ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ সুবিধায় ৪০ দেশের জন্য দুয়ার খুলল শ্রীলঙ্কা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৫০৯

চিত্রঃ ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ সুবিধার মাধ্যমে ৪০ দেশের পর্যটকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে শ্রীলঙ্কা। (সংগৃহীত)

বিশ্বের পর্যটন খাতে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির সরকার সম্প্রতি ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ সুবিধা চালু করে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য ভ্রমণকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় বিশ্বের ৪০টি দেশের নাগরিকরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে বিনা খরচে পর্যটক ভ্রমণ অনুমতি গ্রহণ করতে পারবেন। শ্রীলঙ্কার অভিবাসন ও প্রবাসন বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে।

 

এর ফলে নির্বাচিত দেশগুলোর নাগরিকদের আর ভ্রমণ অনুমতির জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেই তারা নির্ধারিত সময়ের জন্য শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের অনুমতি পেতে পারবেন।

 

ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ কী?

ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ বলতে এমন একটি অনলাইনভিত্তিক ভ্রমণ অনুমতি ব্যবস্থাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে কোনো দেশের পর্যটক ভ্রমণের আগে ডিজিটালভাবে অনুমোদন গ্রহণ করতে পারেন। এটি প্রচলিত ভিসা ব্যবস্থার তুলনায় অনেক সহজ, দ্রুত এবং সময় সাশ্রয়ী। শ্রীলঙ্কার নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভ্রমণকারীদের দূতাবাসে গিয়ে আবেদন করতে হবে না। ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশটিতে প্রবেশ করা সম্ভব হবে।

 

কেন এই উদ্যোগ নিল শ্রীলঙ্কা?

গত কয়েক বছরে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে পর্যটনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অনেক দেশ বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় শ্রীলঙ্কাও ভ্রমণবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে। সরকারের আশা, ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ চালুর ফলে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

 

যেসব দেশের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন

শ্রীলঙ্কার ঘোষিত তালিকায় মোট ৪০টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব দেশের নাগরিকরা বিনা মূল্যে পর্যটক ভ্রমণ অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বাহরাইন, বেলারুশ, বেলজিয়াম, কানাডা, চীন, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইসরায়েল, ইতালি, জাপান, কাজাখস্তান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

 

এই তালিকায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে আরও বড় পরিসরে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে মনে করছেন পর্যটন বিশ্লেষকরা।

 

ভিসা ফি মওকুফ হলেও আবেদন বাধ্যতামূলক

অনেকেই মনে করতে পারেন যে ফি মওকুফ হওয়ায় কোনো ধরনের আবেদন ছাড়াই শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করা যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।শ্রীলঙ্কা সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ সুবিধা থাকলেও ভ্রমণের আগে প্রত্যেক বিদেশি নাগরিককে অনলাইনে আবেদন করে অনুমতি নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। এমনকি মালদ্বীপ, সিশেলস এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ সবার জন্যই পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

 

কতদিন থাকা যাবে?

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ পাওয়া পর্যটকেরা শ্রীলঙ্কায় সর্বোচ্চ ৩০ দিন অবস্থান করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে পর্যটকেরা দেশটির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারবেন। একই অনুমতির আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুইবার দেশটিতে প্রবেশের সুবিধাও থাকবে।এটি বিশেষভাবে উপকারী হবে তাদের জন্য, যারা একই সফরে দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন।

 

মালদ্বীপের নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা

সাধারণ পর্যটকদের জন্য অবস্থানের সীমা ৩০ দিন হলেও মালদ্বীপের নাগরিকদের জন্য আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে। তারা শ্রীলঙ্কায় একটানা ৯০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্কের কারণে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

৩০ দিনের বেশি থাকতে চাইলে কী করবেন?

অনেক পর্যটক দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করতে চান। তাদের জন্যও ব্যবস্থা রেখেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। যদি কোনো ভ্রমণকারী ৩০ দিনের বেশি সময় দেশটিতে থাকতে চান, তাহলে নির্ধারিত ফি প্রদান করে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন। আবেদন অনুমোদিত হলে অতিরিক্ত সময় অবস্থানের সুযোগ পাওয়া যাবে। তবে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম ও শর্ত মেনে চলতে হবে।

 

আগের আবেদনকারীরা কি অর্থ ফেরত পাবেন?

