপ্তম স্থান অর্জন করেন। পরে মান্দালিকা গ্রাঁ প্রিঁ সার্কিটে এফআইএ ফর্মুলা ফোরের গাড়ি পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আরেকটি মাইলফলক গড়েন।
ফর্মুলা ফোরের গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতাও ছিল কার্টিংয়ের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। উচ্চগতিতে গাড়ি চালানোর সময় ব্রেকিং, বাঁক নেওয়া এবং শরীরের ওপর প্রচণ্ড চাপ সামলানোর মতো দক্ষতা প্রয়োজন হয়। সরল পথে গাড়ির গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। উচ্চগতির বাঁকে প্রায় ৪জি পর্যন্ত চাপও অনুভব করেছেন আরহাম।
অর্থের সংকটও থামাতে পারেনি
রেসিংয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল অর্থের ব্যবস্থা করা। ২০২৩ সালে প্রথম ফর্মুলা ভি টেস্ট দেওয়ার খরচ জোগাড় করতে মেলবোর্নের একটি বার্গার রেস্তোরাঁয় কাজ করে প্রায় ছয় মাস টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের সামর্থ্যও সীমিত ছিল। পরে তাঁর বাবা-মা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা শুরু করেন এবং বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কম খরচে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সিমুলেটর রেসিং, জিমখানা ও ফোর-স্ট্রোক কার্টিংয়ের মতো সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন আরহাম। অর্থের সীমাবদ্ধতা তাঁর অগ্রযাত্রাকে ধীর করলেও সেই সময়ই তাঁকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে অংশ নেওয়াকেও নিজের জন্য বড় অনুপ্রেরণা মনে করেন আরহাম। তাঁর লক্ষ্য শুধু নিজের ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়া নয়; বরং বাংলাদেশের তরুণদের জন্য মোটরস্পোর্টকে একটি বাস্তব ক্যারিয়ার হিসেবে তুলে ধরা।
এখন লক্ষ্য আরও বড়
বাংলাদেশে মোটরস্পোর্টের অবকাঠামো এখনো সীমিত। আরহামের মতে, এফআইএ মানের কার্টিং অবকাঠামো তৈরি হলে দেশের আরও অনেক তরুণ এই খেলায় আসার সুযোগ পাবে। শুধু রেসার নয়, প্রকৌশলী, মেকানিক, প্রযুক্তিবিদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফর্মুলা ফোরের সাফল্যের পর এখন আরহাম রহমানের চোখ ২০২৭ সালের ইউরো ফর্মুলা থ্রি চ্যাম্পিয়নশিপে। দীর্ঘমেয়াদে তাঁর স্বপ্ন ফর্মুলা ওয়ান। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলোর একটি হলো এমন একটি পথ তৈরি করা, যেখান দিয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের তরুণ রেসাররা আরও সহজে আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টে পৌঁছাতে পারে।




























