ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহরুখের ‘কয়লা’ ব্যর্থতায় বড় ধাক্কা, প্রায় সব হারিয়েছিলেন রাকেশ রোশন

১৯৯৭ সালে ‘কয়লা’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ খান ও মাধুরী দীক্ষিত। ছবি: সংগৃহীত

রাকেশ রোশন বলিউডের সফল নির্মাতাদের একজন হলেও তাঁর ক্যারিয়ারেও এসেছিল ভয়াবহ সংকটের সময়। ১৯৯৭ সালে শাহরুখ খান ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ‘কয়লা’ মুক্তির পর প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এই পরিচালক। সিনেমাটিতে শাহরুখকে দেখা গিয়েছিল এক বোবা তরুণের চরিত্রে। ব্যতিক্রমী গল্প, তারকাবহুল অভিনয় ও অ্যাকশন দৃশ্য নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ থাকলেও বক্স অফিসে ছবিটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সেই ব্যর্থতা রাকেশের ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছিল।

‘কয়লা’র ব্যর্থতার পর পরিবারের পরিস্থিতি কতটা কঠিন হয়ে উঠেছিল, বহু বছর পর তা স্মরণ করেছিলেন রাকেশ রোশনের ছেলে হৃতিক রোশন। জি ইটিসি বলিউডকে দেওয়া এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে হৃতিক জানান, সিনেমাটির পর তাঁদের পরিবারকে একসঙ্গে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বাবার আর্থিক অবস্থাও তখন বেশ নাজুক হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্জিত অর্থ হারিয়ে তিনি কার্যত শূন্য অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। সেই সময় পরিবারের জন্য মানসিক চাপও ছিল অত্যন্ত তীব্র।

হৃতিকের স্মৃতিতে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছিল একটি সকাল। তিনি জানান, সেদিন বাবার মুখে শুনেছিলেন, তিনি সব হারিয়ে ফেলেছেন। জীবনে প্রথমবার বাবার চোখে পানি দেখেছিলেন হৃতিক। একজন সফল পরিচালক ও পরিবারের কর্তা হিসেবে রাকেশকে সব সময় দৃঢ় অবস্থানে দেখলেও সেই মুহূর্তে তাঁর অসহায়ত্ব ছেলেকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। বহু বছর পেরিয়ে গেলেও ঘটনাটি হৃতিকের মনে রয়ে গেছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সেই সময়ের আর্থিক বিপর্যয় তাঁদের পরিবারের জন্য কতটা কঠিন ছিল।

তবে ‘কয়লা’র ব্যর্থতাই রাকেশ রোশনের গল্পের শেষ অধ্যায় হয়ে থাকেনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘খুদগর্জ’, ‘করণ অর্জুন’সহ একাধিক জনপ্রিয় সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তনগুলোর একটি আসে ২০০০ সালে। সে বছর ছেলে হৃতিক রোশনকে নায়ক করে নির্মাণ করেন ‘কহো না… পেয়ার হ্যায়’। নতুন মুখের নায়ককে সামনে রেখে সিনেমাটি নিয়ে শুরুতে ঝুঁকি থাকলেও মুক্তির পর সেটিই হয়ে ওঠে বিশাল সাফল্য।

‘কহো না… পেয়ার হ্যায়’ শুধু বক্স অফিসে সাড়া ফেলেনি, হৃতিক রোশনের ক্যারিয়ারও বদলে দেয়। রাতারাতি তিনি বলিউডের অন্যতম আলোচিত নতুন তারকা হয়ে ওঠেন। এরপর রাকেশ রোশন নির্মাণ করেন ‘কোই… মিল গয়া’, যেখানে হৃতিকের অভিনয়ও ব্যাপক প্রশংসা পায়। পরে ‘কৃষ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে বাবা-ছেলের জুটি আরও বড় সাফল্য অর্জন করে। এক সময়ের আর্থিক সংকট কাটিয়ে রাকেশ আবারও বলিউডের সফল নির্মাতাদের তালিকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

রাকেশ রোশনের জীবনের এই অধ্যায় তাই শুধু একটি সিনেমার ব্যর্থতার গল্প নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোরও উদাহরণ। ‘কয়লা’ তাঁকে বড় ধাক্কা দিলেও সেই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং কয়েক বছর পর নিজের ছেলে হৃতিককে নিয়ে এমন একটি সিনেমা তৈরি করেন, যা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। হৃতিকের স্মৃতিচারণ থেকে উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—ব্যর্থতা মানুষকে ভেঙে দিতে পারে, আবার সেই ব্যর্থতাই নতুনভাবে শুরু করার শক্তিও হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহরুখের ‘কয়লা’ ব্যর্থতায় বড় ধাক্কা, প্রায় সব হারিয়েছিলেন রাকেশ রোশন