শ্রীলঙ্কার অভিবাসন বিভাগ এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছে। যেসব ব্যক্তি ২০২৬ সালের ২৫ মে কার্যকর হওয়ার আগে ভ্রমণ অনুমতির জন্য ফি পরিশোধ করেছেন, তারা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না। কারণ নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার আগে তাদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। এ কারণে অনেক আবেদনকারী অর্থ ফেরতের আশা করলেও সরকার সে সুযোগ রাখেনি।

 

শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশটির সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি অঞ্চল, ঐতিহাসিক স্থাপনা, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রতি বছর লাখো পর্যটককে আকর্ষণ করে। ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ চালুর ফলে ভ্রমণ ব্যয় কমবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে। এতে অনেক পর্যটক শ্রীলঙ্কাকে ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত হবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ দেশটির হোটেল, পরিবহন, রেস্তোরাঁ, পর্যটনসেবা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন মানচিত্রে নতুন প্রতিযোগিতা

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বর্তমানে পর্যটক আকর্ষণে নানা ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। কেউ ভিসা সহজ করছে, কেউ আবার বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ উদ্যোগ দেশটিকে নতুন প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এনে দিতে পারে। বিশেষ করে ভারত, চীন, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটকদের কাছে এটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। ফলে আগামী কয়েক বছরে দেশটির পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।

 

শেষকথা

শ্রীলঙ্কার নতুন ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ নীতি আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৪০ দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ অনুমতি বিনামূল্যে করে দেশটি পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করছে। যদিও আবেদন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক থাকছে, তবুও ফি মওকুফের কারণে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, তা সময়ই বলে দেবে। তবে পর্যটনবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে শ্রীলঙ্কার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে—এ বিষয়ে খুব কম মানুষেরই দ্বিমত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ সুবিধায় ৪০ দেশের জন্য দুয়ার খুলল শ্রীলঙ্কা

Update Time : ০৫:০৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বিশ্বের পর্যটন খাতে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির সরকার সম্প্রতি ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ সুবিধা চালু করে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য ভ্রমণকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় বিশ্বের ৪০টি দেশের নাগরিকরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে বিনা খরচে পর্যটক ভ্রমণ অনুমতি গ্রহণ করতে পারবেন। শ্রীলঙ্কার অভিবাসন ও প্রবাসন বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে।

 

এর ফলে নির্বাচিত দেশগুলোর নাগরিকদের আর ভ্রমণ অনুমতির জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেই তারা নির্ধারিত সময়ের জন্য শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের অনুমতি পেতে পারবেন।

 

ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ কী?

ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ বলতে এমন একটি অনলাইনভিত্তিক ভ্রমণ অনুমতি ব্যবস্থাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে কোনো দেশের পর্যটক ভ্রমণের আগে ডিজিটালভাবে অনুমোদন গ্রহণ করতে পারেন। এটি প্রচলিত ভিসা ব্যবস্থার তুলনায় অনেক সহজ, দ্রুত এবং সময় সাশ্রয়ী। শ্রীলঙ্কার নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভ্রমণকারীদের দূতাবাসে গিয়ে আবেদন করতে হবে না। ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশটিতে প্রবেশ করা সম্ভব হবে।

 

কেন এই উদ্যোগ নিল শ্রীলঙ্কা?

গত কয়েক বছরে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে পর্যটনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে অনেক দেশ বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় শ্রীলঙ্কাও ভ্রমণবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে। সরকারের আশা, ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ চালুর ফলে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন  এভারেস্ট জয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি নারী নুরুন্নাহার নিম্নি

 

যেসব দেশের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন

শ্রীলঙ্কার ঘোষিত তালিকায় মোট ৪০টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব দেশের নাগরিকরা বিনা মূল্যে পর্যটক ভ্রমণ অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বাহরাইন, বেলারুশ, বেলজিয়াম, কানাডা, চীন, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইসরায়েল, ইতালি, জাপান, কাজাখস্তান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

 

এই তালিকায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে আরও বড় পরিসরে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে মনে করছেন পর্যটন বিশ্লেষকরা।

 

ভিসা ফি মওকুফ হলেও আবেদন বাধ্যতামূলক

অনেকেই মনে করতে পারেন যে ফি মওকুফ হওয়ায় কোনো ধরনের আবেদন ছাড়াই শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করা যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।শ্রীলঙ্কা সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ সুবিধা থাকলেও ভ্রমণের আগে প্রত্যেক বিদেশি নাগরিককে অনলাইনে আবেদন করে অনুমতি নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। এমনকি মালদ্বীপ, সিশেলস এবং সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ সবার জন্যই পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

 

কতদিন থাকা যাবে?

