বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার দাবি উঠে আসছিল। কারণ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাস করলেও তাদের একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতার অভাবে চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার ধাপে ধাপে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষার বিস্তারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বে শুধু সনদ নয়, দক্ষতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, কৃষি, অটোমোবাইল, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফ্রিল্যান্সিং এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই শিক্ষাজীবনের শুরুতেই কারিগরি বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রস্তুত থাকতে পারবেন।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় নতুন নতুন শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও ধীরে ধীরে কারিগরি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা সাধারণ পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে সফল হওয়ার জন্য দক্ষতা অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই সরকার কারিগরি শিক্ষার বিস্তার, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, উপবৃত্তি ও মিড-ডে মিলের মতো কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষাবিদদের ধারণা, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে একদিকে যেমন দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে, অন্যদিকে উদ্যোক্তা তৈরির পথও সহজ হবে। এতে শুধু সরকারি বা বেসরকারি চাকরির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে না, বরং তরুণরা নিজস্ব উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতেও উৎসাহিত হবে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, আধুনিক যুগের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও দক্ষতানির্ভর করা গেলে শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে। ফলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




























