বাটওয়ারা ১৯৪৭ মুক্তির আগেই বলিউডে তৈরি করেছে ব্যাপক আগ্রহ। দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় ফিরছেন প্রীতি জিনতা, আর তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন সানি দেওল। রাজকুমার সন্তোষী পরিচালিত দেশভাগের পটভূমির এই ছবিকে ঘিরে আলোচনার নতুন বিষয় হয়ে উঠেছে তারকাদের পারিশ্রমিক। বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ছবিতে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নিয়েছেন সানি দেওল। তাঁর পারিশ্রমিকের অঙ্ক নাকি ৬০ কোটি রুপি। তবে এই তথ্য নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
বাটওয়ারা ১৯৪৭-এর মুক্তির সময় যত এগিয়ে আসছে, ছবির বাজেট ও অভিনয়শিল্পীদের পারিশ্রমিক নিয়েও তত আলোচনা বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সানি দেওলের পারিশ্রমিকের পেছনে সাম্প্রতিক সাফল্যের বড় ভূমিকা রয়েছে। ‘গদর ২’ এবং ‘বর্ডার ২’-এর মতো সিনেমাকে ঘিরে তাঁর জনপ্রিয়তা নতুন করে বেড়েছে। সেই কারণে নতুন ছবিতে তাঁর দরও বেশ চড়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু নির্ধারিত পারিশ্রমিক নয়, ছবির লাভের একটি অংশও তাঁর চুক্তিতে থাকতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
পারিশ্রমিকের তালিকায় সানির পরেই রয়েছেন প্রীতি জিনতা। দীর্ঘ সময় পর বড় পর্দায় ফেরার এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রীতি পেয়েছেন প্রায় ১০ কোটি রুপি। তাঁর পর রয়েছেন আলী ফজল। ছবির গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রায় ৭ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন বলে খবর। অভিমন্যু সিংয়ের পারিশ্রমিকের অঙ্ক প্রায় ২ কোটি রুপি বলে জানা গেছে। তবে শাবানা আজমির পারিশ্রমিক কত, সেই তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
ছবিটির মোট বাজেট নিয়েও রয়েছে আলোচনা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এর বাজেট প্রায় ১৫০ কোটি রুপি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বাজেটের পাশাপাশি অভিনয়শিল্পীদের পারিশ্রমিকের অঙ্কও এখন পর্যন্ত নির্মাতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে প্রকাশিত অঙ্কগুলোকে নিশ্চিত তথ্যের বদলে প্রতিবেদনভিত্তিক হিসাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ছবিতে সানি দেওল, প্রীতি জিনতা ও আলী ফজল ছাড়াও অভিনয় করেছেন শাবানা আজমি, কারণ দেওল ও অভিমন্যু সিং।
বাটওয়ারা ১৯৪৭-এর গল্পের পটভূমি ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগ। দেশভাগের সময় সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে ছবির কাহিনি। সিনেমাটি আসগর ওয়াজাহাতের জনপ্রিয় উর্দু নাটক ‘জিস লাহোর নেহি ভেখ্যা ও জম্যাই নেহি’ থেকে অনুপ্রাণিত। দেশভাগের পর লাহোরে দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের পরিবারের গল্পের মধ্য দিয়ে বিভাজনের রাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি মানুষের আবেগ ও সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সংগীত পরিচালনায় রয়েছেন এ আর রাহমান এবং গানের কথা লিখেছেন জাভেদ আখতার।
বাটওয়ারা ১৯৪৭-এর আরেকটি বড় আকর্ষণ সানি দেওল ও রাজকুমার সন্তোষীর পুনর্মিলন। এর আগে ‘ঘায়েল’, ‘দামিনী’ ও ‘ঘাতক’-এর মতো সফল সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। ফলে দীর্ঘ সময় পর এই জুটিকে আবার বড় পর্দায় দেখার আগ্রহ রয়েছে দর্শকদের মধ্যে। ছবিটি ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে। একই সময়ে ইমরান হাশমি অভিনীত ‘আওয়ারাপন ২’ মুক্তি পাওয়ার কথা থাকায় বক্স অফিসে দুই সিনেমার মধ্যে প্রতিযোগিতাও হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বড় বাজেট ও তারকাদের উপস্থিতির এই ছবিটি দর্শকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে।

