Update Time : ১১:১৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

রাকেশ রোশন বলিউডের সফল নির্মাতাদের একজন হলেও তাঁর ক্যারিয়ারেও এসেছিল ভয়াবহ সংকটের সময়। ১৯৯৭ সালে শাহরুখ খান ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ‘কয়লা’ মুক্তির পর প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এই পরিচালক। সিনেমাটিতে শাহরুখকে দেখা গিয়েছিল এক বোবা তরুণের চরিত্রে। ব্যতিক্রমী গল্প, তারকাবহুল অভিনয় ও অ্যাকশন দৃশ্য নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ থাকলেও বক্স অফিসে ছবিটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সেই ব্যর্থতা রাকেশের ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছিল।

‘কয়লা’র ব্যর্থতার পর পরিবারের পরিস্থিতি কতটা কঠিন হয়ে উঠেছিল, বহু বছর পর তা স্মরণ করেছিলেন রাকেশ রোশনের ছেলে হৃতিক রোশন। জি ইটিসি বলিউডকে দেওয়া এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে হৃতিক জানান, সিনেমাটির পর তাঁদের পরিবারকে একসঙ্গে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বাবার আর্থিক অবস্থাও তখন বেশ নাজুক হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্জিত অর্থ হারিয়ে তিনি কার্যত শূন্য অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। সেই সময় পরিবারের জন্য মানসিক চাপও ছিল অত্যন্ত তীব্র।

আরও পড়ুন  সোহিনী সরকার দিলেন দারুণ সুখবর! মা হতে চলেছেন অভিনেত্রী

হৃতিকের স্মৃতিতে সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছিল একটি সকাল। তিনি জানান, সেদিন বাবার মুখে শুনেছিলেন, তিনি সব হারিয়ে ফেলেছেন। জীবনে প্রথমবার বাবার চোখে পানি দেখেছিলেন হৃতিক। একজন সফল পরিচালক ও পরিবারের কর্তা হিসেবে রাকেশকে সব সময় দৃঢ় অবস্থানে দেখলেও সেই মুহূর্তে তাঁর অসহায়ত্ব ছেলেকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। বহু বছর পেরিয়ে গেলেও ঘটনাটি হৃতিকের মনে রয়ে গেছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সেই সময়ের আর্থিক বিপর্যয় তাঁদের পরিবারের জন্য কতটা কঠিন ছিল।

আরও পড়ুন  সালমান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কেন শুরু হলো নতুন আলোচনা?

তবে ‘কয়লা’র ব্যর্থতাই রাকেশ রোশনের গল্পের শেষ অধ্যায় হয়ে থাকেনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘খুদগর্জ’, ‘করণ অর্জুন’সহ একাধিক জনপ্রিয় সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তনগুলোর একটি আসে ২০০০ সালে। সে বছর ছেলে হৃতিক রোশনকে নায়ক করে নির্মাণ করেন ‘কহো না… পেয়ার হ্যায়’। নতুন মুখের নায়ককে সামনে রেখে সিনেমাটি নিয়ে শুরুতে ঝুঁকি থাকলেও মুক্তির পর সেটিই হয়ে ওঠে বিশাল সাফল্য।

‘কহো না… পেয়ার হ্যায়’ শুধু বক্স অফিসে সাড়া ফেলেনি, হৃতিক রোশনের ক্যারিয়ারও বদলে দেয়। রাতারাতি তিনি বলিউডের অন্যতম আলোচিত নতুন তারকা হয়ে ওঠেন। এরপর রাকেশ রোশন নির্মাণ করেন ‘কোই… মিল গয়া’, যেখানে হৃতিকের অভিনয়ও ব্যাপক প্রশংসা পায়। পরে ‘কৃষ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে বাবা-ছেলের জুটি আরও বড় সাফল্য অর্জন করে। এক সময়ের আর্থিক সংকট কাটিয়ে রাকেশ আবারও বলিউডের সফল নির্মাতাদের তালিকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

আরও পড়ুন  প্রথম মেসেজেই শুরু প্রেম! প্রিয়াঙ্কা-নিকের চ্যাট প্রকাশ

রাকেশ রোশনের জীবনের এই অধ্যায় তাই শুধু একটি সিনেমার ব্যর্থতার গল্প নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোরও উদাহরণ। ‘কয়লা’ তাঁকে বড় ধাক্কা দিলেও সেই পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। বরং কয়েক বছর পর নিজের ছেলে হৃতিককে নিয়ে এমন একটি সিনেমা তৈরি করেন, যা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। হৃতিকের স্মৃতিচারণ থেকে উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—ব্যর্থতা মানুষকে ভেঙে দিতে পারে, আবার সেই ব্যর্থতাই নতুনভাবে শুরু করার শক্তিও হয়ে উঠতে পারে।