ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লামিন ইয়ামালের শৈশব: দাদির ত্যাগে গড়ে ওঠা বার্সেলোনা তারকার গল্প Logo স্পেন বিশ্বকাপ ইতিহাস: পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ একসঙ্গে জিতে অনন্য নজির Logo যে কারণে বাতিল হলো নিকো উইলিয়ামসের গোল Logo স্পেন বিশ্বকাপ জয়: দুর্দান্ত জয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বসেরা Logo অবিস্মরণীয় ফেরান তোরেস বিশ্বকাপ ফাইনাল গোল, স্পেনের ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান Logo যেকোনো সময় হামলার শঙ্কা! বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র Logo বড় সিদ্ধান্ত লিবিয়ার! ডলার ছেড়ে চীনা পেমেন্ট সিস্টেমে যোগ Logo ছাত্রদলের জুলাই আন্দোলন: শক্তিশালী বার্তায় রাকিবুল ইসলামের প্রতিশ্রুতি Logo বার্নিকাট হামলা মামলা: আদালতে আরও দুই সাক্ষীর জবানবন্দি Logo ৫ বছরে দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম, জানাল ডয়চে ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনছে, রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনছে—চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজার থেকে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে। প্রতি ডলারের কাট-অফ রেট নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। বর্তমানে আন্তঃব্যাংক বাজারেও প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার একই পর্যায়ে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার কিনে যাচ্ছে, কারণ রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

এর আগে FY21 থেকে FY25 পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংককে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করতে হয়েছিল। মূলত জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানির চাপ মোকাবিলায় এই ডলার বিক্রি করা হয়। তবে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আবারও ডলার কেনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় বাড়ায় বাজারে ডলারের চাপ আগের তুলনায় কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ মে পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৫ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের BPM6 পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে এই রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, বাজারে ডলারের দাম আরও কমতে দিলে আমদানি ব্যয় কমতে পারত এবং দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলত। কারণ ডলারের দাম কমলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য আমদানির খরচ কমে যায়, যা স্থানীয় বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ডলার কেনার নীতির ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী রিজার্ভ আন্তর্জাতিক লেনদেন, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধে দেশের সক্ষমতা বাড়ায়।

বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের উন্নতি এবং ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়তে পারে এবং ডলারের বাজারে অস্থিরতা কমে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লামিন ইয়ামালের শৈশব: দাদির ত্যাগে গড়ে ওঠা বার্সেলোনা তারকার গল্প

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনছে, রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

Update Time : ১০:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনছে—চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজার থেকে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে। প্রতি ডলারের কাট-অফ রেট নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। বর্তমানে আন্তঃব্যাংক বাজারেও প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার একই পর্যায়ে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার কিনে যাচ্ছে, কারণ রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বড় অগ্রগতি, সই হচ্ছে ১৫ চুক্তি

এর আগে FY21 থেকে FY25 পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংককে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করতে হয়েছিল। মূলত জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানির চাপ মোকাবিলায় এই ডলার বিক্রি করা হয়। তবে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আবারও ডলার কেনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় বাড়ায় বাজারে ডলারের চাপ আগের তুলনায় কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ মে পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৫ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের BPM6 পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে এই রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন  আজ বিশ্ব বাবা দিবস

তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, বাজারে ডলারের দাম আরও কমতে দিলে আমদানি ব্যয় কমতে পারত এবং দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মিলত। কারণ ডলারের দাম কমলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য আমদানির খরচ কমে যায়, যা স্থানীয় বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ডলার কেনার নীতির ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী রিজার্ভ আন্তর্জাতিক লেনদেন, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক দায় পরিশোধে দেশের সক্ষমতা বাড়ায়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা রাখতে ব্যর্থ ইসলামী ব্যাংক, বাড়ছে সংকট

বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের উন্নতি এবং ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়তে পারে এবং ডলারের বাজারে অস্থিরতা কমে আসবে।