ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৪ বছর পর জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলছে সাব্বিরের, বিসিবির বড় সুখবর Logo তিন ম্যাচেও জয় নেই পিএসজির, মোনাকোর কাছে হেরে শীর্ষে উঠল প্রতিপক্ষ Logo ইনফান্তিনোর পাশে আফ্রিকা, বিতর্কের মধ্যেও ফিফা সভাপতির প্রতি আস্থা Logo বার্সেলোনার জার্সিতে নতুন লোগো, ২৫ বছরের বেশি স্পনসরশিপ চুক্তির পথে ক্লাবটি Logo টি-টুয়েন্টি: পন্টিংয়ের চমকপ্রদ ক্রিকেট-প্রচার কৌশল Logo ১৩ বার মাথায় আঘাত পেয়ে অবসর নেওয়া ক্রিকেটার পাচ্ছেন ক্ষতিপূরণ Logo মেসি–রোনালদো: ৬০ তারকার চমক, একই দলে খেলবেন? Logo ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরল শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি Logo মির্জাপুর দ্য মুভি: বক্স অফিসে দুর্দান্ত শুরু Logo কুমিল্লায় বৃদ্ধা ছমিরন হত্যা: ধানকাটা শ্রমিকের ছদ্মবেশে ঢুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার ৩

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

নিরাপত্তার স্বার্থে পাহাড়ের সব বিনোদন কেন্দ্র এখন জনশূন্য। ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট চরম দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বান্দরবান পর্যটন বন্ধ ঘোষণা করে এক জরুরি আদেশ জারি করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয় যে, সাধারণ মানুষ ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

সরকারি এই কড়া নির্দেশনার ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলার সমস্ত জনপ্রিয় স্পট, প্রাকৃতিক ঝরনা, রোমাঞ্চকর পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চ পাহাড়ে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। পাহাড়ে আকস্মিক ধস এবং হড়পা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের মতো বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়াতে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড এর পক্ষ থেকেও সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার সমস্ত নিবন্ধিত ট্যুর অপারেটর, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের এই আপদকালীন সময়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দূর-দূরান্ত থেকে আসা ট্রাভেলারদের যেকোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যদি কোনো দুর্গম ট্রেইলে ট্র্যাকিং বা নদীপথে ভ্রমণের চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে সংকেত দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বান্দরবানের প্রবেশমুখগুলোতে পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে কোনো পর্যটকবাহী গাড়ি এই দুর্যোগের মাঝে অবহেলা করে পার্বত্য অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় প্রবেশ করতে না পারে।

বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর এই সময়ে হাজারো মানুষের ঢল নামলেও, এবার টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে নতুন করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ শান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ঘরে থাকাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করছেন ট্রাভেল গাইড ও বিশেষজ্ঞরা। তাই বান্দরবান পর্যটন বন্ধ থাকার এই দিনগুলোতে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের এই সময়োপযোগী নির্দেশনাকে অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করা আমাদের সকলের নাগরিক দায়িত্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ বছর পর জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলছে সাব্বিরের, বিসিবির বড় সুখবর

বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

Update Time : ১১:৩২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট চরম দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বান্দরবান পর্যটন বন্ধ ঘোষণা করে এক জরুরি আদেশ জারি করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয় যে, সাধারণ মানুষ ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

সরকারি এই কড়া নির্দেশনার ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলার সমস্ত জনপ্রিয় স্পট, প্রাকৃতিক ঝরনা, রোমাঞ্চকর পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ উচ্চ পাহাড়ে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। পাহাড়ে আকস্মিক ধস এবং হড়পা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডের মতো বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়াতে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড এর পক্ষ থেকেও সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন  Switzerland ভ্রমণ: আল্পস পাহাড় ও তুষারের দেশে যাওয়ার গাইড

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার সমস্ত নিবন্ধিত ট্যুর অপারেটর, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের এই আপদকালীন সময়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দূর-দূরান্ত থেকে আসা ট্রাভেলারদের যেকোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  Maldives ভ্রমণ: নীল জলের স্বপ্নের দ্বীপে যাওয়ার খরচ ও অভিজ্ঞতা

এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ যদি কোনো দুর্গম ট্রেইলে ট্র্যাকিং বা নদীপথে ভ্রমণের চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে সংকেত দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বান্দরবানের প্রবেশমুখগুলোতে পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে কোনো পর্যটকবাহী গাড়ি এই দুর্যোগের মাঝে অবহেলা করে পার্বত্য অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় প্রবেশ করতে না পারে।

বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর এই সময়ে হাজারো মানুষের ঢল নামলেও, এবার টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে নতুন করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

আরও পড়ুন  শ্রীলঙ্কা সাইকেল অভিযান: বিশেষ এক যাত্রার গল্প

প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ শান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ঘরে থাকাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করছেন ট্রাভেল গাইড ও বিশেষজ্ঞরা। তাই বান্দরবান পর্যটন বন্ধ থাকার এই দিনগুলোতে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের এই সময়োপযোগী নির্দেশনাকে অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করা আমাদের সকলের নাগরিক দায়িত্ব।