ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারকা হওয়ার আগের,বাড়িভাড়া নিয়েও চিন্তায় ছিলেন ‘হুররেম’

অডিশনের পর হুররেম সুলতানের চরিত্রটি পেয়ে বদলে যায় মেরিয়েম উজেরলির জীবন। ছবি: সংগৃহীত

মেরিয়েম উজেরলি আজ তুরস্কের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী। ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেঞ্চুরি’ বা ‘সুলতান সোলেমান’ ধারাবাহিকে হুররেম সুলতানের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি পান। কিন্তু এই সাফল্যের আগে তাঁর জীবন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। মেরিয়েম উজেরলি তখন কাজহীন, সদ্য ছয় বছরের একটি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে পরের মাসের বাড়িভাড়া কীভাবে দেবেন, সেটিও জানতেন না। ঠিক সেই কঠিন সময়েই আসে এমন একটি সুযোগ, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে দেয়।

ঘটনাটি ঘটে ইস্তাম্বুলে। থিয়েটারে কাজ করার সময় মেরিয়েমের পরিচিত একজন তাঁর অভিনয়ের ভিডিও একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি তখন বড় একটি ধারাবাহিকের জন্য প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রী খুঁজছিল। ভিডিও দেখে মেরিয়েমকে অডিশনে ডাকা হয়। তবে তখন অভিনেত্রীর প্রত্যাশা খুব বেশি ছিল না। প্রধান চরিত্র পাওয়ার কথা তিনি ভাবেননি। বরং কোনো একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলেই খুশি হবেন বলে মনে করেছিলেন। কারণ, সেই মুহূর্তে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটি কাজ পাওয়া।

অডিশনের পর অবশ্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। মেরিয়েম পেয়ে যান হুররেম সুলতানের চরিত্র। ঐতিহাসিক চরিত্রটি যে ভবিষ্যতে তাঁকে এত বড় তারকা বানাবে, তখন তিনি তা কল্পনাও করতে পারেননি। এমনকি ধারাবাহিকটি দর্শকদের মধ্যে কতটা জনপ্রিয় হবে, সেটিও নির্মাতাদের কাছে নিশ্চিত ছিল না। মেরিয়েমের ভাষায়, এটি তখন ছিল মূলত চিত্রনাট্যকার, পরিচালক ও প্রযোজকদের একটি স্বপ্ন। ভবিষ্যতে কী হবে তা না ভেবে তিনি নিজের চরিত্রটিকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার দিকেই মনোযোগ দেন।

প্রথম পর্বের চিত্রনাট্য পড়ার পরই হুররেম চরিত্রটি মেরিয়েমকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। চরিত্রটির আবেগ, শক্তি ও জটিলতা তাঁকে আকৃষ্ট করে। তাঁর মনে হয়েছিল, এই চরিত্রকে শুধু অভিনয় করলেই হবে না, বরং পুরোপুরি নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে। হুররেমের অনুভূতি ও সংগ্রাম দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নিজের ব্যক্তিগত অস্তিত্বকে আড়ালে রেখে চরিত্রটির ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন তিনি। সেই প্রস্তুতিই পর্দায় তাঁর অভিনয়কে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

প্রায় তিন বছর হুররেম সুলতানের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে প্রতিদিনই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন মেরিয়েম। চরিত্রটির জীবনে যেমন ছিল ভালোবাসা, তেমনি ছিল ক্ষমতার লড়াই, আগ্রাসন, আবেগ ও নানা ধরনের সংকট। গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে হুররেমের ব্যক্তিত্বও বদলেছে। মেরিয়েমের কাছে চরিত্রটি ছিল যেন বিস্ফোরণের অপেক্ষায় থাকা একটি বোমা। প্রতিটি পর্বে সেই অপ্রত্যাশিত শক্তিকে ধরে রাখাই ছিল তাঁর বড় অভিনয় চ্যালেঞ্জ। এই চরিত্র তাঁর ক্যারিয়ারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা পরবর্তী সাফল্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

একসময় যিনি পরের মাসের বাড়িভাড়া দেওয়ার চিন্তায় ছিলেন, সেই মেরিয়েমই হুররেম সুলতানের চরিত্রে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন। একটি অডিশন তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করে। তবে এই সাফল্যের পেছনে ছিল কঠিন সময়, অনিশ্চয়তা এবং একটি চরিত্রের প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠা। মেরিয়েমের গল্প তাই শুধু তারকা হয়ে ওঠার কাহিনি নয়, বরং জীবনের সবচেয়ে অনিশ্চিত মুহূর্তেও সুযোগ এলে সেটিকে কাজে লাগানোর এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

তারকা হওয়ার আগের,বাড়িভাড়া নিয়েও চিন্তায় ছিলেন ‘হুররেম’

