ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

এতদিনের গুঞ্জন সত্যি, সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে প্রেমের কথা স্বীকার বাসারের

একসময় ছোট পর্দায় জনপ্রিয় জুটি ছিলেন খায়রুল বাসার ও সাদিয়া আয়মান। ছবি: সংগৃহীত

খায়রুল বাসার ও সাদিয়া আয়মান একসময় ছোট পর্দার আলোচিত জুটি ছিলেন। একসঙ্গে একাধিক নাটকে অভিনয়ের কারণে তাঁদের নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের পাশাপাশি প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছিল। এতদিন দুজনের কেউই সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। তবে সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে খায়রুল বাসার নিজেই জানিয়েছেন, সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে তাঁর সত্যিই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েক বছর আগে সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলেও বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে আনেননি অভিনেতা।

খায়রুল বাসার জানান, নাটকে জুটি হওয়ারও আগে বিজ্ঞাপনের কাজের সূত্রে সাদিয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। তখন তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে শোবিজে নানা আলোচনা থাকলেও দুজনই বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন। বাসারের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পর্কের ভালো দিকটি ব্যক্তিগত রাখতেই তাঁরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তাই সংবাদমাধ্যম বা দর্শকদের প্রশ্নের মুখে বরাবরই বিষয়টিকে গুঞ্জন হিসেবে পাশ কাটিয়েছেন।

সম্পর্কটি ঠিক কী কারণে শেষ হয়েছিল, সে বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত জানাননি বাসার। ব্যক্তিগত জীবনের সেই অধ্যায় নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাননি তিনি। তবে অতীতের গুঞ্জন প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অভিনেতা জানিয়েছেন, সাদিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁর মতে, কোনো ভালো বিষয়কে সবার সামনে নিয়ে এলে সেটি স্বাভাবিকভাবে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই তখন সম্পর্কের কথা স্বীকার না করে নীরব থেকেছিলেন দুজন। দীর্ঘ সময় পর বাসারের এই বক্তব্যে পুরোনো গুঞ্জনের সত্যতাও স্পষ্ট হলো।

প্রেমের সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর তাঁদের পেশাগত সম্পর্কেও পরিবর্তন আসে। একটা সময় নিয়মিত একসঙ্গে নাটকে অভিনয় করলেও হঠাৎ তাঁদের জুটিকে পর্দায় কম দেখা যেতে শুরু করে। দর্শকদের একাংশের মধ্যে তখন প্রশ্ন তৈরি হয়, কেন জনপ্রিয় এই জুটি আর একসঙ্গে কাজ করছেন না। এবার সেই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন বাসার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর দুজনের সম্মতিতেই একসঙ্গে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি একতরফা ছিল না, বরং দুজনের জন্য বিষয়টি সহজ রাখতেই তাঁরা এমন পথ বেছে নিয়েছেন।

একসঙ্গে কাজ না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাসার মূলত স্বাভাবিকভাবে অভিনয় করার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের পর একই পর্দায় স্বাভাবিকভাবে অভিনয় করা দুজনের জন্যই কঠিন হতে পারে। দর্শক তাঁদের একসঙ্গে দেখতে চাইলেও অভিনয়ের সময় ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রভাব যেন না পড়ে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেদের পেশাগত স্বস্তির কথা বিবেচনা করেই তাঁরা দূরত্ব বজায় রেখেছেন। এতে দর্শকদের আগ্রহ থাকলেও আপাতত সেই জনপ্রিয় জুটির নতুন নাটকে একসঙ্গে ফেরার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

করোনার পরবর্তী সময়ে খায়রুল বাসার ও সাদিয়া আয়মান ছোট পর্দায় নিয়মিত জুটি হিসেবে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন। তাঁদের অভিনীত ‘ডুব সাঁতার’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘জলতরঙ্গ’, ‘দই ফুচকা’ ও ‘দ্য ফার্স্ট কেস’সহ বেশ কয়েকটি নাটক দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল। পর্দায় তাঁদের রসায়নও ছিল আলোচনার অন্যতম কারণ। ব্যক্তিগত সম্পর্কের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর সেই জুটির কাজও থেমে গেছে। ভবিষ্যতে তাঁরা আবার পেশাগতভাবে একসঙ্গে কাজ করবেন কি না, সেটিই এখন ভক্তদের জন্য বড় প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরুষ নির্যাতন দমন আইন কি প্রয়োজন? আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ

এতদিনের গুঞ্জন সত্যি, সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে প্রেমের কথা স্বীকার বাসারের

