এভারেস্ট অভিযান ২০২৬: বাংলাদেশের পর্বতারোহী নুরুননাহার নিম্নি তীব্র তুষারঝড়, ভাঙা ক্র্যাম্পন এবং মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ খাড়া ঢাল পেরিয়ে ২৭ মে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান। তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পা রাখা তৃতীয় বাংলাদেশি নারী। অভিযানের সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা তিনি তুলে ধরেছেন।
নিম্নি জানান, প্রথমবার খারাপ আবহাওয়ার কারণে ক্যাম্প ৩ থেকেই ফিরে আসতে হয়েছিল। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় তিনি ক্যাম্প ২ থেকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে ক্যাম্প ৩ এবং পরে ক্যাম্প ৪-এ পৌঁছান। ক্যাম্প ৩-এর পথে বরফের দেয়াল বেয়ে উঠতে হয়েছে জুমার ও ক্র্যাম্পনের সাহায্যে। উচ্চতার কারণে প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল কঠিন, তবে তার গতি দেখে গাইডরা আশাবাদী ছিলেন যে সামিট সম্ভব হবে।
ক্যাম্প ৩-এ পৌঁছানোর পর শুরু হয় তীব্র তুষারপাত। ছোট তাঁবুর ভেতরে সীমিত খাবার, অক্সিজেন মাস্ক ও ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করেই কাটে সময়। পরদিন ক্যাম্প ৪-এর পথে পুরোটা ছিল খাড়া চড়াই। ডেথ জোনে অবস্থিত ক্যাম্প ৪-এ পৌঁছে তিনি দেখতে পান ঝড়ে ছিঁড়ে যাওয়া তাঁবু ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সরঞ্জাম।

সামিট পুশের জন্য সন্ধ্যায় ক্যাম্প ৪ থেকে যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে আবহাওয়া ভালো থাকলেও পরে প্রবল বাতাস ও তুষারঝড় দেখা দেয়। ঠিক তখনই ঘটে বড় বিপত্তি তার বাঁ পায়ের ক্র্যাম্পন ছিঁড়ে যায়। প্রায় ৪০০ মিটার সামনে এভারেস্ট শিখর, আর তিনি দাঁড়িয়ে আছেন এক ভয়ংকর খাড়া ঢালে। বাতাসের গর্জনে গাইডের ডাকও পৌঁছাচ্ছিল না। পরে গাইড দাওয়া এসে দড়ি দিয়ে ক্র্যাম্পন বেঁধে দেন এবং আরেক গাইড লাকপা নিজের স্নো গগলস তাকে দেন।
সেই সহায়তার পর আবারও এগিয়ে চলেন নিম্নি। বরফের দেয়াল, তীব্র ঠান্ডা এবং অক্সিজেন-স্বল্প পরিবেশ পেরিয়ে তিনি পৌঁছান হিলারি স্টেপে। সেখান থেকে শিখর ছিল মাত্র ৬০ মিটার দূরে। সূর্যোদয়ের আলোয় আকাশ রক্তিম হয়ে উঠলে তিনি শেষ অংশটুকু অতিক্রম করেন।
অবশেষে এভারেস্টের চূড়া স্পর্শ করেন নুরুননাহার নিম্নি। বহু দিনের প্রস্তুতি, শারীরিক ও মানসিক সংগ্রাম এবং অসংখ্য ঝুঁকি পেরিয়ে তিনি বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে তুলে ধরেন। তার এই সাফল্য বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





























