মেট্রোরেল কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশ ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে এই সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি লাইন-৬) প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল ওহাব জানিয়েছেন, বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরুর আগে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে খালি ট্রেন চালানো হবে। প্রতিদিন নিয়মিত যাত্রীসেবা শেষ হওয়ার পর রাতের বেলায় উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো রুটে এই ট্রায়াল পরিচালিত হবে।
বর্তমানে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১.১৬ কিলোমিটার সম্প্রসারণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভায়াডাক্ট, রেললাইন ও স্টেশন নির্মাণসহ সামগ্রিক কাজের প্রায় ৭৭ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, অভ্যন্তরীণ টাইলস, কাচ স্থাপন এবং রঙের কাজও চলছে।
এছাড়া কমলাপুর স্টেশনের পাইল, পিয়ার, প্ল্যাটফর্ম, ট্র্যাক স্ল্যাব, স্টিল ছাদসহ প্রধান কাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই স্বয়ংক্রিয় দরজা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ট্র্যাক বসানোর কাজও সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে এমআরটি লাইন-৬ উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছে। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ শেষ হলে লাইনের মোট দৈর্ঘ্য হবে ২১.২৬ কিলোমিটার। এতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন কমলাপুর সরাসরি মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা প্রতিদিন হাজারো যাত্রীর যাতায়াতকে আরও সহজ, দ্রুত ও আরামদায়ক করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেট্রোরেল কমলাপুর চালু হলে রাজধানীর যানজট কমানোর পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে রেলস্টেশন ও মেট্রোরেলের মধ্যে সহজ সংযোগ তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণ সময় কমবে এবং নগর পরিবহন আরও কার্যকর হবে।


