Update Time : ১২:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

খায়রুল বাসার ও সাদিয়া আয়মান একসময় ছোট পর্দার আলোচিত জুটি ছিলেন। একসঙ্গে একাধিক নাটকে অভিনয়ের কারণে তাঁদের নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের পাশাপাশি প্রেমের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছিল। এতদিন দুজনের কেউই সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। তবে সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে খায়রুল বাসার নিজেই জানিয়েছেন, সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে তাঁর সত্যিই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েক বছর আগে সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলেও বিষয়টি এতদিন প্রকাশ্যে আনেননি অভিনেতা।

খায়রুল বাসার জানান, নাটকে জুটি হওয়ারও আগে বিজ্ঞাপনের কাজের সূত্রে সাদিয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। কাজ করতে গিয়ে ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। তখন তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে শোবিজে নানা আলোচনা থাকলেও দুজনই বিষয়টি এড়িয়ে যেতেন। বাসারের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পর্কের ভালো দিকটি ব্যক্তিগত রাখতেই তাঁরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তাই সংবাদমাধ্যম বা দর্শকদের প্রশ্নের মুখে বরাবরই বিষয়টিকে গুঞ্জন হিসেবে পাশ কাটিয়েছেন।

আরও পড়ুন  পরীমনির ফেসবুক স্ট্যাটাস: বিস্ফোরক প্রশ্নে নতুন আলোচনায় অভিনেত্রী

সম্পর্কটি ঠিক কী কারণে শেষ হয়েছিল, সে বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত জানাননি বাসার। ব্যক্তিগত জীবনের সেই অধ্যায় নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাননি তিনি। তবে অতীতের গুঞ্জন প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অভিনেতা জানিয়েছেন, সাদিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁর মতে, কোনো ভালো বিষয়কে সবার সামনে নিয়ে এলে সেটি স্বাভাবিকভাবে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই তখন সম্পর্কের কথা স্বীকার না করে নীরব থেকেছিলেন দুজন। দীর্ঘ সময় পর বাসারের এই বক্তব্যে পুরোনো গুঞ্জনের সত্যতাও স্পষ্ট হলো।

প্রেমের সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর তাঁদের পেশাগত সম্পর্কেও পরিবর্তন আসে। একটা সময় নিয়মিত একসঙ্গে নাটকে অভিনয় করলেও হঠাৎ তাঁদের জুটিকে পর্দায় কম দেখা যেতে শুরু করে। দর্শকদের একাংশের মধ্যে তখন প্রশ্ন তৈরি হয়, কেন জনপ্রিয় এই জুটি আর একসঙ্গে কাজ করছেন না। এবার সেই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন বাসার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর দুজনের সম্মতিতেই একসঙ্গে অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি একতরফা ছিল না, বরং দুজনের জন্য বিষয়টি সহজ রাখতেই তাঁরা এমন পথ বেছে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন  রঙিন সুরমায় আফজাল হোসেন আফসানা মিমির আবেগঘন গল্প

একসঙ্গে কাজ না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাসার মূলত স্বাভাবিকভাবে অভিনয় করার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের পর একই পর্দায় স্বাভাবিকভাবে অভিনয় করা দুজনের জন্যই কঠিন হতে পারে। দর্শক তাঁদের একসঙ্গে দেখতে চাইলেও অভিনয়ের সময় ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রভাব যেন না পড়ে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেদের পেশাগত স্বস্তির কথা বিবেচনা করেই তাঁরা দূরত্ব বজায় রেখেছেন। এতে দর্শকদের আগ্রহ থাকলেও আপাতত সেই জনপ্রিয় জুটির নতুন নাটকে একসঙ্গে ফেরার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন  কারাগারের ১৮ দিনের অভিজ্ঞতা বদলে দিয়েছে, সালমান খানের চিন্তাভাবনা

করোনার পরবর্তী সময়ে খায়রুল বাসার ও সাদিয়া আয়মান ছোট পর্দায় নিয়মিত জুটি হিসেবে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন। তাঁদের অভিনীত ‘ডুব সাঁতার’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘জলতরঙ্গ’, ‘দই ফুচকা’ ও ‘দ্য ফার্স্ট কেস’সহ বেশ কয়েকটি নাটক দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল। পর্দায় তাঁদের রসায়নও ছিল আলোচনার অন্যতম কারণ। ব্যক্তিগত সম্পর্কের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর সেই জুটির কাজও থেমে গেছে। ভবিষ্যতে তাঁরা আবার পেশাগতভাবে একসঙ্গে কাজ করবেন কি না, সেটিই এখন ভক্তদের জন্য বড় প্রশ্ন।