ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক আটক

মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক আটক

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় এক মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মো. মনির হোসেন (৩২) নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাতে দোল্লাই নবাবপুর বাজার এলাকার নবাবপুর মারকাযুন নূর মাদরাসায় ওই শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য, শিক্ষক মনির হোসেন মাথা ও পা ম্যাসেজ করে দেওয়ার কথা বলে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছে ওই শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনার কথা স্বীকার করেন। এরপর বিক্ষুব্ধ কয়েকজন তাকে কিল-ঘুষি দিয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। এতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চেয়েছিল বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে পেরে খবর দিলে পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদে যায়। এরপর সেখান থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞা বলেন, দুই পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে তারা গ্রাম্য সালিশে বসেছিলেন। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে যায়।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, মানসিক সহায়তা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক আটক

Update Time : ০৯:১০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় এক মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মো. মনির হোসেন (৩২) নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাতে দোল্লাই নবাবপুর বাজার এলাকার নবাবপুর মারকাযুন নূর মাদরাসায় ওই শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য, শিক্ষক মনির হোসেন মাথা ও পা ম্যাসেজ করে দেওয়ার কথা বলে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছে ওই শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন  রামিসা হত্যাকাণ্ডে আসামি সোহেলের অপকর্ম ফাঁস, দেশজুড়ে ক্ষোভ

অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনার কথা স্বীকার করেন। এরপর বিক্ষুব্ধ কয়েকজন তাকে কিল-ঘুষি দিয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন  বিলে ঝাঁপিয়ে ধর্ষণ মামলার ২ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। এতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চেয়েছিল বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে পেরে খবর দিলে পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদে যায়। এরপর সেখান থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞা বলেন, দুই পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে তারা গ্রাম্য সালিশে বসেছিলেন। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন  ভোক্তা অধিকার আইন: জরিমানার ২৫% পাবেন অভিযোগকারী

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, মানসিক সহায়তা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।