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ পাওয়া পর্যটকেরা শ্রীলঙ্কায় সর্বোচ্চ ৩০ দিন অবস্থান করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে পর্যটকেরা দেশটির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারবেন। একই অনুমতির আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুইবার দেশটিতে প্রবেশের সুবিধাও থাকবে।এটি বিশেষভাবে উপকারী হবে তাদের জন্য, যারা একই সফরে দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন।

আরও পড়ুন  শেনজেন ভিসা নির্দেশনা: ভ্রমণকারীদের জন্য দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

 

মালদ্বীপের নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা

সাধারণ পর্যটকদের জন্য অবস্থানের সীমা ৩০ দিন হলেও মালদ্বীপের নাগরিকদের জন্য আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে। তারা শ্রীলঙ্কায় একটানা ৯০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্কের কারণে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

৩০ দিনের বেশি থাকতে চাইলে কী করবেন?

অনেক পর্যটক দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করতে চান। তাদের জন্যও ব্যবস্থা রেখেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। যদি কোনো ভ্রমণকারী ৩০ দিনের বেশি সময় দেশটিতে থাকতে চান, তাহলে নির্ধারিত ফি প্রদান করে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন। আবেদন অনুমোদিত হলে অতিরিক্ত সময় অবস্থানের সুযোগ পাওয়া যাবে। তবে মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম ও শর্ত মেনে চলতে হবে।

 

আগের আবেদনকারীরা কি অর্থ ফেরত পাবেন?

শ্রীলঙ্কার অভিবাসন বিভাগ এ বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছে। যেসব ব্যক্তি ২০২৬ সালের ২৫ মে কার্যকর হওয়ার আগে ভ্রমণ অনুমতির জন্য ফি পরিশোধ করেছেন, তারা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না। কারণ নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার আগে তাদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। এ কারণে অনেক আবেদনকারী অর্থ ফেরতের আশা করলেও সরকার সে সুযোগ রাখেনি।

আরও পড়ুন  সিলেট বিভাগ ভ্রমণ গাইড: চা-বাগান, পাহাড় ও হাওরের অপার সৌন্দর্য

 

শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশটির সমুদ্রসৈকত, পাহাড়ি অঞ্চল, ঐতিহাসিক স্থাপনা, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রতি বছর লাখো পর্যটককে আকর্ষণ করে। ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ চালুর ফলে ভ্রমণ ব্যয় কমবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হবে। এতে অনেক পর্যটক শ্রীলঙ্কাকে ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত হবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ দেশটির হোটেল, পরিবহন, রেস্তোরাঁ, পর্যটনসেবা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন মানচিত্রে নতুন প্রতিযোগিতা

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বর্তমানে পর্যটক আকর্ষণে নানা ধরনের সুবিধা দিচ্ছে। কেউ ভিসা সহজ করছে, কেউ আবার বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ উদ্যোগ দেশটিকে নতুন প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এনে দিতে পারে। বিশেষ করে ভারত, চীন, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটকদের কাছে এটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। ফলে আগামী কয়েক বছরে দেশটির পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।

 

শেষকথা

শ্রীলঙ্কার নতুন ফ্রি ট্যুরিস্ট ইটিএ নীতি আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ৪০ দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ অনুমতি বিনামূল্যে করে দেশটি পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করছে। যদিও আবেদন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক থাকছে, তবুও ফি মওকুফের কারণে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, তা সময়ই বলে দেবে। তবে পর্যটনবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে শ্রীলঙ্কার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে—এ বিষয়ে খুব কম মানুষেরই দ্বিমত থাকবে।