এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে অভিভাবকদের জন্য নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বোর্ড থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জন্য কেন্দ্রের বাইরে নির্দিষ্ট শেড ও বসার চেয়ার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো পরীক্ষার সময় অভিভাবকদের আরামদায়ক ও নিরাপদ অপেক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষার সময় অভিভাবকরা খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে বা বসে অপেক্ষা করেন, যা চরম কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। তাই নতুন এই নির্দেশনা শিক্ষাব্যবস্থায় একটি মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় দেখা গেছে যে অধিকাংশ কেন্দ্রে অভিভাবকদের জন্য কোনো নির্ধারিত অপেক্ষার জায়গা নেই। ফলে বৃষ্টি, রোদ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে তাদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে পর্যাপ্ত শেড ও বসার চেয়ার রাখতে হবে যাতে অভিভাবকরা স্বস্তিতে থাকতে পারেন। পাশাপাশি, কেন্দ্রের বাইরে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে, যা পরীক্ষার পরিবেশকে আরও সুশৃঙ্খল করবে।
এছাড়াও নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেন্দ্রের বাইরের শৃঙ্খলা রক্ষায় রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড এবং বিএনসিসি সদস্যদের নিয়োগ দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অভিভাবকদের ভিড় নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ড মনে করছে, পরীক্ষার পরিবেশ শুধু পরীক্ষার্থীদের জন্যই নয়, অভিভাবকদের জন্যও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হওয়া প্রয়োজন।
সার্বিকভাবে এই নতুন নির্দেশনা শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ নির্দেশনা শুধু পরীক্ষার ব্যবস্থাপনাই নয়, বরং অভিভাবকদের মানবিক সুবিধা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। শেড, চেয়ার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য শিক্ষাবোর্ডের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে। এর ফলে পরীক্ষার সময় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উভয়েই একটি উন্নত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অভিজ্ঞতা লাভ করবে, যা সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
























