ঢাকা ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদিতমারীতে কিশোর মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য Logo ব্রাজিলের খারাপ সময়ও অনেক দলের সেরা সময়ের চেয়ে বড় Logo জুলাইয়ের আহতদের পাশে প্রশাসন, পুনর্বাসনের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের Logo তারকা জুটির বিলাসবহুল বিয়ে ঘিরে ক্ষোভ, ইতালির শহরে প্রতিবাদে নামলেন বাসিন্দারা Logo স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায়, আপিলে শুনানি কাল Logo ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ: নতুন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় উত্তেজনা Logo ব্রাজিলকে ৭ গোল দেওয়া দেশগুলো: বিশ্ব ফুটবলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড Logo কাজী শায়রুল হাসান চেয়ারম্যান: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন নেতৃত্বের শক্তিশালী সূচনা Logo গরমেও কেন ঠান্ডা লেগে যায় ; কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন Logo শাবনূরকে নিয়ে আবেগঘন বার্তায় মুগ্ধ করলেন পূর্ণিমা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চার নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে

চার নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। | ছবি: সংগৃহীত

চার নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে—২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রমে নতুন চারটি বিষয় পেতে যাচ্ছে। শিক্ষাকে আরও আনন্দময়, দক্ষতাভিত্তিক এবং বাস্তবমুখী করতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এ তথ্য জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি নামে দুটি নতুন বিষয় চালু করা হবে। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস নামে আরও দুটি বাধ্যতামূলক বিষয় যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক, সাংস্কৃতিক ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শুধু একটি বিষয় হিসেবেই নয়, শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে। এই কোর্সে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শেখানোর পদ্ধতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর লক্ষ্যে বিদ্যমান পাঠ্যক্রমের মধ্যেই একটি বড় অধ্যায় সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করতে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জনের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম পরিবর্তন স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের জন্য বিদ্যমান শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষাক্রম তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যা ২০২৮ সাল থেকে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নতুন শিক্ষাক্রম একসঙ্গে সব শ্রেণিতে চালু হবে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও শিখনফলভিত্তিক শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে এবং এইচএসসি পরীক্ষা ৬ জুন শুরু হয়ে ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

শিক্ষা খাতে এই নতুন উদ্যোগকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কারিগরি শিক্ষা ও সুখভিত্তিক শিক্ষার সংযোজন শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আদিতমারীতে কিশোর মাদরাসাশিক্ষার্থীর মৃত্যু, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চার নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে

Update Time : ০৭:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

চার নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে—২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রমে নতুন চারটি বিষয় পেতে যাচ্ছে। শিক্ষাকে আরও আনন্দময়, দক্ষতাভিত্তিক এবং বাস্তবমুখী করতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এ তথ্য জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি নামে দুটি নতুন বিষয় চালু করা হবে। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস নামে আরও দুটি বাধ্যতামূলক বিষয় যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক, সাংস্কৃতিক ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন বিরতিতে দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শুধু একটি বিষয় হিসেবেই নয়, শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে। এই কোর্সে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শেখানোর পদ্ধতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর লক্ষ্যে বিদ্যমান পাঠ্যক্রমের মধ্যেই একটি বড় অধ্যায় সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করতে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন ও পরিমার্জনের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন  এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে গুজব রুখতে কড়া নজরদারির নির্দেশ

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম পরিবর্তন স্বল্প সময়ে সম্ভব নয়। তাই ২০২৭ সালের জন্য বিদ্যমান শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষাক্রম তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যা ২০২৮ সাল থেকে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নতুন শিক্ষাক্রম একসঙ্গে সব শ্রেণিতে চালু হবে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও শিখনফলভিত্তিক শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন  শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে এবং এইচএসসি পরীক্ষা ৬ জুন শুরু হয়ে ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

শিক্ষা খাতে এই নতুন উদ্যোগকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কারিগরি শিক্ষা ও সুখভিত্তিক শিক্ষার সংযোজন শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।