Update Time : ১১:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

মেরিয়েম উজেরলি আজ তুরস্কের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী। ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেঞ্চুরি’ বা ‘সুলতান সোলেমান’ ধারাবাহিকে হুররেম সুলতানের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি পান। কিন্তু এই সাফল্যের আগে তাঁর জীবন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। মেরিয়েম উজেরলি তখন কাজহীন, সদ্য ছয় বছরের একটি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে পরের মাসের বাড়িভাড়া কীভাবে দেবেন, সেটিও জানতেন না। ঠিক সেই কঠিন সময়েই আসে এমন একটি সুযোগ, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে দেয়।

ঘটনাটি ঘটে ইস্তাম্বুলে। থিয়েটারে কাজ করার সময় মেরিয়েমের পরিচিত একজন তাঁর অভিনয়ের ভিডিও একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি তখন বড় একটি ধারাবাহিকের জন্য প্রধান চরিত্রের অভিনেত্রী খুঁজছিল। ভিডিও দেখে মেরিয়েমকে অডিশনে ডাকা হয়। তবে তখন অভিনেত্রীর প্রত্যাশা খুব বেশি ছিল না। প্রধান চরিত্র পাওয়ার কথা তিনি ভাবেননি। বরং কোনো একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলেই খুশি হবেন বলে মনে করেছিলেন। কারণ, সেই মুহূর্তে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটি কাজ পাওয়া।

আরও পড়ুন  মাস্টারশেফ ইউকেতে পেঁয়াজু দিয়ে বাজিমাত করলেন সাবিনা খান , MasterChef UK 2026

অডিশনের পর অবশ্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। মেরিয়েম পেয়ে যান হুররেম সুলতানের চরিত্র। ঐতিহাসিক চরিত্রটি যে ভবিষ্যতে তাঁকে এত বড় তারকা বানাবে, তখন তিনি তা কল্পনাও করতে পারেননি। এমনকি ধারাবাহিকটি দর্শকদের মধ্যে কতটা জনপ্রিয় হবে, সেটিও নির্মাতাদের কাছে নিশ্চিত ছিল না। মেরিয়েমের ভাষায়, এটি তখন ছিল মূলত চিত্রনাট্যকার, পরিচালক ও প্রযোজকদের একটি স্বপ্ন। ভবিষ্যতে কী হবে তা না ভেবে তিনি নিজের চরিত্রটিকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার দিকেই মনোযোগ দেন।

আরও পড়ুন  ‘কিং’ সিনেমা: দুর্দান্ত চমকে ফিরছেন শাহরুখ খান

প্রথম পর্বের চিত্রনাট্য পড়ার পরই হুররেম চরিত্রটি মেরিয়েমকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। চরিত্রটির আবেগ, শক্তি ও জটিলতা তাঁকে আকৃষ্ট করে। তাঁর মনে হয়েছিল, এই চরিত্রকে শুধু অভিনয় করলেই হবে না, বরং পুরোপুরি নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে। হুররেমের অনুভূতি ও সংগ্রাম দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নিজের ব্যক্তিগত অস্তিত্বকে আড়ালে রেখে চরিত্রটির ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন তিনি। সেই প্রস্তুতিই পর্দায় তাঁর অভিনয়কে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

প্রায় তিন বছর হুররেম সুলতানের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে প্রতিদিনই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন মেরিয়েম। চরিত্রটির জীবনে যেমন ছিল ভালোবাসা, তেমনি ছিল ক্ষমতার লড়াই, আগ্রাসন, আবেগ ও নানা ধরনের সংকট। গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে হুররেমের ব্যক্তিত্বও বদলেছে। মেরিয়েমের কাছে চরিত্রটি ছিল যেন বিস্ফোরণের অপেক্ষায় থাকা একটি বোমা। প্রতিটি পর্বে সেই অপ্রত্যাশিত শক্তিকে ধরে রাখাই ছিল তাঁর বড় অভিনয় চ্যালেঞ্জ। এই চরিত্র তাঁর ক্যারিয়ারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা পরবর্তী সাফল্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

আরও পড়ুন  সালমানের ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ লুকে উত্তাল নেটপাড়া

একসময় যিনি পরের মাসের বাড়িভাড়া দেওয়ার চিন্তায় ছিলেন, সেই মেরিয়েমই হুররেম সুলতানের চরিত্রে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন। একটি অডিশন তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করে। তবে এই সাফল্যের পেছনে ছিল কঠিন সময়, অনিশ্চয়তা এবং একটি চরিত্রের প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠা। মেরিয়েমের গল্প তাই শুধু তারকা হয়ে ওঠার কাহিনি নয়, বরং জীবনের সবচেয়ে অনিশ্চিত মুহূর্তেও সুযোগ এলে সেটিকে কাজে লাগানোর এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।