ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬৮১ ফসলের জাত ও ৬৯২ প্রযুক্তির উদ্ভাবন

বারির গবেষণা কর্মশালায় নতুন উদ্ভাবনের তথ্য তুলে ধরা হয়।ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) দেশের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বারি ইতোমধ্যে উচ্চ ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী এবং প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল মোট ৬৮১টি ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আরও ৬৯২টি আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে বারির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৩টি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে আয়োজিত ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ গবেষণা পর্যালোচনা ও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞানীরা জানান, বারির উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তির ফলে দেশে তেলবীজ, ডাল, আলু, শাকসবজি, মসলা ও ফলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে একদিকে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমছে, অন্যদিকে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে এসব উদ্ভাবন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল-ই-মোহাম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বারির মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির। গবেষণা কার্যক্রম ও অর্জনের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক (গবেষণা) ড. ফারুক আহমেদ।

তিনি জানান, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত গবেষণা কার্যক্রম মূল্যায়নের পাশাপাশি কৃষকের চাহিদা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে ২০২৬-২০২৭ সালের নতুন গবেষণা কর্মসূচি নির্ধারণ করাই এই কর্মশালার প্রধান উদ্দেশ্য। নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই এবং কৃষিবান্ধব উদ্ভাবনকে আরও সম্প্রসারণের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির টেকসই উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট কৃষি এবং জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। গবেষণার ফল দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা), বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, কৃষিজমি সংকোচন এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে গবেষণানির্ভর কৃষিই হবে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শক্তি। এ ক্ষেত্রে বারির উদ্ভাবিত নতুন জাত ও প্রযুক্তি দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৬৮১ ফসলের জাত ও ৬৯২ প্রযুক্তির উদ্ভাবন

Update Time : ০৮:২৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) দেশের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বারি ইতোমধ্যে উচ্চ ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী এবং প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল মোট ৬৮১টি ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আরও ৬৯২টি আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে বারির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৩টি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাজী বদরুদ্দোজা মিলনায়তনে আয়োজিত ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ গবেষণা পর্যালোচনা ও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের গবেষণা কর্মসূচি প্রণয়ন কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম পেল নতুন থানা, নিকারের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত

বিজ্ঞানীরা জানান, বারির উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তির ফলে দেশে তেলবীজ, ডাল, আলু, শাকসবজি, মসলা ও ফলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে একদিকে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমছে, অন্যদিকে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে এসব উদ্ভাবন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল-ই-মোহাম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বারির মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির। গবেষণা কার্যক্রম ও অর্জনের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক (গবেষণা) ড. ফারুক আহমেদ।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে নতুন পরিকল্পনা

তিনি জানান, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়িত গবেষণা কার্যক্রম মূল্যায়নের পাশাপাশি কৃষকের চাহিদা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে ২০২৬-২০২৭ সালের নতুন গবেষণা কর্মসূচি নির্ধারণ করাই এই কর্মশালার প্রধান উদ্দেশ্য। নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই এবং কৃষিবান্ধব উদ্ভাবনকে আরও সম্প্রসারণের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির টেকসই উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট কৃষি এবং জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। গবেষণার ফল দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন  বরিশালে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ২ স্কুলশিক্ষার্থীর

কর্মশালায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা), বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, কৃষিজমি সংকোচন এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে গবেষণানির্ভর কৃষিই হবে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শক্তি। এ ক্ষেত্রে বারির উদ্ভাবিত নতুন জাত ও প্রযুক্তি দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।